সরকারনির্ধারিত দামে মিলছে না ভোজ্য তেল

15
Social Share

ভোজ্য তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার তেলের দর নির্ধারণ করে দিলেও তা মানা হচ্ছে না। রাজধানীর কোনো বাজারেই নির্ধারিত দরে ভোজ্য তেল বিক্রি হচ্ছে না।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার ও নিউমার্কেটসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১১৬ থেকে ১২০ টাকায় ও বোতলজাত সয়াবিন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৬৪০ থেকে ৬৫০ টাকায়। প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১০৭ টাকা।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) গতকাল তাদের দৈনন্দিন খুচরা বাজারদরের যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতেও সরকার নির্ধারিত দরে ভোজ্য তেল বিক্রি না হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেল সয়াবিন ও পাম অয়েলের সরবরাহ কম—এমন অজুহাতে গত প্রায় দুই মাস ধরে অস্থির দেশের ভোজ্য তেলের বাজার। পরে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটি ভোজ্য তেলের দর নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত দর অনুযায়ী খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১১৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন ১৩৫ টাকা, পাম অয়েল ১০৪ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

গতকাল একাধিক খুচরা বিক্রেতা বলেছেন, বিভিন্ন কোম্পানি থেকে আমাদের সরকার নির্ধারিত দরে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল বিক্রির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এছাড়া এখন যে সয়াবিন, পাম অয়েল বিক্রি করছি তা আগের কেনা। আমরা কম দামে কিনলে কমে বিক্রি করতে পারব।

অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সেই বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, এখন থেকে কমিটি নির্ধারিত দরে বাজারে ভোজ্য তেল বিক্রি হবে।

গতকাল নিউমার্কেটে বাজার করতে এসে ক্রেতা আনজাম চৌধুরী বলেন, সরকার ভোজ্য তেলের দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পর দুই দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। তাহলে দাম নির্ধারণ করে কি লাভ হলো?

এদিকে বাজারে চালের দাম আবার বাড়তি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে মাঝারিমানের চালেরও। প্রতি কেজিতে দুই টাকা বেড়ে পাইজাম/লতা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়। আর মোটা চাল কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়।

দাম বেড়েছে আটারও। প্রতি কেজি খোলা আটা দুই টাকা বেড়ে ৩০ থেকে ৩২ টাকা ও প্যাকেট আটা তিন টাকা বেড়ে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খোলা ময়দা কেজিতে দুই টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায়।

তবে পেঁয়াজের দাম কমেছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ পাঁচ টাকা কমে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় ও আমদানিকৃত পেঁয়াজে দুই টাকা কমে ১৮ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সবজির বাজার এখনো ভোক্তাদের নাগালের মধ্যেই আছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি শিম ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করল্লা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, নতুন আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা, ঝিঙা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ১৫ থেকে ২০ টাকা, গাজর ১৫ থেকে ২০ টাকা, টম্যাটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রোকলি আকারভেদে ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে লাগামহীনভাবে বেড়েছে লেবুর দাম। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকায়।