স্বাধীনতার ৫০ বছর: ১৯৭১ এ যুদ্ধের সময় ভারতে শরণার্থী ক্যাম্পের জীবন কেমন ছিল?

44
Social Share

সময়টা ছিল ১৯৭১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ। বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলার সাথে লাগোয়া ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম এলাকা তখন শরণার্থীদের ভিড়ে উপচে পড়ছে।

ভারত সরকারের আমন্ত্রণে সে এলাকায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের অবস্থা সরেজমিন দেখতে গিয়েছিলেন বিদেশী সাংবাদিকরা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিনিধি সিডনি শনবার্গ সে দলে ছিলেন।

সাব্রুম-এর একটি শরণার্থী ক্যাম্পে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক নারী সিডনি শনবার্গের কাছে তার ১৬ বছর বয়সী দুই যমজ মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাকুতি মিনতি করছে।

মি. শনবার্গ নিউইয়র্ক টাইমসে লিখেছেন, “চোখে মুখে আতঙ্ক নিয়ে সে নারী আমাকে বলছিলেন, পাকিস্তানী সৈন্যরা তার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। যখন তারা বের হয়ে আসছিল তখন তাদের দুই মেয়েকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেছে সৈন্যরা।”

শরণার্থীদের জীবন

পূর্ব পাকিস্তানের সাথে যুক্ত ভারতের ১৩৫০ মাইল সীমান্ত জুড়ে শরণার্থীদের ক্যাম্প গড়ে উঠছে।

পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে বিপুল সংখ্যক ভীতসন্ত্রস্ত বাঙালী শরণার্থী ভারতের সীমান্তে এসে আশ্রয় নিচ্ছে।

শরণার্থীদের সংখ্যা মে মাসে মাঝামাঝি ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ভারতের তরফ থেকে বলা হচ্ছে।

আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকে ঘিঞ্জি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন স্কুল এবং ছাত্রাবাস বন্ধ করে দ্রুত সেখানে শরণার্থীদের জায়গা দেয়া হয়েছে। অন্য শরণার্থীরা তাদের বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিত জনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

এরই মধ্যে বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। বহু শরণার্থী এখনো রাস্তার ধারে বসবাস করছে। তারা বৃষ্টিতে ভিজছে এবং রোদে শুকাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শরণার্থী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানোর জন্য মে মাসের মাঝামাঝি ভারত সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সেখানে ছিলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিনিধি।

পাইপের ভেতরে জীবন।
১৯৭১ সালে শরনার্থী হিসেবে ভারতে গিয়ে প্রথম দিকে এভাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন অনেকে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বর্ণনা অনুযায়ী অনেকে কংক্রিটের পাইপের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে। পয়:নিষ্কাশনের জন্য এসব পাইপ রাস্তার ধারে এনে রাখা হয়।

পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা আর্থিকভাবে সচ্ছল অনেককে দেখা গেছে রাস্তার ধারে ভিক্ষা করতে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সংবাদদাতা এমন দৃশ্যও দেখেছেন।

পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের স্রোত থামছেই না। প্রতিদিনই হাজার-হাজার শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস-এর এক খবরে বলা হয়, শরণার্থীদের অনেকে ভারতে ঢোকার জন্য ৬০ থেকে ৭০ মাইল পর্যন্ত হেঁটেছেন।

শরণার্থীরা যাচ্ছে
মাইলের পর মাইল হেঁটে ভারতে পৌঁছেছিল অনেকে।

কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘এক কিশোরীর যুদ্ধযাত্রা’ প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন কিশোরী। বরিশাল থেকে পালিয়ে তিনি কিভাবে ভারতে পৌঁছেছেন সেটি তুলে ধরেন কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়।

“সদ্য কিশোরী বয়সে দেশ, নিপীড়ন, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ একটু একটু করে বুঝতে বুঝতে যে দিন দেশ ত্যাগ করি, সেদিন থেকে ফ্রকপরা আমি বড় হয়ে যাই।”

“তারপর শরণার্থী দলের সাথে অবর্ণনীয় কষ্ট করে আগরতলায় রাজবাড়ি শিবিরে নাম লিখিয়ে বল্লা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেই। সেখানে থাকতেই শর্টকোর্স নার্সি ট্রেনিং করে ফিল্ড হাসপাতালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করি।”

কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়ের বর্ণনা থেকে জানা যায়, যুদ্ধকালে তার বাবা-মা জানতেন না যে তারা দুই বোন কোথায় এবং কীভাবে আছেন।

