সম্প্রীতি বাংলাদেশের ওয়েবিনারে দেবী শেঠির বক্তব্য

17
Social Share

নিরঞ্জন রায়:  গত ১৬ জানুয়ারি সম্প্রীতি বাংলাদেশ ‘সম্প্রীতির সংলাপ’ শিরোনামে একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করে। সেই ভার্চুয়াল সংলাপে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবী প্রসাদ শেঠি। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও নাট্যব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন এই সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। সুদূর টরনটো থেকে ইন্টারনেটের বদৌলতে নিজেও এই অসাধারণ অনুষ্ঠানটি দেখার সুযোগ পেয়েছি।

পীযূষদাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা এই জন্য যে, তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সম্প্রীতি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। অনেক সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি এই সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে আছেন আরেক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকল ধর্মের বিবেকবান মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের কোন বিকল্প নেই। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিবেকবান মানুষই পারে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির সম্পর্ক নিশ্চিত করতে। অতীতে আমাদের দেশে যখনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে তখনই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিবেকবান মানুষ এগিয়ে এসেছেন এবং এই অপচেষ্টা রুখে দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেছেন। নিজেও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং যতবারই পীযূষদার সঙ্গে কথা হয়েছে ততবারই তাকে আমার এই বিশ্বাসের কথাটি জানিয়েছি এবং তার নিজের বিশ্বাসও এটাই। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি হয়ত এই বয়সে এসেও দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার মূলমন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার উদ্দেশ্যে সম্প্রীতি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এখন পর্যন্ত যতটুকু এগিয়েছেন তাতে তিনি সফল হয়েছেন। সত্যি বলতে কি, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল এই দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্প্রীতি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অল্পদিনের মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরে এবং এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ ভাল পরিচিতি পেয়েছে। মানুষের মাঝে আগ্রহও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এই করোনা মহামারীর সময়েও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। একের পর এক নিয়মিত আয়োজন করে চলেছেন ওয়েবিনার, যেখানে দেশের গুণীজন ছাড়াও, অনেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি আলোচনা করেন। আমি নিজেও এরকম একটি ওয়েবিনারে অংশ নিয়েছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠিকে তাদের অনুষ্ঠানে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

