সেরার লড়াইয়ে কারা হাসলেন শেষ হাসি

59
সেরার
Social Share

আন্তর্জাতিক টেলিভিশন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পুরস্কার ইন্টারন্যাশনাল এমি অ্যাওয়ার্ডস। এবারের আসরে বিভিন্ন শাখায় সেরার লড়াইয়ে ছিল ২৪টি দেশের ৪৪টি কনটেন্ট। গতকাল নিউইয়র্কে বসেছিল তার ৪৯তম আসর।  তিনটি বিভাগে মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত একটা পুরস্কারও ঘরে আনতে পারেনি ভারত।

সেরা টিভি মুভি বা মিনি সিরিজ
আটলান্টিক ক্রসিং, নরওয়ে
১৯৪০ সাল। জামার্নির নাৎসি বাহিনী দখল করে নিয়েছে নরওয়ে। রাজনৈতিক উদ্বাস্তু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন দেশটির হবু রানি মার্থা । সেখানে গিয়ে হাত–পা গুটিয়ে বসে থাকলেন না, নাৎসি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেন তিনি। ওয়াশিংটনে মার্থার উপস্থিতি ইউরোপ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। মার্কিন রাজনীতিতেও আসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। নরওয়ের হয়ে যুদ্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্টকে পর্যন্ত রাজি করিয়ে ফেলেন মার্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর এটাই ছিল প্রথম প্রয়াস। রাজনীতি আর ভালোবাসা—এই দুইকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে আটলান্টিক ক্রসিং সিরিজের কাহিনি।

রানি মার্থা

সেরা ড্রামা সিরিজ
তেহরান, ইসরায়েল
ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের এজেন্ট তামার রাবিনিয়ান। ইরানের একটি পারমাণবিক চুল্লি নিষ্ক্রিয় করার মিশনে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এই মিশনে কাজ করতে গিয়েই একসময় আবিষ্কার করেন, জন্মসূত্রে ইরানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে। এক গণতন্ত্রপন্থী কর্মীকে ভালোও বেসে ফেলেন। এদিকে তাঁকে আর তাঁর মোসাদ সহকর্মীদের খুঁজে বেড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরানের কর্তৃপক্ষ। স্পাই থ্রিলার সিরিজ তেহরান–এ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ছাপিয়ে মানবিক গল্প বলার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা ডেনা এডেন। দ্য জেরুজালেম পোস্টকে এই নির্মাতা বলেন, ‘আমি আশা করি, আমরা ইরানি ও ইসরায়েলিরা জেরুজালেম ও তেহরানে শত্রু হিসেবে নয়, বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে হাঁটতে পারব।

সেরা কমেডি
কল মাই এজেন্ট, ফ্রান্স
প্রথম থেকেই আলোচনায় কল মাই এজেন্ট। এই ফরাসি সিরিজের চতুর্থ মৌসুম ইন্টারন্যাশনাল এমিতে কমেডি শাখায় সেরা পুরস্কার পেল। সিরিজটির গল্প বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির একটি এজেন্ট ফার্মকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। বিজ্ঞাপন, সিনেমা ও সিরিজে ক্লায়েন্টদের কাজ পাইয়ে দেয় তারা। আচমকা এই ফার্মের প্রধানের মৃত্যুর পর সবকিছু পাল্টে যায়। ফার্মটি চালাতে হিমশিম খান কর্মীরা। শুরু হয় তাঁদের নতুন সংগ্রাম। সিরিজটিতে ফার্মের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি উঠে এসেছে গ্ল্যামার জগতের ভেতরের গল্প।

অন্যান্য
সেরা অভিনেত্রী ও অভিনেতা—দুটো পুরস্কারই পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের শিল্পীরা। অ্যাডাল্ট ম্যাটেরিয়াল সিরিজের জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন হেইলি স্কোয়ায়েজ আর ডেস সিরিজে কাজ করে সেরা অভিনেতা হয়েছেন ডেভিড ট্যানেট। এ ছাড়া আর্টস প্রোগ্রামিং বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ফ্রান্সের প্রামাণ্যচিত্র কুব্রিক বাই কুব্রিক। বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার স্ট্যানলি কুব্রিকের জীবন ও কাজ নিয়ে এটি নির্মাণ করেছেন গ্রেগরি মনরো।

ডেভিড ট্যানেট

শর্ট ফর্ম সিরিজে পুরস্কার পেয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনসাইড। সেরার অ–ইংরেজিভাষী মার্কিন অনুষ্ঠান হয়েছে ‘টোয়েন্টি ফার্স্ট অ্যানুয়াল লাতিন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস’, প্রামাণ্যচিত্রে থাইল্যান্ডের হোপ ফ্রোজেন: আ কোয়েস্ট টু লিভ টোয়াইস, নন–স্ক্রিপ্টেড এন্টারটেইনমেন্ট বিভাগে যুক্তরাজ্যের দ্য মাস্কড সিঙ্গার, টেলিনভেলা বিভাগে চীনের দ্য সং অব গ্লোরি সিরিজটি পুরস্কার পায়। এবারের আসরে বিভিন্ন শাখায় সেরার লড়াইয়ে ছিল ২৪টি দেশের ৪৪টি কনটেন্ট। জার্মান পাবলিক ব্রডকাস্টার জেডডিএফের মহাপরিচালক থমাস বেলুটকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা।