সাইবার অপরাধ দমনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে – হীরেন পণ্ডিত

111
Social Share

বর্তমান সরকার যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়, তার মধ্যে শীর্ষে আছে তথ্য-প্রযুক্তি। এ খাতে দেশ যথেষ্ট এগিয়েও আছে। শহরের সীমা ছাড়িয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তির মোবাইল, ইন্টারনেট গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির নানা সুফল ক্রমেই মানুষের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে। এখন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ করা সহজ হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম বা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধও দ্রুত বেড়ে চলেছে। নিরীহ মানুষ নানা ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে। আবার সরকারের বিরুদ্ধেও নানা ষড়যন্ত্র চলছে তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে। রটানো হচ্ছে নানা ধরনের গুজব। বিভিন্ন গোষ্ঠীকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক অপরাধ যেমন ঘটছে, তেমনি ছড়ানো হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা।

প্রতি ১২ সেকেন্ডে আমাদের দেশে একটি সোশ্যাল মিডিয়া আইডি খোলা হয় ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে। বিটিআরসির তথ্য মতে, এখন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার। আর মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের একটি বড় অংশ এখন হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা, যাকে বলা হয় কম্প্রোমাইজ হয়ে যাওয়া। অথবা ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। এ ছাড়া সাইবার বুলিং, অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধের ঘটনাও ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এখন নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে নেটিজেনরা। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টুইটার, ভাইবার, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ইত্যাদির মাধ্যমে অনেকেই সাইবার অপরাধীদের শিকারে পরিণত হচ্ছে। এসব ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে কারো ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হেয়প্রতিপন্ন করা, ভয় দেখানো বা মানসিক নির্যাতন বা অন্যায় কোনো কিছুতে প্রলুব্ধ করা। কিশোর-কিশোরীরাই প্রথম দিকে এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছিল। এখন বিভিন্ন বয়সীরাও এই ফাঁদে পা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ সাইবার বুলিংয়ের শিকার। তথ্য বলছে, দেশের ৪৯ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী সাইবার বুলিংয়ের নিয়মিত শিকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, দেশের তিন-চতুর্থাংশ নারীই সাইবার বুলিংয়ের শিকার। তবে এ বিষয়টি অপ্রকাশিতই থেকে যায়। মাত্র ২৮ শতাংশ অনলাইনে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করে অভিযোগ দায়ের করে। বাকিরা ভয়ে থাকে অভিযোগ করলেই তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হবে এই ভেবে। সাইবার বুলিং ছাড়াও মোবাইল ফোন বা ই-মেইলেও এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসবের ফলে নারীসহ ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, অনিদ্রা ইত্যাদি নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমনকি আত্মহননের ঘটনাও ঘটে থাকে।

তথ্য-প্রযুক্তির ফায়দা নিয়ে আবেগপ্রবণ তরুণসমাজকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টায় তৎপর একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ফেসবুকে পেজ, গ্রুপ ও ইউটিউবে চ্যানেল খুলে নানা রকম ধর্মীয় উগ্র মতবাদ প্রচার করা হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে, কোটি কোটি মানুষ এর সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে যাতে কেউ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে সে জন্য কঠোরভাবে সাইবার মনিটর করতে হবে। ইন্টারনেট সুবিধা ইজি হয়েছে। এর বহু ভালো দিক রয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু খারাপ দিকও আছে। তাই যখন কোনো ভালো কাজ করবেন তার সঙ্গে যে খারাপটা আসছে তা যেন বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে না পারে। তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সুতরাং সাইবার অপরাধ এখন রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তরুণদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ যাতে মনিটর করা যায় তার যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যেহেতু আমরা ডিজিটাল নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি, এ ক্ষেত্রে সাইবার অপরাধ মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই।

আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে, তাই সাইবার স্পেসের হুমকি ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে। আবার এগুলোকে বন্ধ করে দিয়েও যে দূরে থাকা যাবে, তা নয়। আমরা কোন কোন জায়গায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি, দেশের ভেতরের ও বাইরের শত্রু আমাদের কী ধরনের আঘাত হানতে পারে, তা কিভাবে প্রতিহত করা যায়, সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে যেকোনো ধরনের সাইবার অ্যাটাক থেকে রক্ষা পেতে পারি।

তথ্য-প্রযুক্তি অপরাধ শনাক্তে দেশের প্রচলিত আইন দুর্বল ভেবে অপরাধীচক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আতঙ্কের। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকেই (বিটিআরসি) এ বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এবারের দুর্গাপূজায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, গুগলের মতো জনপ্রিয় সেবাগুলো কি এ দেশে নিয়ন্ত্রণহীনই থেকে যাবে—এমন প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে। মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান সারা বিশ্বের মধ্যে দশম। বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। সহজলভ্যতার কারণে একদিকে যেমন বেড়ে চলছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে সাইবার অপরাধও। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককেন্দ্রিক অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে বেশি। প্রযুক্তির এই যুগে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ছাড়া জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব। প্রযুক্তি জনমুখী হয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে মানুষকে। এটা যেমন সত্য এবং যুগের বাস্তবতা, তেমনি এর অপব্যবহারও হয়ে উঠছে মানুষের যন্ত্রণার অন্যতম কারণ। স্কুল-কলেজপড়ুয়া অল্প বয়সী মেয়েরাই এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছে বেশি। শুধু যে নারী নির্যাতনের লক্ষ্যেই সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে তা নয়, আর্থিক ক্ষেত্রেও সাইবার অপরাধীরা ভয়ংকর অপরাধ করে চলেছে। মোবাইল ফোনে ভুয়া মেসেজ দিয়ে নম্বর হ্যাক করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ লোপাট করার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

