সেইসব দিবারাত্রির গল্প…………

43
Social Share

কাওসার চৌধুরি : আমার চেয়ে সিনিয়র একজন শিল্পীকে একবার আমার স্ত্রীর ভূমিকায় পেয়েছিলাম- ‘বড় বাড়ি’ সিরিজ নাটকে। নাটকটি প্রচারিত হয়েছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে। তখোন স্যাটেলাইট টিভি তো দূরের কথা- বাঁশের মাথায় হাঁড়িপাতিল বেঁধে ভারতীয় টিভি দেখাও শুরু হয় নি সে অব্দি!

সিরিজটি লিখেছিলেন প্রয়াত নাট্যকার বেগম মমতাজ হোসেন। প্রযোজনা (পরিচালনা) করেছিলেন মুহাম্মদ আবু তাহের (প্রয়াত)। অভিনয়ে ছিলেন বাঘা বাঘা সব শিল্পীগণ! ফেরদৌসী মজুমদার, জহিরুল হক (প্রয়াত), জামাল উদ্দিন হোসেন, রওশন আরা হোসেন, জাহানারা আহমেদ, কেয়া চৌধুরী, জিনাত বরকত উল্লাহ, সাবরিনা বারী লাকী, রাণী সরকার, মানস বন্দোপাধ্যায়সহ বেশক’জন শিল্পী। আমিও চান্স পেয়েছিলাম সেই নাটকে অভিনয় করার।

‘বড় বাড়ি’র কর্তা মারা গিয়েছেন আগেই; তবে মা বেঁচে ছিলেন। মায়ের চরিত্রে ছিলেন ফেরদৌসী মজুমদার। এ বাড়ির তিন ছেলে। সবার বড়ো জহিরুল হক, উনার স্ত্রীর ভূমিকায় ছিলেন জাহানারা আহমেদ। মেজো ছেলে জামাল উদ্দিন হোসেন; উনার স্ত্রীর ভূমিকায় নিজের স্ত্রী রওশন আরা হোসেন। আর আমি ছিলাম ছোট ছেলের ভূমিকায়। আমার স্ত্রীর ভূমিকায় ছিলেন কেয়া চৌধুরী।

জহর ভাইয়ের কথা (জহিরুল হক) কথা নিশ্চই মনে আছে আপনাদের। সেই জহিরুল হক- যিনি ‘রংবাজ’ ছবিটি পরিচালনা করে দর্শক হৃদয়ে স্থান পাকা করে নিয়েছিলেন।

জামাল ভাইয়ের কথা তো আর নতুন করে বলার কিছু নেই। ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এ কাজ করার সুবাদে আমি উনাদের দুজনেরই (জামাল ভাই এবং রওশন আরা হোসেন) স্নেহধন্য ছিলাম। ফেরদৌসী ভাবী তো ‘থিয়েটার’-এর। অন্য নাট্যদলের হলেও আমাদের সবার মাঝে সম্প্রীতি সদ্ভাব ছিল উল্লেখ করার মত। এটা অবশ্য যে কোন নাট্যদলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। আশাকরি এখনো সেটাই আছে।

ফেরদৌসী ভাবী শুটিং-এর সময় স্টুডিওতে মাঝেমধ্যে আমাদের জন্য- লবন কাঁচা মরিচ মেখে পেয়ারা, আমড়া আর টক-কমলা নিয়ে আসতেন। আমরা সবাই মিলে নাক ডুবিয়ে খেতাম ওগুলো। শুটিং-এর মাঝখানে এই সুস্বাদু ফলগুলো একদিকে যেমন এনার্জি তৈরি করতো, অন্যদিকে শিল্পীদের ‘মানসিক চাপ’ কমাতে সাহায্য করতো।

একদিন ওই নাটকের মহড়াশেষে জহর ভাই বললেন- কাওসার, তোমার তাড়া না থাকলে চল আজ মৌচাকে আলাউদ্দিনের মিষ্টির দোকানে যাবো। তোমাকে নিয়ে পেটপুরে মিষ্টি খাবো। বাসায় তোমার ভাবী আমাকে মিষ্টি খেতে বারণ করে; আমার ডায়বেটিস তো আবার খুব চড়া! আমি বেশ কৌতুক অনুভব করি জহর ভাইয়ের কথায়।

