সরকারের উচিত স্বাধীনতার দলিল তৈরিতে কাজ শুরু করা: এ.এস.এম সামছুল আরেফীন

166
Social Share

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) এ. এস.এম সামছুল আরেফীন বলেছেন, সরকারের উচিত স্বাধীনতার দলিল তৈরিতে কাজ শুরু করা। কেননা সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কোনো ‘প্রতিষ্ঠান’ও গড়ে তুলতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ কোনো দলিল বা কাগজপত্র সংগ্রহ নেই মন্ত্রণালয়ের।

কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার প্রথম দিন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা অনেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি জানতে ও প্রকাশ করতে আগ্রহী। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন, তারা কীভাবে সংগ্রাম করেছেন, সেটাও আজকের প্রজন্মকে জানানো জরুরি। এটা করা হলে সেই সময়ের আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি অভিমত দেন।মেজর (অব.) সামছুল আরেফীন বলেন, জীবনের পুরোটাই কেটেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। আমার বইয়ের রেফারেন্স ধরে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়েছে।

কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত মাঠে “বিজয়ের দৃপ্ত শপথে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে” শ্লোগানে শুরু হওয়া বিজয় মেলার প্রথম দিনের আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অধ্যাপক শিরীন আখতার বলেন, আগামি প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত করতে হলেও প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছানোর কোন বিকল্প নেই। সরকারের সকল পর্যায়ের স্তর এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ইতিহাস সংগ্রহ এবং প্রচার জরুরী। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ দ্রুত করা উচিত।

অনুষ্ঠিত বিশেষ অতিথি স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ বলেন, একাত্তরের বীর জাতিকে সাথে নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশকে একটি স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তখন ৭৫ এর কালো রাত্রি। তারপর জাতিকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে একে একে নীল নকশা তৈরী হয়েছে। সেই নীল নকশা ভেঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস পৌঁছানো ছাড়াও বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেল হিসেবে বিশ্ব দরবারে গণ্য হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কক্সবাজারের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সাংবাদিক জয়ন্ত আচার্য, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় উপ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম, জেলা জাসদ নেতা মোহাম্মদ হোসেন মাসু, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম, কক্সবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ বাহাদুর, প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বিজয় মেলা কমিটির কো চেয়ারম্যান জাহেদ সরওয়ার সোহেল।

এর আগে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কক্সবাজার আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা ২০২১ উদ্বোধন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজারের ঐতিবাহি পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা ও স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে উদ্বোধন করা হয়। বেলুন ও কবুতর উত্তোলনের পর শুরু হয় উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এতে উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। উদ্বোধনের পর বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের মহাসচিব মো. নজিবুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এরপর সমবেত কন্ঠে পরিবেশন হয় জয় বাংলা বাংলার জয় গানটি। এর পর বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এরপর সমবেত কন্ঠে তুমি বাংলার ধ্রুবতারা গান ও সমবেত নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় উদ্বোধনী পর্ব।