এ ছাড়া আরেকটি বড় অপরাধপ্রবণতা হলো ইন্টারনেটে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো। আমরা প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে ইন্টারনেটকেন্দ্রিক প্রতারণা ও অপরাধের খবর দেখি। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরাই বলছেন, এসংক্রান্ত অপরাধের মাত্রা আরো বেশি, অনেক অপরাধের খবরই সংবাদমাধ্যমে আসে না। মান-সম্মানের ভয়ে অনেকে এ রকম অপরাধের শিকার হয়েও থানা-পুলিশ কিংবা অন্য কোনো সংস্থার কাছে অভিযোগ করছে না। ফলে অনেক ঘটনাই বিচারের আওতায় আসছে না, আর যেগুলো আসছে সেগুলোরও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্ত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে রাখতে হবে, সাইবার অপরাধ যেমন বাড়ছে, তেমনি তা দমনেও অপরাধ তদন্ত বাহিনীকে প্রশিক্ষিত হওয়া দরকার।

প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হচ্ছে এবং অপরাধীরা সেই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অপরাধ করে চলেছে। দেশের নিরাপত্তা এবং সুনাম রক্ষার স্বার্থে সাইবার অপরাধী শনাক্ত এবং দমনে প্রযুক্তিপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার বিকল্প থাকতে পারে না। পাশাপাশি প্রয়োজন হয় যুগোপযোগী আইন। দেশে এখনো সেগুলো গড়ে ওঠেনি। বিশ্বের অনেক দেশ এ বিষয়ে আইন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আইনের আওতায় এনেছে। আমাদেরও সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সাইবার অপরাধে চুপ থাকার নীতিই বড় ক্ষতির অন্যতম কারণ। পরিবারের কথা ভেবে কিংবা সম্মান হারানোর ভয়ে অনেকেই সব ‘চুপচাপ’ সয়ে যায় কিংবা চেপে যায়। অপরাধীরা এর ফলে আরো বেশি সুযোগ নেয়। তারা আর্থিক সুবিধা আদায় করতে করতে একসময় ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ফাঁদেও ফেলে। ইন্টারনেটের এই সময়ে এসে সাইবার আক্রমণ জটিল এক মনস্তাত্ত্বিক উপদ্রব। একজন ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্টভাবে সবার সামনে দোষারোপ বা খারাপ ভাষায় আক্রমণ করা। আবার একজনের ছবি বা ভিডিও বিকৃত করে অনলাইনে তুলে ধরাও বুলিংয়ের মধ্যে পড়ে। এটি এক ধরনের সাইবার অপরাধ। তবে এসব অপরাধ দমনে আইনও রয়েছে দেশে। দরকার শুধু সচেতন থাকা। যদি বিষয়টি পারিবারিক গণ্ডির বাইরে চলে যায়। তবে আইনের আশ্রয় নিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশি সহযোগিতা এড়িয়ে চললেই বরং বিপদ।

কিছু ধাপ অনুসরণ করলে এই কঠিন কাজই খুব সহজ হয়ে যায়। এর মধ্যে প্রথম কাজ হচ্ছে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা। সঙ্গে রাখতে হবে হয়রানির প্রমাণও। স্ক্রিন শট কিংবা মেসেজ। হয়রানির শিকার যে কেউ এখন ৯৯৯ অথবা পুলিশের ফেসবুক পেজে নক করলেও সহায়তা পেতে পারে। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১০৯২১ নম্বরে গোপনীয়তা রক্ষা করে এ ধরনের সমস্যার সমাধান করা হয়। সরাসরি বিটিআরসির ফোনে ও ই-মেইলেও অভিযোগ করা যায়। বিড়ম্বনার শিকার যে অনলাইন জগতে, সেই জগতেই এর সুরাহা সন্ধানেরও পথের দিশা পাওয়া যাচ্ছে।

সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও অভিযোগ প্রমাণ করা সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের জন্য সময়সাপেক্ষ ও বেশ চ্যালেঞ্জিং। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (এমএলএটি) না থাকা, ইন্টারনেটসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের লগ ডাটা সংরক্ষণে গাফিলতি, সংঘটিত অপরাধ সময়মতো না জানানো এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা ও দক্ষ জনবলের অভাব। সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় ডিজিটাল ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন টিম, সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, ইন্টারনেট রেফারেল অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং, ই-ফ্রড ইনভেস্টিগেশন ও সাইবার ক্রাইম নিয়ে তদন্তের জন্য বিভিন্ন টিম কাজ করছে।

ফেসবুক, ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা সামাজিক অস্থিরতার ভিডিও শেয়ার বা বার্তা ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুজব সৃষ্টিকারী এসব ভিডিও বা বার্তার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদেরও খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ছে। সাইবার জগতে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে নিয়মিতভাবেই দেশি-বিদেশি অনেক চক্র মোটা অঙ্কের অর্থ লুটে নিচ্ছে। বিগো লাইভ, টিকটকসহ এ ধরনের অ্যাপস সামনে রাখছে অপরাধীরা, কিন্তু এর নেপথ্যে বড় ধরনের ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম জড়িত। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনের এসব অপব্যবহার ও অপপ্র্রচার এখনই রোধ করতে হবে এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও রিসার্চ ফেলো, বিএনএনআরসি