সরকার চলতি মৌসুমে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করবে : প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
Social Share

ঢাকা, ২০ এপ্রিল ২০২০ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে দেশের জনগণের খাদ্য সংকট মোকাবেলায় চলতি মৌসুমে ২১ লাখ মেট্রিক টন ধান,চাল ও গম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় বেশি চাল, ধান, আতপ ও গম সংগ্রহ করা হবে। প্রায় ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য সংগ্রহ করবে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ বোরোতে আগে যা আমরা নিতাম, তার থেকে অনেক বেশি আমরা নিচ্ছি। এখন প্রায় আমরা ৮ লাখ মেট্রিক ধান, ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন আতপ এবং ৮০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ সর্বমোট ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য আমরা সংগ্রহ করব। ’
শেখ হাসিনা আরো বলেন,‘এটা সরকার কিনে রাখবে। তাতে আমাদের আর ভবিষ্যতে কোনো অভাব হবে না। আমরা মানুষকে খাবার সহযোগিতা দিতে পারব।’
আসন্ন রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর সরবরাহ সঠিক রাখতে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘রমজান মাসে খাদ্য সরবরাহটা যাতে সঠিকভাবে হয় সেজন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নেব।’
বাজারে পণ্য সরবরাহ বজায় রাখার জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারকরণেও তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে সর্বশেষ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের আটটি জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।
ভিডিও কনফারেন্সে জেলার প্রশাসনসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সিভিল সার্জন সহ চিকিৎসকগণ, স্থানীয় মসজিদের ইমাম, আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী ও সশ¯্রবাহিনীর প্রতিনিধিগণ এবং স্থানীয় সাংবাদিক সহ ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আইইডিসিআর সংযুক্ত ছিল।
জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল এবং কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহ সদর।
এরআগে শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ৪ দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা,চট্টগ্রাম,খুলনা,সিলেট এবং বরিশাল বিভাগের ৪৩ টি জেলার সঙ্গে মত বিনিময় করেন।
মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন। গাজীপুর থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং জামালপুর থেকে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট দিনে বাজার এবং হাটও বসবে, যাতে মানুষের জীবন একেবারে স্থবির না হয়ে পড়ে। অবশ্য, খোলা মাঠে এবং সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত করে একে অপরের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখেই বসতে হবে।
সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের খাদ্যের কোনো অভাব হবে না। তাছাড়া আমাদের এখন ধান উঠছে। ধান কাটাও শুরু হয়ে গেছে। আগামীতেও ফসল উঠবে। সেই সঙ্গে তরিতরকারি ফলমূল যে যা পারেন উৎপাদন করবেন।’
ধান কাটায় সহযোগিতার জন্য তিনি আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক এবং ছাত্র সমাজের প্রতি তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘নির্দেশ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ছাত্রলীগের কর্মীরা মাঠে নেমে গেছে এবং কৃষকদের সহযোগিতা করছে। স্ব স্ব এলাকায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ধান কাটছে।
তাছাড়া যান্ত্রিকভাবেও ধান কাটার জন্য তাঁর সরকার দুশো কোটি টাকার প্রণোদনা রেখেছে এবং সরকার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানোর প্রকল্প গ্রহণ এবং মানুষের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগও তিনি তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশে কোন জমি ফেলে না রাখার পাশাপাশি একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানোর অংশ হিসেবে ধান কাটার পরপরই সেই জমিতে অন্য ফসল লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন,‘ এই সংকটে দেশে যেন খাদ্যর সমস্যা না হয় সেজন্য সব জমিতে ফসল ফলাতে হবে। দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেদিকে সকলে দৃষ্টি দেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কৃষিখাতে চলতি মূলধন জোগানোর জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করে দিয়েছি এবং মাত্র ৪ শতাংশ সুদে আমরা কৃষি ঋণ দিচ্ছি।’
