সাড়ে চার মাসের মাথায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের বদলি, বদলির খবরে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড়

55
Social Share

মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট: বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হককে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। রোববার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের উপ সচিব এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা গেছে।
একইদিনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আরেক উপ সচিব শাহীন আরা বেগম স্বাক্ষরিত অপর এক প্রজ্ঞাপনে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের উপ সচিব মুহাম্মদ আজিজুর রহমানকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়।
জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিবের দায়িত্বে থাকা আ ন ম ফয়জুল হক বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে এটাই ছিল তার প্রথম জেলা। এতো অল্প সময়ে বাগেরহাটের কোন জেলা প্রশাসকের বদলির ঘটনা এটাই প্রথম। গত সাড়ে চার মাসে বাগেরহাটের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে কাজ করে সবার নজর কাড়েন এই জেলা প্রশাসক।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর গত ৬ জানুয়ারি এক মতবিনিময় সভায় আ ন ম ফয়জুল হক বলেছিলেন, আমার মতো অফিসার আসবে যাবে, কয়জন ডিসিকে মানুষ মনে রাখে, আমি নাম ফলক তৈরি করে এখানে কাজ করতে আসিনি। আমি কাজ করব এক সময় লোকে বলবে লোকটা বড় ভাল ছিল। ওই নাম ফলক লাগালে তা একদিন মুছে যাবে। আমি আপনাদের হ্নদয়ের নাম ফলকে স্থান করে নিতে চাই। আমি দ্বার্থহীনভাবে বলতে চাই আমার কর্মকালিন সময়ে আমার একটা টাকার অসততার খবর পান তাহলে আমাকে বলবেন আমি আমার দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাব। আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে বাগেরহাটবাসীর সাথে কাজ করতে চাই। চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়, নয় বন্ধন ছিন্ন করা। তুমি চলে গেলে, আরও অধিক কিছু থেকে যাবে, তোমার না থাকা জুড়ে।
এদিকে, প্রায় সাড়ে চার মাসের মাথায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ফয়জুল হককে বদলি করার খবরে স্থানীয় নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে হতবাক ও বিষ্মিত করেছে। রোববার রাত থেকে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের হঠাৎ বদলির বিষয়ে সরব লেখালেখি শুরু করেছেন। সোমবারও জেলা প্রশাসককে বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে পূর্নবহালের দাবি করে স্ট্যাটাস দেন অনেকেই।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাংবাদিক শেখ মোহাম্মদ আলী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমরা হতাশ ও ক্ষুব্দ। ভালো ও জনবান্ধব কর্মকর্তার কোন মূল্যায়ণ নেই। বলছি অল্প দিনের মধ্যে নিজ কর্মের মাধ্যমে জেলাবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক স্যারের কথা। গত কয়েক মাসে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যক্রমে জেলার সাধারণ মানুষ খুশি ও আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে কয়েক দিন আগে ডিসি স্যার ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন তার কার্যালয়ে বেশ কিছু পদে নিয়োগ বাণিজ্য ছাড়া লোক নিয়োগ দেয়া হবে এবং নিশ্চয়তা দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের আবেদন করতে বলেছিলেন। ডিসি স্যারের এ ঘোষণায় মানুষ উৎসাহিত হয়েছিলেন। হঠাৎ গত রাতে শুনলাম ডিসি স্যারের বদলীর আদেশ এসেছে। মেয়াদ শেষের আগেই কার স্বার্থে এ বদলী জানিনা তবে মুখ থেকে অনায়াসে একটি কথা বেরিয়ে আসছে আমাদের দেশে ভালো মানুষের মূল্যায়ন ও স্থান নেই। আমরা সাধারণ মানুষ আমাদের কিছু করার নেই কিন্তু অসময়ে ডিসি ফয়জুল হক স্যারের বদলির আদেশে ক্ষুব্ধ ও হতাশা প্রকাশ করছি। ভালো থাকবেন স্যার।
বাগেরহাট খানজাহান আলী ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক হায়দার আলী বাবু তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ফয়জুল হকের বদলি বাগেরহাটবাসীর জন্য দু:সংবাদ। তিনি ছাড়াও অনেক শিক্ষক তার বদলির আদেশের ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন।
বাগেরহাটের সংবাদকর্মী এস এস সোহান তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মাত্র অল্পদিনে বাগেরহাটবাসীকে আপন করে নিয়েছিলেন, আর বাগেরহাটবাসীও আপনাকে আপন করে নিয়েছিল। আপনার এই আকষ্মিক বদলিতে বাগেরহাটবাসীকে ব্যাথিত করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক বলেন, সরকারি চাকরি তো এমনই। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের সরকার চাইলে যখন তখন বদলি করতে পারেন। আমি গত ৩ জানুয়ারি বাগেরহাটে যোগদান করি। আমার এই কর্মস্থলের বয়স সাড়ে চার মাসের মত। আমি আমার সাধ্যমত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। দায়িত্ব পালনের সময়ে আমার আচরণে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন সেজন্য দু:থ প্রকাশ করছি। আমাকে সরকার যেখানে বদলি করবে আমি সেখানে যেতে বাধ্য।