সাবেক এমপি রানা ও নাহার আহমদের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

44
Social Share

কাজল আর্য, স্টাফ রিপোর্টার: হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে গত ১ জুন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা। এর প্রতিবাদে (৭ জুন ) সোমবার টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সম্মেলন করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১ জুন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। আমি নাকি তপন রবিদাস নামে এক ব্যক্তিকে রিভলবার ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি প্রদান করেছি। এমনকি ২৪ ঘন্টার মধ্যে শহর ছেড়ে চলে যেতে বলেছি। তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
তিনি বলেন, তপন রবিদাস নামে কোন ছেলেকে আমি চিনি না। কখনো দেখিও নাই। এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো নাটক, যার কুশীলবরা পর্দার আড়ালে রয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি একটি মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় দীর্ঘ ৩৪ মাস ২১ দিন কারাবন্দি ছিলাম। এমন কোন ষড়যন্ত্র নাই যা আমাকে আটকে রাখার জন্য করা হয় নাই। কিন্তু মহান আল্লাহর মেহেরবানীতে ও অসীম রহমতে সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে আমি বিগত ২০১৯ সালের ৯ জুলাই জামিনে মুক্ত হই। তখন আমার বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি শুরু করতে থাকে নতুন হাইব্রিট আওয়ামীলীগরা। আমি জেলখানা থেকে বের হওয়ার পর একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হয় হাইব্রিটরা।
তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি, টাঙ্গাইল বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব বড় মনিরা টাঙ্গাইলে সুকৌশলে আরো একটি অপকর্ম করে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে আমাকে নতুন করে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। বিষয়টি আমি জানার পর প্রশাসনকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকে অবগত করি। তাদের সতর্ক নজরদারিতে কুচক্রীমহলের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। কিন্তু এরপরও তারা এখনও থেমে থাকেনি। তপন রবিদাসের সংবাদ সম্মেলনটিও এই কুচক্রীমহলের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।
টাঙ্গাইলে হত্যা, লুট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অন্যায়ের রাজত্ব কায়েমকারী হাইব্রিড মার্কা আওয়ামী লীগারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্বাস আলী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ রাজীব, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতালিব হোসেন, আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহান, দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন তালুকদার, লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফ হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ তালুকদার সুজন প্রমুখ।

এদিকে দুপুরেই এ সংবাদ সম্মেলনের পাল্টাপাল্টি ও তপন রবিদাসের পক্ষে আরেকটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের সহধর্মিনী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমদ।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে পড়–য়া তপন রবিদাস নিহত ফারুক আহমদ হত্যাকান্ডের একজন প্রতিবাদকারী। এ হত্যাকান্ডে জড়িত সাবেক এমপি রানাসহ খান পরিবারের বিরোধীতা করায় তপন রবিদাসকে রিভলবার ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে রানা। তবে এ ঘটনায় অদ্যাবধিও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি প্রশাসন।
নাহার আহমেদের অভিযোগ , খুনি খান পরিবারের প্রধান আমানুর রহমান খান রানার নেতৃত্বে পুরো টাঙ্গাইলে আবার অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছে। সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা খুনি রানার নেতৃত্বে মেতে উঠেছে।

অতিসত্বর খুনি রানার জামিন বাতিল পূর্বক গ্রেফতারের মাধ্যমে ও বিচারের আওতায় নিয়ে টাঙ্গাইলের মানুষদের স্বস্তি এনে দিতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমদ।
এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর হাজী মোর্শেদ. আমিনুর রহমান আমিন, শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সিকদার মানিক, নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের কন্যা ফারজানা আহমদ মিথুন প্রমুখ।