ভিনিউজ ডেস্ক
মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্সের বাজারমূল্যের উল্লম্ফনের ফলে তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার বা এক লক্ষ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের শেয়ার তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহে কোম্পানিটির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তালিকাভুক্তির সময় শেয়ারের দাম ছিল ১৫০ ডলার। দিনের লেনদেন শেষে তা বেড়ে ১৬৮ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার।
বাজারমূল্যের এই উত্থানের সরাসরি প্রভাব পড়ে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শেয়ারধারী ইলন মাস্কের সম্পদের ওপর। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের হিসাবে, বর্তমানে তার মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় ১৩০ লাখ কোটিরও বেশি টাকার সমান।বাং
বিশ্বের ধনীদের তালিকায় মাস্কের অবস্থান আগেও শীর্ষে ছিল। তবে তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ অন্যান্য শীর্ষ ধনকুবেরদের তুলনায় অনেক বেশি। তালিকায় তার পরেই রয়েছেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং বিলাসবহুল পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্ট।
মাত্র কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ২০২০ সালের শুরুতে বিশ্বের ধনীদের তালিকায় মাস্কের অবস্থান ছিল ৩৫ নম্বরে। তখন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এরপর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্সের বাজারমূল্যের এই উল্লম্ফন শুধু মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদই বাড়ায়নি, বরং কোম্পানিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। বাজারমূল্যের দিক থেকে স্পেসএক্স এখন টেসলাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
মাস্কের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নানা পরিসংখ্যানও আলোচনায় এসেছে। এক লক্ষ কোটি ডলার এক ডলারের নোটে সাজালে তার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ কিলোমিটার হবে, যা পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার দূরত্বের প্রায় ২০০ গুণের সমান। আবার এই অর্থ বিশ্বের প্রায় ৮২০ কোটি মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দিলে প্রত্যেকে ১২২ ডলারের বেশি পেতেন।
বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ তার জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা-র বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় দ্বিগুণ বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণায় বিনিয়োগের মাধ্যমে ইলন মাস্ক যে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রভাব তৈরি করেছেন, ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলক সেই প্রভাবেরই নতুন স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।




