ভিনিউজ ডেস্ক : ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই বেজিং সফরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। দু’দিনের চীন সফরের দ্বিতীয় দিনে চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেঙের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার বেজিংয়ে ওয়াং ই-র সঙ্গে ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ২৫তম দ্বিপাক্ষিক বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের বৈঠকে অংশ নেন ডোভাল। চীনের ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে। পাশাপাশি অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত ও চিনের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেঙ ভারত-চিন সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালনার ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের উচিত কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দেখা এবং গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করা। সীমান্ত উত্তেজনার পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে এই বক্তব্যকে দেখছেন কূটনীতিকরা।
ডোভালের এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে শির ভারত সফর নিয়ে চিনের বিদেশ মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ানের কাছ থেকে এখনও স্পষ্ট কোনও ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ভারত ২০১২, ২০১৬ ও ২০২১ সালের পর চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের আয়োজক ও সভাপতি রাষ্ট্র হয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও সুস্থিতি বৃদ্ধি। ফলে ডোভালের সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
মোদী ও শি জিনপিং সর্বশেষ ২০২৫ সালের অগস্টে তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের সময় পার্শ্ববৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। এবার দিল্লিতে সম্ভাব্য নতুন বৈঠক হলে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
-আনন্দবাজার