মনে পড়লো- ছোটবেলায় মা যখন নানান জাতের আঁচারের বৈয়াম রোদে শুকাতে দিতেন- আমি চুরি করে খেয়ে বৈয়াম অর্ধেক করে দিতাম। তাতে অবশ্য মায়ের বকুনি আর বড়ো বোনের চড় থাপ্পড়ও খেয়েছিলাম দু’চারটা! সেই ‘চড় থাপ্পড়’ আঁচারের স্বাদকে এতটুকু ম্লাণ করতে পারে নি কোনদিন! জহর ভাইয়ের অবস্থাও অনেকটা ওরকমই মনে হল!

ভাবতে পারবেন না, সেদিন জহর ভাই আর আমি- ছানার সন্দেশ, রসগোল্লা আর ছানামুখী খেয়ে ফেললাম প্রায় এক কেজি’রও বেশী! সাথে অল্প নিমকপারা আর হাল্কা নিমকিও ছিল মিষ্টির সাথে। সবশেষে অবশ্য কুমিল্লার রসমালাইও ‘টেস্ট’ করেছিলাম অল্প! সবকিছু খেয়েনেয়ে জহর ভাই বললেন- রাতে একটা ই্নস্যুলিন নিয়ে ডিনারটা সেরে নেবো। তোমার ভাবী আজ রুই মাছের মাথা দিয়ে মুড়ো রেঁধেছে। সকালে বাজার থেকে এনেছিলাম- টাটকা রুই মাছে। দুপুরে ভাজা মাছের টুকরো খেয়েছি গোটা তিনেক, রাতে খাবো মুড়ো। ব্যাস, কোর্স কমপ্লিট! বলেই হাসলেন এক গাল! আহা রে, সেই ‘রসালো মিষ্টি’র দিনগুলো ফুড়ুৎ করে উড়ে গেলো চড়ুই পাখীর মত! জহর ভাই, আপনি যেখানেই থাকুন- অনেক ভালো থাকুন।

শুরু করেছিলাম কেয়া’পার কথা দিয়ে। হায় হায়, কোত্থেকে কোথায় এসে পড়েছি! …কেয়া’পার সাথে খুব একটা ভাব ছিল না আমার; এখনো নেই! উনি খুব রিজার্ভ থাকতে পছন্দ করেন মনে হয়! ফলে একটু ভয় পেতাম উনার সাথে কথা বলতে। আজও ওভাবেই সমীহ করেই চলি। অবশ্য দেখাই তো হয় না কয়েক যুগ!

যাই হোক। বলছিলাম- ‘বড় বাড়ি’তে কেয়া’পাকে পেয়েছিলাম স্ত্রীর ভূমিকায়। বাস্তব জীবনে যত ডর-ভয় থাকুক না কেন- অভিনয়ে ওসবের কোন স্থান নেই। তাই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে তিনি আমার স্ত্রী ছাড়া কিছুই নন!

পুরুষ শাসিত সমাজে স্ত্রীরা স্বামীদের দিয়ে একটু আধটু নিগৃহীত হবেন ওটাই ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। অবশ্য এখনকার চিত্রটা ভিন্ন! পুরনো অবস্থা পাল্টাচ্ছে দ্রুত। ওটাই শুভ লক্ষণ। কিন্তু সেই সময়ে (নব্বই দশকের শুরুতে) মমতাজ আপা (বেগম মমতাজ হোসেন) উনার নাটকে এই বিষয়টি এনেছিলেন খুব চমৎকারভাবে।

নাটকে আমাদের পরিবারটি ছিল তথাকথিত মধ্যবিত্তের চেয়ে একটু বেশী বিত্তবান। পড়াশোনায় সবাই বেশ এগিয়ে। কিন্তু কোন এক ফাঁকে টিপিক্যাল মধ্যবিত্তের লুকিয়ে থাকা মানূষটি একদিন বেরিয়ে এলো আমার সেই চরিত্র থেকে!

