সিরিজ বোমা হামলা ছিল জঙ্গিবাদ উত্থানের অশনি সংকেত : চট্রগ্রামে আওয়ামী লীগের সভায় বক্তারা

Social Share

বিএনপি জোট সরকারের আমলে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার বার্ষিকীতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ঘটনাটি ছিল বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের অশনি সংকেত।
তারা বলেন, ‘শোকাবহ আগস্ট মাসে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারবাহিকতায় ২১ আগস্টের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির সূচনা হয়। বাংলাদেশ ৭১’র পরাজিত শক্তির ছোবল থেকে মুক্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে জঙ্গিবাদ অবরুদ্ধ। তবে শিকড় একেবারে নির্মূল হয়নি।
চট্রগ্রাম থিয়েটার ইনিস্টিটিইউটে অনুষ্ঠিত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ চৌধুরী শমসের, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।
মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ২০০৪ সালে জঙ্গিবাদের চরম আস্ফালন আমরা দেখেছি। বিএনপি-জামায়াত জোটের মন্ত্রী, এমপি এবং জিয়ার নষ্ট দুলাল তারেক জিয়া এই জঙ্গিবাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষক এবং বাঙালির জাতিসত্তা ধ্বংসের ভয়ঙ্কর শত্রু। নিয়তির পরিহাস তারেক জিয়া সকল বাজে অপকর্মের দায়ে দ-িত সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও একটি রাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন।
আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রামে ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধর্মের মূল বাণীচ্যুত করে জঙ্গিবাদীরা এই চট্টগ্রামে সংগঠিত হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ব্যারিকেড তৈরি করেছিল চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ।
“আমি স্বীকার করি ছোটখাটো ভুলভ্রান্তির তাৎক্ষণিক সমাধান হচ্ছে না বলে বিভক্তি-বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এর পরিণতি শুভ নয়। তবে আমি আশা করি, একাত্তরের পরাজিত শক্তি পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট এবং ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে যা করতে চেয়েছিল তারা তাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা” বলেন নাছির।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন- কবি শামসুর রাহমানের কবিতা উদ্বৃত করে বলেন, শত্রুকে তুমি ক্ষমা করেছো, কিন্তু শত্রু তোমাকে ক্ষমা করেনি, – এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
তিনি বলেন, ‘আজ মনে রাখতে হবে শত্রু পেছনে লেগে আছে। সেই ’৭৪র কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ, ৭৫’র ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, ২০০৪ সালের এই আগস্ট মাসেই ১৭ তারিখে সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা অপচেষ্টা একই ধারাবাহিকতার অসম্পূর্ণ নীলনকশাা। এ কারণে আমাদেরকে চোখ, কান খোলা রেখে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে জোরদার করতে হবে। ’
এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দৃশ্যমান প্রতিপক্ষকে আমরা সহজে চিনি ও জানি। তবে ঘরের শত্রুদের জানি না, চিনি না। এরা যে কোন সময় ফণা তুলবে। তাই ফণা তোলার আগেই আঘাত করতে হবে।