স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মার্কা দিয়ে গোটা জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

8
Social Share

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আজ (২৯ডিসেম্বর) মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি পৌরসভা নির্বাচন নয়, ফলাফল বর্জন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মার্কা দিয়ে নির্বাচন করার কারণে গোটা জাতিকে বিভক্ত করে দেয়া হয়েছে। এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিনসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফখরুল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে এমন কথা তাদের বলতেই হবে। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের ওপর নির্যাতন নিপিড়ন করে জোড় করে ক্ষমতা ধরে রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় না। কিন্তু সেখানেও সরকার শক্তি প্রয়োগ করে ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়ে গেছে। এই সরকারের আমলে ও এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় কখনোই কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারবে না। পূর্ব নিধারিত ও ইভিএম কারচুপি কারণে ফলাফল তাদের পক্ষে যাচ্ছে। তাই ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ব্যালট পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় বিএনপি।

মির্জা ফখরুল মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিনসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ বৃটিশদের কৌশল ডিভাইডেন্ট রুল দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। যার ফলে রাজনৈতিক দলগুলো সৃষ্টিশীল ভূমিকা পালন করতে পারে নাই।

কর্তৃত্ববাদি শাসনে রাজনৈতিকবিদরা পিছনে পড়ে যায়, সেখানে ক্ষমতা ধরে রাখতে আমলাদের তুষ্ট করতে হয়  রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের। যে আওয়ামী লীগ জনগণের দল ছিলো, স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছিল, সে দল এখন কর্তৃত্ববাদী ও লুটপাটের দলে পরিণত হয়েছে।

ফখরুল আরো বলেন, করোনা ভাইরাস বুঝিয়েছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সবচেয়ে ভঙুর। সরকারিভাবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ কম। স্বাস্থ্য খাতে যে পরিমাণ টাকা ব্যায় হয়েছে তার ৮০ ভাগ টাকা চুরি হয়েছে। করোনা টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনামাফিক চুরি করছে সরকার।

২০২০ সাল শুধু বিএনপির নয়, সারাবিশ্বের মানবজাতির জন্য খারাপ বছর। কারণ, সরকারের কর্তৃত্ববাদের যে চেহারা তা উন্মোচিত হয়েছে এবং ধর্ষণ, দুর্নীতি ও জনগণের অধিকার হরণ এ বছর বেশি হয়েছে। তবে জনগণের অধিকার ফিরে পওয়ার প্রত্যাশা থাকবে আগামী বছরে।