খুলে বলি। স্বামী-স্ত্রীতে একটু মান অভিমান, খুনসুটি, একটূ ঝগড়াঝাটি- মানুষের মাঝে তো বটেই স্বয়ং দেব-দেবীর মাঝেও ছিল মনে হয়! সেই সূত্রে কেয়া’পার সাথে আমারও চলছিল! এক এপিসোড দুই এপিসোড পেরিয়ে অন্য এক এপিসোডে গিয়ে কেয়া’পা- ‘এক কাপড়েই চলিলেন বাপের বাড়ি’!

বাড়ির সদর দরজার এসে আমাকে শুনিয়ে দিলেন ঝাঁঝালো দু’চারখানা কড়া ডায়লগ! আমিও কম যাই কীসে! নাট্যকারের কল্যাণে আমার ঝুড়িতেও ছিল বেশক’খানা উষ্ণ সংলাপ। দিলাম ঝেড়ে ওগুলো- কেয়া’পার বিদায়লগ্নে! “……যাচ্ছো তো যাও, কিন্তু মনে রেখো এটাই শেষ যাওয়া” ধরণের সংলাপ ছিল গোটা দুই তিনেক। সবগুলো সংলাপই আমি খুবই আন্ডার টোনে, লো-কীতে চিবিয়ে চিবিয়ে উচ্চারণ করে- শেষে একটি শব্দ ইম্প্রোভাইস করে জুড়ে দিলাম। শব্দটি ছিল ‘ব্যাস’! এই ‘ব্যাস’ শব্দটি দিয়েছিলাম অনেকটা উঁচু লয়ে, উচ্চ গ্রামে, চড়াস্বরে! ব্যাস, সেটা পছন্দ হয়ে গেলো সবারই! নাট্যকার, প্রযোজক থেকে সহশিল্পী সবাই পছন্দ করে ফেললো ‘ট্রিটমেন্ট’টি! নাটক প্রচারিত হওয়ার পরেও দেখি- দর্শকের মাঝেও ওই সিকোয়েন্সেরই বেশ প্রশংসা চলছে।

পরের এপিসোডের মহড়া শুরু হল নাটক প্রচারের দু’দিন পরেই। সেই মহড়ায় ঘটলো একটি মজার কাণ্ড। আমরা তখোন প্রতিটি পর্বের রেকর্ডিং-এর আগে অতি-অবশ্যই তিনদিন (কমপক্ষে) রিহার্সেল করতাম টিভি ভবনে গিয়ে। আজকালকার শিল্পীদের মত এত মেধাবী আমরা ছিলাম না! রিহার্সাল বিহীন রেকর্ডিং আমাদের কল্পনারও অতীত ছিল। তো, সেদিনের মহড়ার শুরুতে আমরা সবাই বসেছি বিটিভির তিন তলার মিটিং রুমে। অন্য মহড়া কক্ষগুলো খালি না থাকলে মাঝেমধ্যে ওখানেও রিহার্সাল হত কদাচিৎ।

মমতাজ আপা রিহার্সালে নতুন এপিসোডের স্ক্রীপ্ট পড়বেন (ওটাই প্রথা)। পাশে উপবিষ্ট প্রযোজক মুহাম্মদ আবু তাহের। ফেরদৌসী আপা, জহর ভাই, জামাল ভাইসহ অন্যান্যরা সবাই বসে আছেন যে যার জায়গায়- একটা লম্বা টেবিলের চারদিকে। স্ক্রীপ্ট পড়বার আগে, সাধারণত আগের এপিসোডের ভালোমন্দ নিয়ে ‘সমালোচনা’ হত। সেদিনও তাই হবার কথা। কিন্তু হঠাৎ কথা বলে উঠলেন মমতাজ আপা। উনি আমার সেই ‘ইম্প্রোভাইজড’ সংলাপটির বেশ প্রশংসা করলেন। বললেন- বাহ, মেজাজী ঢং-এর অভিনয়ে তোমাকে বেশ লাগে বটে! এখন থেকে তুমি হয়ে গেলে আমাদের ‘এংরি হিরো’! এই এপিসোড থেকেই তোমার জন্য থাকছে বেশকিছু ‘মেজাজী সংলাপ’। আর, গত এপিসোডে তোমার সুন্দর পারফরমেন্সের জন্য আমার পক্ষে থেকে তোমার জন্য একটি পুরষ্কার এনেছি। ডানহাতে একটি কলম উঁচিয়ে ধরে বললেন- এটা তোমার জন্য।

