সর্বজনীন পেনশন পাবেন যারা, যেভাবে

64
Social Share

দেশের ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী যোগ্য বিবেচিত লোকজন তাদের ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত সর্বজনীন পেনশন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মন্ত্রিসভা আজ ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২২’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন (আইন মন্ত্রকের যাচাই-বাছাইয়ের পরে) দেওয়ায় দেশের প্রতিটি ব্যক্তি, এই প্রকল্পের সুবিধা লাভের ভিত্তিতে, ৬০ বছর বয়সী হওয়ার পরে পেনশন পেতে শুরু করবে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে আজ মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের পাশাপাশি, বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে বয়স্ক ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই পেনশনের সুবিধা পেতে পারেন।

তিনি বলেন, পেনশন স্কিমের আওতায় আসার জন্য একজনকে কমপক্ষে ১০ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়াম দিতে হবে। ৬০ বছর পূর্ণ করার পরে সেই ব্যক্তি মৃত্যু পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন।

এখন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে যাচাই-বাছাই শেষে আইনটি জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল বাংলাদেশি নাগরিক এই পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আর এতে অংশ নিতে পারবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। তারা (প্রবাসী) নিবন্ধিত হতে এবং প্রিমিয়াম প্রদান করতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, জনগণের বেকারত্ব, ব্যাধি, পঙ্গুত্ব, বার্ধক্য কারণে অভাবগ্রস্ততা এবং দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি পেনশন এবং সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে আনার জন্য অর্থ বিভাগ থেকে আইন উপস্থাপন করা হয়েছে।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যদি কোনো বয়স্ক ব্যক্তি ৭৫ বছর বয়সের আগে মারা যান তবে নমিনি বাকি সময়ের জন্য পেনশন পাবেন। তিনি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ৬২ বছর বয়সে কেউ মারা গেলে তার নমিনি ১৩ বছর পেনশন পাবেন।

তিনি আরো জানান, এ ছাড়া প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে গিয়ে কেউ মারা গেলেও তার বয়স ৬০ বছর না হলে সেই ব্যক্তির মনোনীত ব্যক্তি এককালীন সুবিধাসহ জমাকৃত অর্থ পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তির বয়স ২০ বছর এবং তিনি এই পেনশনে অবদান রাখছেন। যদি তিনি ৩০ বছর বয়সে মারা যান তবে তার মনোনীত ব্যক্তি জমাকৃত অর্থ এবং এককালীন সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, তবে প্রিমিয়ামের পরিমাণ প্রস্তাবিত আইনের অধীনে একটি নিয়ম দ্বারা নির্ধারিত হবে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ থাকবে এবং অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ১৫ সদস্যের একটি গভর্নিং বডি থাকবে।