‘সিরিয়ায় ন্যাটোর হস্তক্ষেপ মানবো না’, হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিরাপদ অঞ্চল সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের কোনো ধরনের  অংশগ্রহণ মেনে নেবে না মস্কো। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ কথা বলেছেন। শুক্রবার মস্কো সফররত নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইনে এরিকসোন সুরিদে’র সঙ্গে সাক্ষাতের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেছেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক সমাজের হাতে অর্পণের যে পরিকল্পনা উত্থাপন করা হয়েছে তার উদ্দেশ্য যদি ন্যাটো জোটের নিয়ন্ত্রণ হয় তাহলে তা কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর গত ৯ অক্টোবর ওই অঞ্চলে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে তুরস্ক।

আঙ্কারার দাবি, উত্তর সিরিয়া থেকে কুর্দি গেরিলাদের নির্মূল করার লক্ষ্যে এ আগ্রাসন শুরু করা হয়েছে। টানা নয় দিন সামরিক অভিযান চালানোর পর তুরস্ক তা পাঁচদিনের জন্য স্থগিত রাখে।

পাঁচদিনের ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তুরস্কের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যাপারে মস্কোর সঙ্গে আঙ্কারার সমঝোতা হয়। রাশিয়ার অবকাশযাপন কেন্দ্র সোচিতে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান ওই সমঝোতায় পৌঁছান। সমঝোতা অনুযায়ী তুরস্ক উত্তর সিরিয়ায় তার সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে এবং বিনিময়ে তুর্কি গেরিলারা তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সরে যাবে।

এদিকে, সোচিতে পুতিন-এরদোয়ান বৈঠকে যে সমঝোতা হয়েছে তার বাস্তবায়নে জাতিসংঘের ভূমিকা রাখা উচিত বলে জার্মানিসহ আরো কিছু দেশ মন্তব্য করেছে।

এ সম্পর্কে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার বলেছেন, যে সমঝোতা অর্জনে জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা ছিল না তা বাস্তবায়নে এই বিশ্ব সংস্থাকে টেনে আনার অর্থ হবে অযথা জটিলতা তৈরি করা। রাশিয়া যেকোনো পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

সূত্র : পার্সটুডে