এই কলমটি দিয়েই আমি দীর্ঘদিন লেখালেখি করছি। এই নাটকের সবগুলো এপিসোড এই কলমটি দিয়েই লেখা। সেই কলমটা আমি তোমাকে দিচ্ছি অনেক তোমার ভালো পারফরমেন্সের জন্য। আসো, নিয়ে যাও।

আমরা তখোন সিনিয়রদের সাথে একটু দূরত্ব রেখেই বসতাম। সিনিয়রদের সবারই বসা হয়ে গেলে আমরা অপেক্ষাকৃত জুনিয়ররা বাকী চেয়ারগুলোতে বসতাম। ফলে আমি ছিলাম উনার একদম উল্টোদিকে- টেবিলের অন্যদিকের শেষ প্রান্তে।

মমতাজ আপার কথা শুনে আমি তখোন রীতিমত ঘামছি! ওই অবস্থাতেই আমি এক রকম দৌড়ে যাই আমি মমতাজ আপার চেয়ারের দিকে। কাছে যেতেই প্রযোজক তাহের ভাই বললেন- আরে গাধা, আগে সালাম কর্ আপাকে! আমি তো এমনিতেই বিনয়ের অবতার! তার ঊপরে মমতাজ আপা শুধুমাত্র আমাদের নাট্যকারই নন; উনি ছিলেন একজন স্কুল-শিক্ষক। তারও পরে- উনি ছিলেন আমাদের চলচ্চিত্রের গুরু আলমগীর কবীরের ছোট বোন। উনার পা ছুঁয়ে সালাম করে উঠে দাঁড়াতেই উনি আমার মুখটা দু’হাতে ধরে কপালে আদর করে দিলেন। আর তখোন তো বাকী সবার হাততালি আর হর্ষধ্বণিতে উষ্ণ হয়ে গেছে বিটিভির মিটিং-রুম!

আমার সম বয়েসী পারফরমারদের মধ্যে মানস (মানস বন্দোপাধ্যায়) এবং আরো ক’জন ধরে বসলো ‘আজকের চা-নাশ্তা’টা যেন আমি খাওয়াই। আমি সানন্দে রাজী হয়ে যাই। কিন্তু ফেরদৌসী ভাবী আগ বাড়িয়ে বললেন- না, কাওসার নয়, আজকের নাশ্তাটা আমিই খাওয়াবো।
নাশ্তা বলতে তখোন আমাদের বিটিভি ক্যান্টিনের মোগলাই পরটা, সমুচা, শিঙ্গাড়া আর ছোলা! ওই ‘সুদূর রামপুরায়’ সেই কালে ওগুলোই ছিল ‘ফাইভ স্টারের’ সমান খাবার! একেকটা মোগলাইতে দুটো করে ডিম দেয়া হত বলে ওটার নাম হয়ে গিয়েছিলো- ‘ডাবল ডিমাই মোগলাই’ ! সাথে কাঁচা মরিচ পেঁয়াজ দিয়ে গরম সামুচা শিঙ্গাড়া, আর ডালপুরি- আমরা অমৃতের মত করে গিলতাম! এসবের সাথে সেদিন ফেরদৌসী ভাবী যোগ করলেন দু’ট করে রসগোল্লা।

রিহার্সালশেষে পরিবেশিত হল এসব খাবারদাবার। মোগলাইয়ের দু’টো টুকরো সাবাড় করে আমার ভাগের রসগোল্লাদু’টো চুপি চুপি নিয়ে গেলাম জহর ভাইয়ের কাছে। জানতাম, মাত্র দু’টো রসগোল্লায় উনার কিছুই হবে না। মহা সমুদ্রে জলবিন্দু যেন!