শরণার্থী শিবিরগুলোতে এতো মানুষ আসছে যে পরিস্থিতি সামাল দেয়া রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নোংরা এবং ঘিঞ্জি পরিবেশে অনেক শরণার্থী শিবিরে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে।

সব চেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গে

পূর্ব পাকিস্তান থেকে যত শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অবস্থান করছিল পশ্চিমবঙ্গে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭৫ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। শরণার্থীদের চাপ সামলানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছু শরণার্থী ভারতের অন্য জায়গায় স্থানান্তর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

এছাড়া ত্রিপুরায় ১৪ লাখের বেশি, মেঘালয়ে প্রায় ৭ লাখ এবং আসামে তিন লাখের বেশি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিল। সবমিলিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।

পানিতে নিমজ্জিত শরণার্থী ক্যাম্প
১৯৭১ সালে বর্ষাকালে ভারতের শরনার্থী ক্যাম্পের জীবন।

শরণার্থী সংকট এতোটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে এর শেষ কোথায় হবে সেটি কেউ ধারণা করতে পারছিল না।

মে মাসে বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের চাপে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জনমিতি বদলে গেছে।

তিনি বলেন, একটি শহরে ভারতের নাগরিক আছে সাত হাজার এবং অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ৬০ হাজার। তবে শহরটির নাম উল্লেখ করেননি মিসেস গান্ধি।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শরণার্থীরা যে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল তাতে কোন সন্দেহ। বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর জন্য খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির জোগাড় করা রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

কমিউনিস্ট নেতা হায়দার আকবর আকবর খান রনো ভারতের ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি শরণার্থীদের অবস্থা দেখেছেন।

‘সবাই ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত’

সে অভিজ্ঞতা মি. খান তুলে ধরেছেন তার একটি আত্মজীবনীমূলক বইতে।

‘শতাব্দী পেরিয়ে’ বইতে তিনি লিখেছেন, ” …প্রায় কয়েক মাইল পথ হেঁটে দক্ষিণ ত্রিপুরার এক ছোট বাজারে গিয়ে পৌঁছলাম। ওই ছোট বাজারের যা লোকসংখ্যা তার চারগুণ বেশি শরণার্থী, বাংলাদেশ থেকে এসেছে। বাজারে কোন খাবার নাই। আমরা সবাই ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত।”

” একটা টিউবওয়েল আছে। টিউবওয়েলের পানির জন্য দীর্ঘ লাইন। আমি একটা পাত্র হাতে, জাফর ভাইয়ের (প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদ) দু’বছরের মেয়ে জয়াকে কোলে করে লাইনে দাঁড়ালাম। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর টিউবওয়েলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি।”

শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন বরাদ্দ করা হতো – ৩০০ গ্রাম চাল, ১০০ গ্রাম আটা, ১০০ গ্রাম ডাল, ২৫ গ্রাম ভোজ্য তেল এবং ২৫ গ্রাম চিনি। কিন্তু এসব ত্রাণ সামগ্রী ঠিক মতো সকলের কাছে পৌঁছতো না বলেও অভিযোগ উঠে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ে তখন শুধু পূর্ব পাকিস্তান থেকে যাওয়া শরণার্থীদের চোখে পড়তো।

কলকাতায় একটি শরণার্থী ক্যাম্প
কলকাতায় একটি শরণার্থী ক্যাম্প

হায়দার আকবর খান রনোর বর্ণনা মতে শরণার্থীরা তখন ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে ‘জয় বাংলার লোক’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল।

“এভাবে প্রশ্ন করা হত, “দাদা, আপনারা কি জয়বাংলা থেকে এসেছেন? আমাদের দেশটির নাম হয়ে গিয়েছিল ‘জয় বাংলা’।”

শরণার্থী ও ভারত-পাকিস্তানের ভাষ্য

উনিশ’শ একাত্তর সালের মে মাসে শরণার্থী পরিস্থিতির বিবরণ জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি একটি চিঠি দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে।

সে চিঠিতে ইন্দিরা গান্ধী জানান, এখনো পর্যন্ত ২৩ লাখের বেশি শরণার্থী ভারতে এসেছে।

যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে মিসেস গান্ধী উল্লেখ করেন। কারণ অনেকে রেজিস্ট্রেশন করেননি। প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার শরণার্থী ভারতে ঢুকছে।

ইন্দিরা গান্ধীর চিঠির পরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানও একটি চিঠি দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে।