বর্গা চাষিদের জন্য সরকার প্রদত্ত বিনা জমানতে কৃষিঋণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা প্রায় ৯ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার ভর্তুকিও দিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে রপ্তানিমুখী খাত, বৃহৎ শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসায়ীর জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। পরে কৃষি খাতের জন্য প্রণোদনা দিয়েছি। এই প্রণোদনা কেবল ধান চাষিদের জন্য নয়, মৎস্য-পোল্ট্রি-ডেইরি সব খাত,ফল-মূল,ফুল,তরিকরকারী উৎপাদনকে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং কোনো খাত প্রণোদনা থেকে বাদ পড়বে না।’
করোনা যুদ্ধ মোকাবেলায় সরকারের সুদুর প্রসারী পরিকল্পনার অংশই এই প্যাকেজ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন,‘যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে, তা শুধু এই বছরের জন্য
না। আগামী তিন বছর দেশের অর্থনীতির চাকা যাতে সচল থাকে সেটা মাথায় রেখেই এই প্রণোদনা। যা অব্যাহত রাখা হবে ।’
সরকার প্রধান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ৫০ লাখ সুবিধাভোগীর সঙ্গে রেশন কার্ডের মাধ্যমে আরো ৫০ লাখ যোগ করে সুবিধাভোগীর সংখ্যা সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করায় সরকারের সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। যার মাধ্যমে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি লোক সরাসরি উপকারভোগী হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,যেখানে ডাটাবেজ করা থাকবে। যার মাধ্যমে কার্ডধারীরা ১০ টাকা কেজি দরে ওএমএস’র চাল ক্রয়ের সুযোগ পাবেন।
তিনি নতুন ৫০ লাখ লোকের তালিকায় দলমত নির্বিশেষে যাদের প্রয়োজন সেরকম কেউ যেন বাদ না পড়ে এবং যারা হাত পাততে পারেন না তেমন কেউ যেন খাদ্য সাহায্য বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
যেকোন ধরণের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা সকলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণ সহায়তা ঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানান।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো একটু সীমিত হয়ে গেছ। তাই প্রতিটি জেলার জন্য একেকজন সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছি। এই ত্রাণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট জেলায় খোঁজ-খবর নেবেন এবং আমাকে রিপোর্ট দেবেন।’
তিনি বলেন, তাঁর দলের লোকজনকে (আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্রলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন) নির্দেশ দেয়া রয়েছে যারা একেবারে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কমিটি করে দেবেন। সেখানে সত্যিকার যাদের ত্রাণ পাওয়ার কথা তারা যাতে পায়, সে তালিকা প্রণয়নেও সহযোগিতা করবেন এবং যাদের প্রয়োজন সেসব ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখবেন।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং অবস্থান পরিবর্তন না করে নিজ নিজ অবস্থানে অবস্থান করার আহবানও পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘করোনা সংকট মোকাবেলায় আমরা মানুষকে সচেতন করতে পেরেছি বলেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সবাই সচেতন হলে করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব হবে।’
‘আরেকটু সচেতন হলেই বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং অযথা ঘোরাঘুরি করে নিজেকে এবং অন্যের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না,’যোগ করেন তিনি।
সারাদেশে করোনা চিকিৎসায় কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য ৫০৭ প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনার কারণে সারা বিশ্ব আজ আতঙ্কিত। সারাবিশ্বের প্রায় আড়াইশ কোটি মানুষ ঘরবন্দি। আমার মনে হয় সারাবিশ্বে আগে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখেনি। করোনায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির। বন্ধ রয়েছে মসজিদ-মন্দির-গির্জা,প্যাগোডাসহ সব প্রার্থনার কেন্দ্র।’
কাজেই সকলকে ঘওে বসেই নামাজ আদায় করার এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার আহবানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ভালো আছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি চলমান এপ্রিল মাসে যেন সংক্রমন অধিকহারে বাড়াতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক করে বলেন, ‘এপ্রিল মাসটি আমাদের জন্য একটু কষ্ট হবে। এ মাসে সাবধানে থাকতে হবে। তারপরও ইউরোপ-আমেরিকায় যে পরিমাণ রোগ সংক্রমিত হয়েছে তার তুলনায় আমাদের দেশে কম। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র অনেক উন্নত দেশেই বাঙালি মারা গেছে ।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশীদেও মৃত্যুতে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তুপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সরকার প্রধান।
