হিলি স্থলবন্দর : অনির্দিষ্টকালের জন্য রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের

40
Social Share

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগামী ৯ জুন থেকে পণ্য রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনকে চিঠি দিয়েছে ভারতের ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, করোনা টিকা গ্রহণের কার্ড নিয়ে ভারতীয় ট্রাক চালকদের বন্দরে প্রবেশ, সীমিত পরিসরে আমদানি কার্যক্রম চালানোর জন্য বাংলাদেশের হিলির ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একটি চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়। সেই চিঠির জবাবে শর্ত মানতে নারাজ ভারতীয় ব্যবসায়ীরা, উল্টো রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে রবিবার বিকালে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপকে। আগামী ৯ জুন থেকে রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন সাংবাদিকদের জানান, দিনাজপুরের হিলিতে দিন দিন করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আমদানি কার্যক্রম করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পাঠিয়েছিলাম। সেই চিঠিতে ভারতীয় ট্রাক চালকদের করোনা টিকা গ্রহণের কার্ড এবং প্রতিদিন ৫০ ট্রাক পণ্য আমদানি বিষয়ে জানানো হয় । সেই চিঠি পাবার পর তারা আমাদের শর্ত মানতে অনীহা প্রকাশ করে উল্টো ৪টি শর্ত দিয়ে অনিদিষ্টকালের জন্য পণ্য রফতানি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। সেই শর্তগুলো আমরা না মানলে তারা আগামী ৯ জুন থেকে আমাদের সাথে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ করে দিবে। তাদের দেওয়া শর্তগুলো হলো সব ট্রাক চালকদের টিকা গ্রহণ তাদের পক্ষে সম্ভব না, পূর্বের মতো সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমদানি/রফতানি কার্যক্রম চালাতে হবে। আপনাদের একক সিদ্ধান্তের কারণে আমরা অপমানিত হচ্ছি, অন্যান্য স্থলবন্দরের মত হিলি বন্দরেও গাড়ি স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে।

হাকিমপুুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, দিনাজপুরের হিলি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। আমরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে বার বার তাগাদা দিচ্ছি কিন্তু তারা মানতে নারাজ। আমরা আতঙ্কিত অবস্থায় আছি। কেননা বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীরা হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে ৭২ ঘণ্টার করোনার নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে প্রবেশের পরেও এন্টিজেন টেস্টে তাদের করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসছে। যদি নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসার পরেও তাদের করোনা পজিটিভ আসে তাহলে ভারতীয় ট্রাক চালকদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ ছড়াবে না এর কোন নিশ্চয়তা আছে? তাই সরকারের কাছে অনুরোধ করবো স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়ে যেনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।