স্বেচ্ছাসেবক লীগের সন্মেলনে আলোচনায় যারা

ভিনিউজ ডেস্ক: সন্মেলন ঘিরে রাজনীতির মাঠে এখন বাজছে উৎসবের ডামাডোল। এ নিয়ে আওয়ামীলীগের তৃণমুল নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রানচাঞ্চল্য। তবে কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ডে বিব্রত দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তাই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ক্লিন ইমেজ এবং সাংগঠনিভাবে দক্ষদের দিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্যাসিনোকাণ্ডে খড়গ নেমে আসার পর যুবলীগের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আরও তিনটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ একসঙ্গে ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। কৃষকলীগ ও শ্রমিক লীগের সন্মেলন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।  এই সন্মলনের কমিটি দেখেই বোঝা যায় প্রধানমন্ত্রী কতটা ইস্পাত কঠিন।

আগামী ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে। এর আগে ১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ দুই শাখা ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন। প্রায় দশককাল পর সম্মেলন ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। নানা কারণে যারা দুর্নাম কুড়িয়েছে, এমন নেতারা এবার বাদ পড়বেন বলেও তাদের আশা। এবারের নেতৃত্ব কেমন হতে পারে- জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ভিনিউজবিডি ডটকমকে বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, ইমেজ নষ্ট, এমন কেউ নেতৃত্বে আসতে পারবে না। যারা নেতৃত্বে আসবে, তাদের অবশ্যই সৎ, অভিজ্ঞ এবং সাংগঠনিক হতে হবে।

১৯৯৭ সালের তৎকালীন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রথম কমিটি হয়। পরে ২০০২ সালে প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন বাহাউদ্দিন নাছিম, সাধারণ সম্পাদক হন পঙ্কজ দেব নাথ। সর্বশেষ ২০১২ সালে মোল্লা মো. আবু কাওছারকে সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়েছিল। মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও ওই কমিটিই এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কাসিনোকাণ্ডে নাম এসেছে কাওসারের। স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকার দুই শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে লড়াইয়ে অন্তত এক ডজনেরও বেশি নেতা রয়েছেন বলে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

সাবেক কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বর্তমান কমিটির আহবায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মেজবাহ উদ্দিন সাচ্চু, সহ সভাপতি মতিউর রহমান মতি, এছাড়া চার সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ শাকিব বাদশা, আব্দুল আলীম বেপারী এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনও  রয়েছেন কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদের লড়াইয়ে।

নেতৃত্ব নির্বাচনে সারাদেশের ২২০০ নেতা কাউন্সিলে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান পঙ্কজ দেবনাথ। তিনি ভিনিউজবিডি ডটকমকে বলেন, প্রত্যেক জেলা থেকে ২৫ জন করে কাউন্সিলর আসবে, এর বাইরে আমাদের কেন্দ্র ও সাংগঠনিক মহানগর শাখা মিলিয়ে ২২০০ নেতাকর্মী কাউন্সিলর হিসেবে সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে, তারাই নেতা নির্বাচন করবে।

নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়ার বিষয়ে নাছিম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সারা দেশের কাউন্সিলর-ডেলিগেটরা নেতা নির্বাচন করবে। তবে সর্বোপরি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। সর্বশেষ সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে কাউন্সিলরদের ভোট দিতে হয়নি। কিভাবে হয়েছিল- জানতে চাইলে পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, কাউন্সিলররা দায়িত্ব আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেইভাবে মাননীয় নেত্রী আমাদের নাম জানিয়ে দিয়েছিলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া ওয়ান-ইলেভেনের সময় অনেকেই নির্যাতিত হয়েছে, ওই সময়ে দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছে, তারা এগিয়ে থাকবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ২০০৬ সালের ৩১ মে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ১৩ বছর। ২০০৯ সালের পর থেকে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি উঠলেও এতোদিন অজ্ঞাত কারণে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃত্বের জন্য লড়াইয়ে রয়েছেন বর্তমান সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. আশিক মোহম্মদ আরশেদআলী, ত্যাগী এই নেতা বিগতদিনে আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রাজনীতি ছাড়াও বর্তমানে তিনি সলিমুল্লাহ কলেজের প্রফেসর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন । ক্লিন ইমেজ, সদালাপি, মৃদুভাষী, হাসোজ্বল এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, বিরোধী দলে থাকাবস্থায় রাজপথের লড়াকু সৈনিক। তিনি ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট গ্রেনেট হামলায় আহত মৃত‌্যুঞ্জয়ী, ওয়ান-ইলেভেনের সময় নির্যাতিত এই নেতা রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এছাড়া অন্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোন যায় তারা হলেন:- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক। বর্তমান সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস, আর সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটু কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাওয়ার জন্য তদবির করছেন বলে জানা যায়।

 উত্তরে নেতৃত্ব পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খান ইরান, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সহ সভাপতি মো. গোলাম রাব্বানী। তবে বিগত দিনে সংগঠনকে উজ্জবিত করা মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা বজায় রেখেছেন কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল সেদিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন এই নেতা। ক্লিন ইমেজ, ত্যাগী মনোভাব, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা, স্বচ্ছ কমিটমেন্ট এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে দলের জন্য সব সময় নিয়োজিত রেখেছেন। আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকাবস্থায় প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রমে রাজপথে লড়াকু সৈনিকের ভুমিকা পালন করেছেন। তাই উত্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুলকে নির্বাচিত করলে দল সাংগঠনিক ভাবে লাভবান হবে এবং নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করবে। উত্তরের সভাপতি মোবাশ্বের চৌধুরী ডিএনসিসি’র গত নির্বাচনে ৭ নং ওয়ার্ড থেকে আর ২৭ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন ফরিদুর রহমান খান ইরান । এখন তারা নিজ এলাকা নিয়েই বেশি ব্যস্ত।