সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইদুল আনাম খান

53
Social Share

বিশেষ প্রতিনিধি: সাইদুল আনাম খান; এটা তাঁর পোশাকি নাম। শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে তিনি সাইদুল আনাম টুটুল নামে সর্বাধিক পরিচিত। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব টুটুল ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ও ভারতের ফিল্ম অ্যান্ড টিভি ইনস্টিঢিউট থেকে চলচ্চিত্র সম্পাদনায় ডিপ্লোমাধারী।
পিতা মরহুম শামছুল আনাম খান, মাতা মরহুমা শাকেরা খানম। স্ত্রী ড. মোবাশ্বেরা খানম। ঐশী আনাম ও অমৃতা আনাম নামে দুই সস্তানের সৌভাগ্যবান পিতা। সাইদুল আনাম টুটুল এ যাবৎ বেশ কয়েকটি শিল্পমানসম্পন্ন টেলিভিশন নাটক নির্মাণ করেছেন। ‘সুখের নোঙর’, ‘সেকু সেকান্দার’, ‘নাল পিরান’, ‘গল্পের শেষ আছে’, ‘দক্ষিণের ঘর’ প্রভৃতি। বেশ কয়েকটি একক ও ধারাবাহিক টিভি নাটক নির্মাণের মাধ্যমে নন্দিত নাট্য পরিচালক হিসেবে দর্শক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন। ৭ঢিট পূণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসহ অনেকগুলো প্রামাণ্যচিত্রে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮২ সাল থেকে জাতীয় ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং ২০০৫ সাল থেকে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিল্ম এ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে’ খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন। তাঁর পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আধিয়ার’। ৩৫টির মতো টেলিভিশন নাটক, ১০টি টিভি সিরিয়াল, ৩টি ডকুমেণ্টারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক বিজ্ঞাপন ও মোটিভেশনাল ফিল্ম পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও তিনি ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ২টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও ৭টি প্রামাণ্য চিত্রের সম্পাদনার কাজ করেছেন। সাইদুল আনাম টুটুল ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ চলচ্চিত্র সম্পাদনার জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র সম্পাদক হিসেবে ১৯৭৯ সালে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’, ‘ঘুড্ডি’, ‘দহন’, ‘আধিয়ার’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি যথাক্রমে ১৯৭৯, ৮০, ৮৫ এবং ২০০৩ সালে মোট চারবার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র সম্পাদক হিসেবে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি’-এর পুরস্কার লাভ করেন। টিভি নাটক পরিচালনায় শ্রেষ্ঠ নাট্য পরিচালক হিসেবে ১৯৯৭ সালে টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদ (টেনাশিনাস) কর্তৃক ও ১৯৯৯ সালে মেরিল প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার-এ ভূষিত হন। এ ছাড়াও নাট্য পরিচালনার জন্য ইমপ্রেস টেলিফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ১৯৯৮-১৯৯৯ এবং ২০০২ সালের বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি ও বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কর্তৃক শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন। তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আধিয়ার’ ২০০৩ সালে, মেরিল প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার, চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি কর্তৃক প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালনা ও সম্পাদনসহ মোট পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে। এছাড়াও দেশে ও বিদেশে পাঁচটি চলচ্চিত্র উৎসবে ‘আধিয়ার’ প্রদর্শিত হয়েছে।

১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত বরেণ্য চলচিত্র ও নাট্য নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল মঙ্গলবার বেলা ৩টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে সাইদুল আনাম টুটুলের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার দুই মেয়ে ঐশী আনাম ও অমৃতা আনাম এখন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী।