হু-কে অনুদান বাড়াচ্ছে বেজিং

প্রতিকি ছবি
Social Share

মাত্র ক’দিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-কে মোটা অঙ্কের অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা। হু-র শীর্ষকর্তাদের এখন আশঙ্কা, এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে টিকাকরণ আর পোলিয়োর মতো কর্মসূচি ব্যাপক ধাক্কা খাবে। সংস্থার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর মাইক রায়ান সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টই বলেছেন, “আশা করছি, ষাট দিনের বেশি এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে না আমেরিকা।” তবে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য হু-র পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। আপাতত তিন কোটি ডলার অনুদান বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বেজিং। এখন থেকে মোট পাঁচ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে হু-কে দেবে। চিনের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেই হু-কে অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন আইনসভার রিপাবলিকান সদস্যেরা হু প্রধানের ইস্তফার দাবিও তুলেছেন। তবে রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সংগঠনের প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস বলেছেন, “এই কাজ করতে পেরে আমি ধন্য। ইস্তফার প্রশ্নই নেই। যত দিন পারব এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ে যাব।”

করোনা নিয়ে ফের আশঙ্কার বাণী শুনিয়েছে হু। গত কাল জেনিভার সদর দফতরে টেড্রস প্রতিটি দেশকে সতর্ক করে বলেছেন, “এখনও অনেক পথ চলা বাকি। কারণ, এই ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকবে। একটা কথাই বলতে পারি, এই পৃথিবীর সব কিছু আগের মতো হতে পারবে না।” তাঁর আশঙ্কা, ইউরোপের অর্ধেক মৃত্যুর ঘটনাই ঘটতে চলেছে কেয়ার হোমগুলিতে।

একই সুর শোনা গিয়েছে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের গলাতেও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশগুলির সঙ্গে ভিডিয়ো-বৈঠকে বসেছিলেন আঙ্গেলা। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন, এটা সঙ্কটের শুরু মাত্র। বিপদে পড়া ইইউ দেশগুলিকে আর্থিক ভাবে সাহায্যের জন্য জার্মানি সব সময় প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দিয়েছেন আঙ্গেলা।

চিনে টানা আট দিন নতুন কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। প্রথমে লকডাউন শিথিল করার কথা ভাবলেও ৯ মে পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেনের সরকার। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত সিঙ্গাপুর। নতুন করে সেখানে হাজারেরও বেশি মানুষের পরীক্ষা পজ়িটিভ এসেছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় শ্রমিকও। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে এক করোনা আক্রান্ত ভারতীয়ের। তাঁকে হাসপাতালের সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আঘাতের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ সে দেশের পুলিশের। দ্বিতীয় সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত উহানের বাসিন্দারাও।