‘সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত ভেঙে ফেলার সময় এসে গেছে’

Social Share

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজবে সম্প্রতি কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাসা-বাড়িতে ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও হামলার প্রতিবাদে শনিবার রাজধানীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান না করা হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন ডাকা হবে বলে বিক্ষোভ সমাবেশে ঘোষণা দেয়া হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে কোন কোন গোষ্ঠী সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করলেই এমন ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে ষড়যন্ত্রকারীরা। সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত ভেঙে ফেলার সময় এসে গেছে।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, ঊষাতন তালুকদার,এমপি ও নির্মল রোজারিও , বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক , বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া , বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সভাপতি নির্মল কুমার চ্যাটার্জী , বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি দিপালী চক্রবর্তী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি সাংবাদিক নিখিল মানখিন প্রমুখ। বেলা সাড়ে ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়। পরে বেলা সোয়া ১২ টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঐক্য পরিষদ। মিছিলটি ঢাকা ক্লাবের সামনে থেকে ঘুরে এসে শাহবাগ মোড়ে জমায়েত হয়। বিক্ষুব্ধরা সড়কে বসে গেলে মিনিট পাঁচেকের জন্য শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যায়।

সমাবেশে যুক্ত হয়ে ঊষাতন তালুকদার বলেন, আজকে গুটিক কয়েক সাম্প্রদায়িক কারবারি দেশে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তন করছে । কারা এসব করছে সকলে জানেন। তারা এসব করছে এ সরকারকে ডুবানোর জন্য।সরকার যদি দেশের জঙ্গিবাদকে স্তব্ধ করে দিতে পারে তাহলে এই গুটিক কয়েক লোক কেন অপকর্ম করতে সাহস পাবে ? আমরা কি কেবল তাকিয়ে থাকব, দাঁড়িয়ে থাকব?”

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, যারা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য সরকারকে উৎখাত করা। সরকারকে বলছি, দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষবেন না। যখনই সুযোগ পাবে তখনই ছোবল দেবে। আমরা এই বাংলাকে কোনোভাবেই ইসলামিক রিপাবলিক রাষ্ট্র বা তালেবানী রাষ্ট্র করতে দেব না। তিনি বলেন, আজকের রাজাকার-আলবদররা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে আছে। আজকে মুক্তিযোদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি অনুরোধ করব, এই ঘটনায় যদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসির বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততা বা গাফিলতি পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, নানা কৌশলে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন অব্যাহত আছে। বহুত্ববাদী সমাজ থেকে বাংলাদেশ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। এসব সমস্যার মৌল সমাধান গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে নিহিত রয়েছে। লালমনিরহাটে একজনকে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ক’দিন পরেই কুমিল্লায় হিন্দুদের কয়েককটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে কোন কোন গোষ্ঠী সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করলেই এমন ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে ষড়যন্ত্রকারীরা। সকল গণতান্ত্রিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা ও প্রতিরোধ করতে হবে। সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা করতে হবে।

ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, ফ্রান্সের ঘটনায় বাংলাদেশে একটি মহল সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা উপায়ে গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান নির্মল রোজারিও।