গত ৫ এপ্রিল পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেয়ার বিষয় তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সুপারভাইজারকে দিয়ে শ্রমিকদের ফোন করিয়ে ডেকে আনা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। মাইলের পর মাইল হেঁটে এসেছে, অনেক বাবা তার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। যে সময় গাড়ি বন্ধ ছিল।’
গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের আনার ব্যবস্থা যেমন করতে হবে তেমনি কর্মস্থলে নেয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।’
গাজীপুরে শিল্প কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা ইন্ড্রাস্টিয়াল বেল্ট, আমাদের লক্ষ্য আছে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার। বিশেষ করে যারা রপ্তানি বেজড।’
তিনি বলেন, ‘লকডাউন নিশ্চিত করে সীমিত পর্যায়ে হলেও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। সেটি কীভাবে করা যায় নিশ্চিত করতে হবে। তবে এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শর্ত মেনেই কাজ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সামনে রমজান মাস। আমরা তো সবাইকে বসিয়ে রাখতে পারব না। কিছু কিছু ফ্যাক্টরি খোলা রাখতেই হবে। তবে সবাইকে একসঙ্গে আনা যাবে না এবং সুরক্ষা দিয়ে সীমিত আকারে তাদের আনার ব্যবস্থা করতে হবে।’
গার্মেন্টস মালিকরা করোনার সুরক্ষা সামগ্রী তৈরির নামে অন্য কাজ করছেন এবং কিছু গার্মেন্টস কারখানার সমন্বয়ের অভাবে গাজীপুর জেলা আজ করোনা আক্রান্ত বলেও ভিডিওতে কনফারেন্সে অভিযোগ করেন পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। আমি পরবর্তীতে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বসব।’
ভিডিও কনফারেন্সের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রিয় ওষধাগারের (সিএমএসডি) কর্মকর্তাদেরদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিভিন্ন মেডিকেল সামগ্রীর সরবরাহ নেয়ার সময় কেবল মোড়ক না দেখে ভেতরের বস্তুটিও দেখে এবং বুঝে নেয়ার নির্দেশ দেন। এ ধরনের কিছু অভিযোগ তাঁর নিকট আসারও ইঙ্গিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
সিএমএসডির পরিচালককে উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমাদের মন্ত্রীর কাছে কিছু ছবি পাঠিয়েছি। যারা সাপ্লাই দেয়, তারা কি সঠিকভাবে সবকিছু দিচ্ছে কিনা? নাম দিচ্ছে ভালো কিন্তু সঠিকভাবে ঠিক জিনিসগুলো যাচ্ছে না। এটা আপনাদের দেখা উচিত।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘এন ৯৫ লেখা বক্স কিন্তু ভিতরে যে জিনিটা, সেটা সঠিক থাকে কিনা। যেটা আপনাদের দেখা দরকার। মহানগর হাসপাতালে (বাবুবাজার) এটা গেছে, এটাতো কোভিডের জন্য ডেডিকেটেড। যদি এমনটা কিছু কিছু জায়গায় হয়, তাহলে তো ঠিক নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন বা যিনি এটা গ্রহণ করবেন তিনি যেন দেখেশুনে তা গ্রহণ করেন।’
প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগের সময় ভেঙে না পড়ে বরং সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যও দেশবাসী প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ আসে এবং তাকে মোকবেলাও করতে হয়। যেজন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তবে, জনগণের সহযোগিতা চাই এজন্য যাতে এই রোগের প্রাদুর্ভাবটা ছড়িয়ে না পড়ে। সকলের সচেতনতা এখানে একান্ত অপরিহার্য।’
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,‘শিগগির সংকট কেটে যাবে। কিন্তু সাহসের সঙ্গে আমাদের এই সংকট মোকাবেলা করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা চিন্তা করেন, সমগ্র বাঙালি জাতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল।’
তিনি বলেন, ‘অনেকেই সবকিছু ছেড়ে দিয়ে অস্ত্র হাতে নেমে পড়েছিলো, তাদের পোশাক ছিলো না, একেবারে খালি পায়ে। লুঙ্গি পড়ে অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। মনে সাহস নিয়েই আমরা বিজয় অর্জন করেছি।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘এবারও করোনাভাইরাসে সেই সাহস নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এখানেও বাঙালিকে জয়যুক্ত হতে হবে। সেই চিন্তা ভাবনা নিয়েই আমরা কাজ করছি।’