সেই চিঠিতে ইয়াহিয়া খান লিখেছেন, “পূর্ব পাকিস্তানের যেসব নাগরিক আইন মেনে চলেন এবং যারা ভারতে যেতে বাধ্য হয়েছেন তারা যাতে দেশে ফিরে নিজেদের স্বাভাবিক জীবন শুরু করে সেজন্য আমি তাদের আহবান জানিয়েছি। কিন্তু যারা অপরাধ করেছে তাদের আমি স্বাগত জানাতে পারবো না।”

তবে কেন লাখ লাখ শরণার্থী ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সেখানে পাকিস্তান বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে কিছু বলেননি ইয়াহিয়া খান।

শরাণার্থীদের জন্য খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে।
শরাণার্থীদের জন্য খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে।

পশ্চিমা দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়, জুন মাসের মাঝামাঝি শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখে পৌঁছেছে।

এ সময় শরণার্থী শিবিরগুলোতে কলেরার প্রকোপ দেখা হয়। এসময় শরণার্থী যাওয়া কিছুটা কমে আসে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারো ভারতমুখি শরণার্থীদের স্রোত বাড়তে থাকে।

শরণার্থী সংকট তুলে ধরার জন্য সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একটি চিঠি দিয়েছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা ব্রেজনেভকে।

সে চিঠিতে মিসেস গান্ধী লিখেছেন, ভারত যখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে যাত্রা শুরু করেছে তখন সীমান্ত নতুন ধরণের আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছে।

এই আক্রমণ কোন অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে নয়, বরং অসহায়, ক্ষুধার্ত, অসুস্থ এবং সন্ত্রাস-পিড়িত মানুষের স্রোত ভারতে ঢুকছে। গত ছয়মাসে এই সংখ্যা ৯০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

মিসেস গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, ইতিহাস কি কখনো এতো বড় শরণার্থী সংকট দেখেছে?

একটি পরিবার
অনেক পরিবার পর্যাপ্ত খাবার পায়নি। অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছে।

উনিশ’শ একাত্তর সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের শরণার্থীরা ভারতের উপর সাংঘাতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

শরণার্থী চাপের কারণে ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে এক বক্তৃতার সময় মিসেস গান্ধি বলেন, ” এই সংকট সহ্যের সীমা সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে।”

শরণার্থীদের ফিরে আসা

পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পনের পরদিনই বহু শরণার্থী স্বাধীন বাংলাদেশের দিকে ছুটতে থাকে। ভারত সরকার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই ফাঁকা হতে থাকে শরণার্থী শিবিরগুলো।

লাখ লাখ শরণার্থীর মতো কলকাতায় বসেই রেডিওর খবরের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার খবর জেনেছিলেন কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়।

তখন দেশে ফিরে আসার জন্য তিনি ও তাঁর বোন উদগ্রীব। কিন্তু মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের বরিশালে তার বাবা-মা বেঁচে আছেন তো?

স্মৃতিকথায় কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, “দু’একদিন পরে দিদির হঠাৎ মনে হলো, দেশ তো স্বাধীন, একটা চিঠি পোস্ট করে দেখি কি হয়? … দিদি বাবা-মা লিখলো, তোমরা বেঁচে থাকলে আমাদের খবর দাও আর কলকাতার ছোটমামার কারাগার থেকে তাড়াতাড়ি স্বাধীন দেশে, বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করো।”

চিঠি পেয়ে বাংলাদেশ থেকে তার বড় ভাই এসেছিলেন কলকাতায় তাদের দুই বোনকে নিয়ে যেতে।

তিন মাসে ক্যাম্প খালি

‌উনিশ’শ বায়ান্নো সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি ভারতের সংবাদসংস্থা ইউনাইটেড প্রেস ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানায় এখনো পর্যন্ত ৩০ লাখ শরণার্থী তাদের দেশে ফিরে গেছে।

ভারতের পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে ইউনাইটেড প্রেস অব ইন্ডিয়া জানায়, প্রতিদিন দুই লাখে বেশি শরণার্থী ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এক লাখের বেশি।

শরণার্থীদের সর্বশেষ দলটি বাংলাদেশে ফিরে আসে ২৫ মার্চ ১৯৭২। এই দলে ছিল প্রায় চার হাজার শরণার্থী। তারা ফিরে আসার পরে ভারতের শরণার্থী ক্যাম্পগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।