সিএনএনের প্রতিবেদন : রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া: ড্রোন অপারেটরও পাঠাচ্ছে পিয়ংইয়ং দাবী ইউক্রেনের

 

ভিনিউজ : ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার পরিধি আরও বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ায় নতুন করে পাঠানো প্রায় ৮ হাজার ৫০০ উত্তর কোরীয় সেনার মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ড্রোন অপারেটর রয়েছেন। তারা ইউক্রেনের ভেতরে নজরদারি ও হামলায় ব্যবহারের জন্য ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে আরও বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে পিয়ংইয়ং। ফলে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে মনে করছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিৎসকি জানিয়েছেন, বর্তমানে রাশিয়ায় থাকা উত্তর কোরীয় সেনাদের বড় অংশকে কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার প্রকৌশলী ও মাইন অপসারণকারী রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ৪০০ জন ড্রোন অপারেটর রয়েছেন, যাদের অনেকেই উত্তর কোরিয়ার আগের মোতায়েন থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

স্কিবিৎসকির ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরীয় সেনারা সরাসরি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে যুদ্ধ করবে-এমন সম্ভাবনা কম। বরং রাশিয়ার পেছনের অবস্থানগুলো শক্তিশালী করার কাজে তাদের ব্যবহার করা হতে পারে। এর ফলে রুশ সেনাদের একটি অংশকে সামনের সারিতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণে পাঠানো সম্ভব হবে।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া। প্রথম বড় ধরনের সেনা মোতায়েন শুরু হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর কুরস্ক অভিযানের পর ওই অঞ্চলে রুশ সেনাদের সহায়তায় উত্তর কোরীয় সেনারা অংশ নেয়। কয়েক মাস বিষয়টি গোপন রাখার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নিজেদের সেনাদের অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করে।

স্কিবিৎসকি দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ায় মোতায়েন অথবা পর্যায়ক্রমে সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম দফায় পাঠানো প্রায় ১০ হাজার সেনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহত হয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে যাওয়া আহত সেনারা ড্রোন যুদ্ধসহ আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়ার অন্য সেনাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা শুধু জনবলেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের দাবি, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সরবরাহ করছে। স্কিবিৎসকি জানিয়েছেন, গত বছরের আগস্টের আগে অন্তত ১৫০টি কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। পরে আরও ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪০টি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি তার।

ইউক্রেনের দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে। গত ৩০ জুলাই দনিপ্রো অঞ্চলের রাদুশনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সন্দেহ রয়েছে। ওই হামলায় একই পরিবারের অন্তত চার শিশু নিহত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্কিবিৎসকি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৯০ জন সামরিক সদস্য রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সহায়তা করছেন। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিক সংস্করণগুলোর পাল্লা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার হলেও অনেক সময় লক্ষ্যবস্তু থেকে ১৫ থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে গিয়ে আঘাত হানে। তার দাবি, ইউক্রেনে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া নিজেদের অস্ত্রের নির্ভুলতা ও সক্ষমতা উন্নত করছে।

বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। স্কিবিৎসকির দাবি, পিয়ংইয়ং রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে এবং ইতোমধ্যে একটি প্যান্টসির-১ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য বৈঠকে আরও প্রায় ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কিয়েভ। তবে কিমের বোন ও উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং এমন সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ দাবি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যখন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে, তখন উত্তর কোরিয়ার সেনা, ড্রোন অপারেটর ও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা যুদ্ধের গতিপথে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে কিয়েভ। ফলে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক জোট ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও দীর্ঘ ও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পূর্বের খবরবিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!