ভিনিউজ ডেস্ক : আজ ৬ আগস্ট, হিরোশিমা দিবস, মানব ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক দিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাপানের হিরোশিমাতে যুক্তরাষ্ট্র এক পারমাণবিক আক্রমণ চালায়। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর ইতিহাস আমাদের মানসপটে তুলে ধরে।
বিশ্বব্যাপী নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শক্তিশালী দেশগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেন এক মরণ নেশায় নিমজ্জিত ছিল। যার ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী বিশ্বমানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর মার্কিন বি-টুয়েন্টি বোমারু বিমান থেকে ‘লিটল বয়’ নামক নিউক্লিয়ার বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। সেই পারমাণবিক বোমা তৈরির কর্তা জে. রবার্ট ওপেনহাইমার।
তার জীবন ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঘটনা নিয়ে ক্রিস্টোফার নোলান বানিয়েছেন ‘ওপেনহাইমার’। মার্কিন সংবাদমাধ্যম হলিউড রিপোর্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ছবিটি অস্কারে বাজিমাত করেছিল। পেয়েছিল সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতাসহ সাতটি পুরস্কার। আলোচিত এই সিনেমা নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে অনেক চমকপ্রদ কাহিনী।
যেমন এ ছবিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্য আছে। সেটি কিন্তু কম্পিউটার প্রযুক্তি দিয়ে করা নয়, বরং বাস্তবেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন নোলান। তবে সেটা ছোট পরিসরে, আর ওটাই ক্যামেরাবন্দি করে দেখিয়েছেন পর্দায়। ‘ওপেনহাইমার’ চরিত্রে অভিনয় করে অস্কার পেয়েছেন কিলিয়ান মারফি।
মজার ব্যাপার হলো, ছবিটির জন্য তাকে অডিশন দিতে হয়নি। কারণ এর আগেও নোলানের পাঁচটি ছবিতে অভিনয় করেছেন মারফি। তার অভিনয় দক্ষতার কথা নির্মাতা ভালোভাবেই জানতেন। এক সাক্ষাৎকারে মারফি বলেছিলেন, ‘খুব সৌভাগ্যবান হলেই জীবনে এ রকম দু-একটি কল (নোলানের ফোনকল) আসে। ওই মুহূর্তের কথা কখনো ভুলব না।’
ছবিটির জন্য একঝাঁক বিজ্ঞানী এবং নির্মাতা-শিল্পী-কলাকুশলী সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকান মরুভূমিতে একসঙ্গে থেকেছেন। শুটিং শেষেই সবাই ফিরেছেন নিজ ঘরে। ছবিটির চিত্রনাট্যেও ভিন্নতা রেখেছিলেন নোলান। চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রথম পুরুষে, অর্থাৎ ওপেনহাইমারের বয়ানে এগিয়েছে প্রতিটি দৃশ্য।
‘ওপেনহাইমার’-এর অধিকাংশ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল অত্যাধুনিক আইম্যাক্স ক্যামেরায়। ছবিতে কিছু দৃশ্য রঙিন আর কিছু সাদাকালো। কিন্তু সাদাকালো দৃশ্যায়নের জন্য আইম্যাক্স ক্যামেরা ছিল না। অগত্যা কম্পানির কাছ থেকে আলাদা করে সংস্কার করিয়ে নতুন আরেকটি ক্যামেরা এনে শুটিং করেন নোলান।




