সিনেমা-নাটকে ধূমপানের চিত্র ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টে রিট

55
Social Share

সিনেমা-নাটকে ধূমপানের চিত্র ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, মাদক বিরোধী সংগঠন ‘প্রত্যাশা’ এবং পপুলেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (পিডিও)- এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন বুধবার এ রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে স্বাস্থ্য, আইন, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ১৪(২) ধারা সংশোধন করতে গতবছর ১১ মার্চ সংশ্লিস্টদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এ নোটিশের জবাব না পেয়ে গতকাল রিট আবেদন দাখিল করা হয় বলে জানান সংশ্লিস্ট আইনজীবী।

পরে অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জমান লিংকন সাংবাদিকদের বলেন, আইনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা অকার্যকর। সাকিব খান অভিনীত ‘শাহেনশাহ’ চলচ্চিত্রসহ অসংখ্য সিনেমা, নাটকে সিগারেটের ব্যবহার করা হলেও কোনো সতর্কবার্তা ব্যবহার করা হয়নি। বরং নানা রঙে-ঢঙে সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য আকর্ষনীয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। এভাবে সিনেমা-নাটকে আইন লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে। একারণে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন, ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ প্রণয়ন করে সরকার। এ আইনের ৫(১)(ঙ) নম্বর ধারায় বলা আছে, ‘বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত বা লভ্য ও প্রচারিত, বিদেশে প্রস্তুতকৃত কোন সিনেমা, নাটক বা প্রামাণ্য চিত্রে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য টেলিভিশন, রেডিও, ইন্টারনেট, মঞ্চ অনুষ্ঠান বা অন্য কোন গণমাধ্যমে প্রচার, প্রদর্শন বা বর্ণনা করিবেন না বা করাইবেন না।’ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ জাতীয় পণ্যের প্যাকেটের গায়েই ক্ষতির বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। যদিও ধূমপায়ীরা এসব ক্ষতি সম্পর্কিত বার্তা আমলে নিচ্ছে না।