স্পিনিং সহায়ক উইকেট বানানোয় টেস্ট কম খেলতে চায় পেসাররা

চলতি মাসের ১০ তারিখ মাঠে গড়াবে ঘরোয়া ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২১ তম আসরের খেলা। ভারত সফরের আগে সেখানে পেসারদের বড় পরীক্ষা হবে। সেই পরীক্ষায় নিজেরা কতটা কি করতে পারেন তা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আবু হায়দার রনি। ঢাকা মেট্রোর হয়ে খেলা এই পেস বোলার বলেন, ‘এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের, যেটা বললেন আমরা হয়তো উইকেটটা আমাদের সহায়ক পাইনা। তবে গত দুই বছরের দিকে তাকালে দেখবেন পেসাররা কিন্তু সেরা পাঁচে থাকছে। শেষ দুইবছর ধরে আমরা কিন্তু উইকেটটা কিছুটা ভালো পাচ্ছি। আমার কাছে মনে হয় কারণ আমি যে কটা ম্যাচ খেলেছি আমাদের উইকেটটা কিন্তু পেস বোলারদের সহায়ক আছে। তবে, এবারের ঘরোয়া লিগে অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয় এবারও উইকেটটা ভালো থাকবে আর পেসাররা খুব ভালো করবে।’

এ সময় টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের অবস্থান কতটুকু তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন? এ প্রশ্নের জবাবে রনি বলেন, ‘আসলে আমাদের পেস বোলারদের জন্য এটি একটি চিন্তার বিষয়, কারণ দেখা যাচ্ছে হয়তো উইকেটটি একটু স্পিনিং সহায়ক বানায়, এই কারণে পেস বোলাররা কম খেলতে চায়। তবে এখানে আমাদেরও ঘাটতি রয়েছে। আমরা যারা পেস বোলার আছি আমরা হয়তো তেমন গতির বোলার না যে আমরা ১৪০ এর বেশি গতিতে বোলিং করি। দেখা যায় আমরা যারা আছি সবাই ১৩০ কিংবা ১৩৫ এমন গতিতে বোলিং করি।’

ফিটনেস নিয়েও কথা বলেন বাংলাদেশ দলের এই পেসার। আবু হায়দার রনি বলেন, ‘বেশিরভাগ পেসারই পাঁচ-সাত ওভার বল করার পর হাঁপিয়ে উঠেন। চাপের সময় দুর্বার স্পেল দেখতে পাওয়া যায় অনেক কম। শুরুতে কিছুটা ঝাঁজ দেখালেও পুরো দিন তা ধরে রাখতে পারেন না। এজন্য শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি ম্যাচ ফিটনেসেরও ভীষণ প্রয়োজন বলে মনে করেন রনি।

তিনি আরো বলেন, ‘বিপ টেস্টে ১১/১২ পাচ্ছেন কিন্তু চার-পাঁচ ওভার টানা বোলিং করতে পারেন না। সেজন্য ফিটনেসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, এমন ফিটনেস থাকতে হবে যাতে  টানা আট- নয় ওভার বোলিং করতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন বেশি বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা উচিত বলে।’

এবারের জাতীয় লিগে ‘আবু হায়দার রনির’ ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে রনি বলেন, ‘আমরা পেশাদার ক্রিকেটার যেখানেই খেলি পারফর্ম করতে হবে, টিকে থাকতে হলে পারফর্মের বিকল্প কিছু নেই।  এটা বিসিএল বলেন, এনসিএল, ডিপিএল কিংবা বিপিএল বলেন পারফর্ম করতে হবে, পারফর্ম করলেই সুযোগ আসবে। আমি আসলে এইভাবে চিন্তা করিনা যে আমার এখানেই পারফর্ম করে জাতীয় দলে ঢুকতে হবে। আমার কাজ হচ্ছে পারফর্ম করা, আমি চেষ্টা করি সব জায়গায় ভালো পারফর্ম করার আর যখনি সুযোগ আসবে তা কাজে লাগানোর।