সৌদি থেকে হুসনাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার নির্দেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মী সুমি আক্তারকে নির্যাতনের দাগ মুছতে না-মুছতেই নির্যাতনের শিকার আরেক নারী কর্মীর ভিডিও-বার্তা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের হুসনা আক্তার (২৪) আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে ১৭ দিন আগে ‘আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশন’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে গৃহকর্তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রথমে স্বামী শফিউল্লাকে ভিডিও-বার্তা পাঠান তিনি।

হুসনা আক্তার তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, আমি মোসা. হুসনা আক্তার। দালালে ভালা কথা কইয়া আমারে পাঠাইছে সৌদিতে। নিজরাল (নাজরান) এলাকায় আমি কাজ করি। আমি আইসা দেখি ভালা না। ওরা আমার উপর অত্যাচার করে। আমি বাক্কা দিন (১০/১২ দিন) হইছে আছি। এখন এরার অত্যাচার আমি সহ্য করতে পারি না দেইক্কা কইছি আমি যাইমু গা। এই কথা বলায় ওরা আরো বেশি অত্যাচার করে। আমি এজেন্সির অফিসে ফোন দিছি। অফিসের এরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমি আর পারতাছি না। তোমরা যেভাবে পারো আমারে বাঁচাও। এরা আমারে বাংলাদেশ পাঠাই তো চায় না। এরা আমারে ইতা করতাছে। আমারে ভালা কামের কথা কইয়া পাঠাইছে দালালে। আমারে ইতা করতাছে ওরা। আমি আর পারতাছি না সহ্য করতাম। তোমরা যেভাবে পারো আমারে নেও।

হুসনার স্বামী আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্টিভিউশন এজেন্সিতে গিয়ে এসব কথা জানালে এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। হুসনা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেন। শফিউল্লা উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য ওই ভিডিও তার এক ভাইয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন।

রবিবার দিবাগত রাতে এই সংবাদটি দৈনিক কালের কণ্ঠের অনলাইন সংস্করণে ও প্রিন্টে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত হওয়ার পর সংবাদটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. শাহরিয়ার আলম এর চোখে পড়ে। তিনি তৎক্ষণাৎ মোসা. হুসনা আক্তারকে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য. শাহিন নামের একজন দালাল ‘আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্টিভিউশন’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজে হুসনাকে সৌদি পাঠায় বলে ওই নারী কর্মীর পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।