রসগোল্লা দু’টো সামনে পেয়ে উনি একটা মুহুর্তের জন্য থমকে গেলেন। একবার তাকালেন আমার দিকে। পাঞ্জারির পকেট থেকে রুমাল বার করে নিজের মুখটি মুছলেন প্রথম। বাঁ হাত দিয়ে পাশের চেয়ার থেকে আমার কাঁধে হাত দিয়ে আমায় আঁকড়ে ধরলেন আলতো করে। এরপরে কিছুই না বলে উনি তাকিয়ে রইলেন উপরে ছাদের দিকে।

এদিকে আমার কাঁধে বাড়ছে উনার হাতের চাপ। ধীরে ধীরে টেনে আমার মাথাটা উনার বুকের কাছাকাছি নিয়ে গেলেন। আমি ক্রমশ বোকা বনে যাচ্ছি। বুঝতে পারছি না কী ঘটতে যাচ্ছে! একটু মুখ তুলে জহর ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাবার চেষ্টা করলাম। আর ঠিক তখনই উনার এক ফোঁটা অশ্রু এসে পড়লো আমার মুখে! জহর ভাই হাত দিয়ে আমার মুখটা মুছে নিয়ে আরো গভীরভাবে চেপে ধরলেন তাঁর বুকে। এভাবেই থাকলেন কিছুক্ষণ!

আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না জহর ভাইয়ের আবেগের উৎসটা কোথায়! সামান্য দু’টো মিষ্টির কারনে এত আবেগে সিক্ত হওয়ার মানুষ জহিরুল হক নন! কিন্তু ঝাঁকুনিটা লাগলো কোত্থেকে সেটাই খোঁজার চেষ্টা করছি তখোন। সেদিনও খুঁজেছি অনেক, আজো খুঁজি অবসরে। কিন্তু উত্তর মেলে নি জহর ভাইয়ের সেদিনের মনো-দৈহিক নাজুক মনস্তাপের! এটাই বোধকরি মানব চরিত্রের এক বড়ো রহস্য-পর্ব!

প্রিয় বন্ধুগণ, যে নাটকগুলো পর্দায় দেখে আমাদের সাধারণ দর্শকেরা আপ্লুত হন কিংবা মেজাজ খারাপ করে বলেন- ধুত্তুরি ছাই, কিছুই হয় নি- আমাদের সেসব ‘নাটকের পেছনের নাটক’গুলো ঘটে যায় দর্শকদের দৃষ্টির আড়ালে, নীরবে, খুবই গোপনে; শুধুই আমাদের মাঝে। অনেক মান অভিমান, পাওয়া না পাওয়া, স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, আশা-নিরাশার দোলায় দোলে শিল্পীদের জীবন। যার কিছু অংশ আলোর মুখ দেখে, আবার কিছুটা গুজবের ঝড়ে তলিয়ে যায় কালের স্রোতে!

এইতো আমরা, এইতো শিল্পী-জীবন! এইতো আমাদের সেইসব দিনরাত্রির বয়ান! কিছুটা আংশিক, কিছুটা খন্ডিত! এইতো শিল্পী জীবনের না-বলা কথনের কিছু কথন!

রবি ঠাকুরের একটি গান মাঝেমধ্যে বেশ নাড়া দেয় আমায়। গানটি শুনে ভাবি- এই বিশ্ব-মহামারীতে আমরা ক্রমশ সরে যাচ্ছি পরষ্পর থেকে; হারিয়ে যাচ্ছি দ্রুত! কেউবা দু’দিন আগে কেউবা কিছুদিন পরে- এই যা! মানব হৃদয়ের এমন কোন কুঠুরি নেই যেখানে রবি ঠাকুর প্রবেশ করেন নি; অনুভব করেন নি উত্তাপ! আগুনের পুরো আঁচটা হজম করেই লিখেছেন দু’হাত ভরে। নিচের গানটি তারই উত্তম প্রকাশ বলে মনে হয় আমার কাছে।

“তবুও মনে রেখো…
যদি দূরে যাই চলে, মনে রেখো…
যদি জল আসে আঁখিপাতে
একদিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে
তবুও মনে রেখো……”।
লিংকঃ https://www.youtube.com/watch?v=6WQnEEXRrDQ

সবাই ভালো থাকুন বন্ধুগণ।
সাবধানে থাকুন।
————————————
ছবিগুলো সেই সময়ে বিটিভির ফটোগ্রাফারের তোলা।

ফেসবুক থেকে