স্বপ্নের পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার সাহসী চ্যালেঞ্জ

51
Social Share
  • অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান

আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের গৌরবের, অহঙ্কারের, শেখ হাসিনার সাহসী চ্যালেঞ্জের বিজয়ী স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষেরই নয়, আঠারো কোটি মানুষের চোখ এখন ২৫ জুন উদ্বোধনের দিকে, স্বপ্নের সেতুর দিকে। তীব্র খরস্রোতা পদ্মা নদী কেবল ভাঙ্গনের খেলায় মেতে থাকেনি, বিলীন করেছে কত মানুষের জীবনের রং, স্বপ্ন ও আশা। শিখিয়েছে বেঁচে থাকার লড়াই- সংগ্রাম। পাশাপাশি এই পদ্মা বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সাহিত্য আর ইতিহাসের এক বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে, রচিত হয়েছে কত শত গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস। নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র। যে পদ্মার এপার থেকে ওপার চোখে দেখা যায় না, এখন পদ্মার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছোঁয়া যাবে হাওয়ার বেগে। সময় মাত্র ৬ মিনিট। এই সেতুকে ঘিরে বদলে গেছে দুই তীর ও জনপদ।

পদ্মা সেতুর ইতিকথা

বিপুল ব্যয় করে দেশের বড় নদীর ওপর যে সেতু নির্মাণ সম্ভব, সেই সামর্থ্য প্রকাশ পায় ১৯৯৮ সালে। ওই বছরই যমুনা নদীর ওপর ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হয়। তখনই তৎকালীন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা নদীতেও একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৯৯ সালের মে মাসে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা (প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু হয়। বলা যায় এটাই দালিলিকভাবে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সূত্রপাত। এ হিসেবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের যাত্রা প্রায় দুই যুগের। পদ্মা সেতুর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই হয় দেশীয় অর্থায়নে। ২০০১ সালের ৪ জুলাই সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুরুতে এমনও আলোচনা ছিল যে, সেতু নির্মাণ না করে পদ্মা পারাপারে ফেরি বাড়ানো ও ঘাট উন্নয়ন করলে সমস্যার সমাধান হয় কি না। পরে পরামর্শকরা দেখান যে, পদ্মা নদীতে ভাঙন বেশি। ফলে বারবার ফেরিঘাট স্থানান্তর করতে হয়। তীব্র স্রোতে ফেরি বা অন্য নৌযানে নদী পার হওয়া কঠিন। নৌযানডুবিতে প্রাণহানিও ঘটে। নৌযাত্রা সময়সাপেক্ষও। বিপরীতে সেতু নির্মাণ হলে বাধাহীনভাবে দ্রুত নদী পাড়ি দেয়া সম্ভব। অধিক সংখ্যায় মানুষ, যানবাহন ও মালামাল পরিবহন করা যাবে সেতু দিয়ে। সেতু নির্মাণ না করে নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা যায় কি না সেটাও আলোচনায় আসে। কিন্তু টানেলের প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং বেশি খরচের কারণে তা নির্মাণের সুপারিশ করেনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তারা চার লেনের সেতু এবং এর মধ্যে রেল সংযোগ রাখার পরামর্শ দেয়।

এর পরই সিদ্ধান্ত হয় পদ্মায় সেতুই হবে। এবার প্রশ্ন আসে, কোন্ পথে সেতুটি নির্মাণ করা হবে। প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় দুটি এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময় চারটি বিকল্প পথের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করেন বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত মাওয়া-জাজিরাতেই সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। পদ্মা সেতু নিয়ে প্রথম শঙ্কা তৈরি হয় ২০১১ ও ২০১২ সালে। এ সময় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন কানাডার একটি কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকসহ একাধিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা চুক্তি স্থগিত করে। বিশ্বব্যাংকের এসব অভিযোগ প্রথম থেকেই প্রত্যাখ্যান করেছিল বাংলাদেশ। তাতে কান দেয়নি বিশ্বব্যাংক। শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বব্যাংকের এমন বিস্ময়কর ঘোষণার আগের দিন গোটা দুনিয়াকে হতবাক করে দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখছে এখন গোটা বিশ্ব। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তকারী বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সদস্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের চীফ প্রসিকিউটর লুই মোরানো ওকাম্পো ফরমান পরবর্তী সময় দুর্নীতি করার কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

পদ্মা নদীর বিস্তার

পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা অনুযায়ী গঙ্গা, যমুনা ও মেঘনা নদী অববাহিকা এলাকা বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটানের প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। তিন অববাহিকার মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত গঙ্গা বা পদ্মা অববাহিকাÑ প্রায় ১১ লাখ বর্গকিলোমিটার। এই অববাহিকার সিংহভাগই পড়েছে ভারত ও নেপালে। বাংলাদেশে পড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। ভারতে যেটি গঙ্গা সেটির নাম বাংলাদেশ অংশে পদ্মা। এটি গঙ্গার প্রধান ধারা। গঙ্গার উৎপত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে, যা সমুদ্র থেকে প্রায় ৭ হাজার মিটার উঁচুতে। উৎপত্তির পর নদীটি ২ হাজার ৫২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দিয়ে। সেখান থেকেই নদীটির নাম হয় পদ্মা। বাংলাদেশে প্রবেশ করে এটি রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী হয়ে পৌঁছায় গোয়ালন্দ-দৌলতদিয়া-আরিচা পর্যন্ত। দৌলতদিয়ায় পদ্মা ও যমুনা মিলিত হয়। নদী বিজ্ঞানীরা যমুনাকে বলেন ব্রহ্মপুত্র। তাদের কাছে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মিলিত নাম পদ্মা। এরপর পদ্মা-যমুনার মিলিত ধারা চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।

পদ্মা সেতু সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটেছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মাণ হচ্ছে দেশের সবচাইতে বড় সেতু।

নির্মাণ ব্যয় ও সময়

পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট খরচ করা হচ্ছে ৩০ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি। বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতুর কাজ শুরু হয় ৭ ডিসেম্বর ২০১৪ সালে। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পদ্মা সেতুতে পিলারের ওপর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। ১০ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ১২ ও ১৩তম পিলারে ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পুরো পদ্মা সেতু।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

দেশের মধ্যভাগ ও পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে বড় বাধা ছিল পদ্মা পারাপার। যানবাহন পারাপারের মাধ্যম ফেরি। মানুষ পারাপারের মাধ্যম লঞ্চ, ট্রলার, স্পিডবোট অথবা নৌকা। বর্ষায় পদ্মা যখন ভয়ঙ্কর রূপ নেয় তখন ছোট নৌযানে নদীটি পাড়ি দেয়া অনেকটা প্রাণ হাতে নেয়ার মতো। আর ফেরিঘাটে সারা বছর মানুষকে ভুগিয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। পদ্মা সেতু চালু হলে মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমীক্ষা অনুযায়ী পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বাড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প মাওয়া-জাজিরা পয়েন্ট দিয়ে নির্দিষ্ট পথের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সরাসরি সংযোগ তৈরি করেছে। এই সেতুটি অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখবে। প্রকল্পটির ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪৪,০০০ বর্গ কিঃমিঃ (১৭,০০০ বর্গমাইল) বা বাংলাদেশের মোট এলাকার ২৯% অঞ্চলজুড়ে ৩ কোটিরও অধিক জনগণ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। ফলে প্রকল্পটি দেশের পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেতুটিতে ভবিষ্যতে রেল, গ্যাস, বৈদ্যুতিক লাইন এবং ফাইবার অপটিক কেবল সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিণে এখন সুদিনের অপেক্ষা।

উদ্বোধনীর আয়োজন

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একযোগে সারাদেশে দেখানো হবে। জেলায় জেলায় উৎসব করেও এই ক্ষণ উদ্যাপন করা হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। আর ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ কয়েকটি জেলায় এ উপলক্ষে ২৫ জুন থেকে পাঁচদিন পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে। এর মধ্যে ঢাকার হাতিরঝিলে লেজার শোর আয়োজন করা হবে। ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরায় হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর মাদারীপুরের শিবচরে জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে ওই এলাকায় ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করার পরিকল্পনা করেছে আওয়ামী লীগ।

বিদেশীদের ব্যাপক আগ্রহ

পদ্মা সেতু দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে এক আগ্রহের বিষয়। হচ্ছে নানা বিশ্লেষণ, হচ্ছে নানা মন্তব্য প্রতিবেদন। এর মধ্যে বিশেষভাবে লক্ষ্য করার মতো পাকিস্তানী শিক্ষাবিদ এবং গবেষক ড. মালিকা-ই-আবিদা খাট্টাকের প্রতিবেদন। পাকিস্তানী বুদ্ধিজীবীরা শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে সব সময় প্রশংসা করে থাকেন। সেতু উদ্বোধন সামনে রেখে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের ইংরেজী দৈনিক ডেইলি টাইমস। ‘স্টোরি অব বাংলাদেশ’স পদ্মা ব্রিজ : মোর দ্যান জাস্ট আ ব্রিজ’ শিরোনামে নিবন্ধটি লেখেন ড. মালিকা-ই-আবিদা খাট্টাক। পাকিস্তানী শিক্ষাবিদ ও গবেষক আবিদা খাট্টাকের আগ্রহের জায়গা আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কা। নিবন্ধে নানা বাধা ও ষড়যন্ত্র ডিঙ্গিয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।

করোনা মহামারীর মধ্যেও সেতুর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসায় আবিদা খাট্টাক লেখেন, শেখ হাসিনার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে শুধু যে পদ্মা সেতুই নির্মাণ হচ্ছে তা নয়, মেট্রোরেল এবং দেশের সবচেয়ে বড় টানেলের কাজও শেষের দিকে। এ বছরই তা জনগণের জন্য খুলে দেয়া হবে। আরও অনেক প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, মাতারবাড়ি প্রকল্প, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ, পায়রা সমুদ্রবন্দর, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর উল্লেখযোগ্য। তবে সব কটির মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজটি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের কারণে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সাহসী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে একজন আত্মবিশ্বাসী, প্রত্যয়ী রাষ্ট্রনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অংশ হবে পদ্মা সেতু। এ সেতু বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং জাতির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

স্বপ্নের বাংলাদেশে স্বপ্নের সেতু

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালী জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়ছিলেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের এবং তিনি তা বাস্তবায়ন করে গেছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বাবার স্বপ্ন ধরেই এগিয়ে চলেছেন একটি উন্নত বাংলাদেশের পরিকল্পনা নিয়ে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। পদ্মা সেতু সেখানে উন্নয়নের পদক্ষেপে এগিয়ে নিয়ে যাবে বহুগুণ। নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব এখন এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এ দেশকে শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশে পৌঁছে দেয়া তাঁরই হাত ধরে।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়