ডাঃ দেবী শেঠিকে নিয়ে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে লেখা সম্ভব নয়। কেননা তাকে নিয়ে বিশ্বের অনেক প্রথিতযশা লেখক প্রতিনিয়তই লিখছেন। দেবী শেঠি একজন খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে যে শুধু ভারতবর্ষ বা এশিয়াতেই সুপরিচিত তেমন নয়, তিনি সারাবিশ্বেই এমনকি উন্নতি বিশ্বেও খুবই পরিচিত। বিশ্বে তার মতো বা তার চেয়ে অনেক ভাল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হয়ত আছেন এবং ভবিষ্যতেও হয়ত থাকবেন, কিন্তু দেবী শেঠির বিশেষত্ব হলো যে, তিনি এই হৃদরোগের সুচিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছেন। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে মাত্র এক লাখ রুপী বা মাত্র দেড় হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যেই যে কোন ধরনের হৃদরোগের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা এবং পর্যায়ক্রমে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও কমিয়ে নিয়ে আসা। এই উদ্দেশ্যে তিনি ভারতের কলকাতাসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে তার নারায়ণী হাসপাতালের শাখা স্থাপন করে স্বল্প খরচে হৃদরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসাসেবা গরিব মানুষের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। এমনকি তার নারায়ণী হাসপাতালের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে অস্ত্রোপচারসহ জটিল হৃদরোগের চিকিৎসাসেবা আমেরিকার সন্নিকটে ক্যারিবিয়ান দেশগুলোতেও পৌঁছে দেয়ার কথা জেনেছিলাম অনেক আগেই। দেবী শেঠির ব্যাপারে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, তার কাছে গেলে অনেক রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না, ওষুধ খেয়েই ভাল হয়ে যায়। বাংলাদেশের অনেক রোগীকে বাইপাস অপারেশন করার জন্য স্থানীয় ডাক্তাররা সুপারিশ করলেও তাদের অনেকেই দেবী শেঠির কাছে যাবার পর ওষুধ খেয়েই বেশ সুস্থ আছেন। আমার এক নিকট আত্মীয়কেও ঢাকা এবং কলকাতার উভয় ডাক্তার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার বাইপাস সার্জারি ছাড়া কোন বিকল্প নেই। কিন্তু দেবী শেঠির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তার আর সার্জারির প্রয়োজন হয়নি এবং কিছু নিয়ম মেনে ও ওষুধ খেয়ে বেশ ভাল আছেন। এখানেই দেবী শেঠির বিশেষত্ব, যার তুলনা তিনি নিজেই। দেবী শেঠি যে কোন স্থানের যে কোন রোগীকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখে থাকেন। কিছুদিন আগে আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর হার্টে কয়েকটি ব্লক ধরা পড়ে এবং ঢাকার একাধিক ডাক্তার তাকে বাইপাস সার্জারির পরামর্শ দেন। আমি তাকে ভারতের নারায়ণী হাসপাতালে দেখানোর কথা বলেছিলাম। সে ব্যাঙ্গালুরুতে নারায়ণী হাসপাতালে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে দেবী শেঠির পরামর্শ প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশের মফস্বল শহরের একজন সাধারণ মানুষের এমন অনুরোধ দেবী শেঠির মতো একজন বিশ্ববিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রাখবেন এমনটা কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু দেবী শেঠি ঠিকই তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব কাগজপত্র ইমেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে একদিন পূর্বনির্ধারিত সময়ে জুম মিটিং-এর মাধ্যমে আমার সেই বন্ধুর সঙ্গে প্রায় দশ মিনিট কথা বলে তার জন্য সঠিক চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। এখানেই দেবী শেঠির শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের সেই ওয়েবিনারে দেবী শেঠি প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে তথ্যবহুল গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন, যা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য তো বটেই, এমনকি আমাদের দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারের জন্য খুবই প্রণিধানযোগ্য। তিনি বিশ্বের স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে যেসব মূল্যবান তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন তা এক কথায় অবাক করার মতো এবং অনেকে জানেনও না। উন্নত বিশ্বে বাস করে সমসাময়িক সকল বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখার চেষ্টা করলেও স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো একেবারেই জানা ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত, যেখানে বছরে আট ট্রিলিয়নের অধিক মার্কিন ডলারের ব্যবসা হয়ে থাকে। এর পরেই আছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত, যেখানে বাৎসরিক ব্যবসার পরিমাণ তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো। আমেরিকার নিকটতম দেশ কিউবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডাক্তার-নার্স পাঠিয়ে বছরে প্রায় আঠার বিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করে। কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেমন কোন ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে না, তেমনি মার্কিন ডলারে কোন লেনদেনও করতে পারে না। তা না হলে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জন যে কোথায় গিয়ে ঠেকত তা কল্পনা করাও কঠিন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফিলিপিন্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ডাক্তার-নার্স পাঠিয়ে বছরে প্রায় ছাব্বিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করে। এই তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে দেবী শেঠি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভারতও বিদেশে ডাক্তার-নার্স পাঠিয়ে বছরে প্রায় এক শ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করতে সক্ষম হবে। প্রয়োজন শুধু এই খাতে যথাযথ বিনিয়োগ করে উপযুক্ত এবং মানসম্পন্ন ডাক্তার-নার্স গড়ে তোলা।

ভারত যদি ডাক্তার-নার্স বিদেশে পাঠিয়ে বছরে এক শ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করার কথা ভাবতে পারে তাহলে আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশও বছরে অন্তত পঁচিশ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করতে পারবে শুধু ডাক্তার এবং নার্স বিদেশে পাঠিয়ে। প্রয়োজন শুধু যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং এই খাতে কিছু বিনিয়োগ করা। কাজটা মোটেও কঠিন নয় এবং কিভাবে করা সম্ভব তা কিছুটা দেবী শেঠি সেই ওয়েবিনারে আলোচনা করেছেন। আমাদের দেশে এই খাতে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তারা দেবী শেঠির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন উন্নত দেশে বসবাস করে একটা বিষয় নিশ্চিত হয়েছি যে, আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ল্যাটিন আমেরিকার দেশ, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোতে ডাক্তারের যেমন চাহিদা আছে, তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি চাহিদা আছে নার্স এবং জুনিয়র নার্সের অর্থাৎ পিএসডব্লিউ (পার্সোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার)। তবে এসব দেশ বিদেশ থেকে সেসব ডাক্তার, নার্স বা পিএসডব্লিউ আনবেন যারা তাদের নির্ধারিত মান অর্জন করতে পারবে এবং তাদের নির্ধারিত সার্টিফিকেশন লাভ করতে পারবে। এই কাজটাই সবচেয়ে কঠিন। এজন্য দীর্ঘমেয়াদী কঠোর অধ্যবসায় এবং ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন। আমাদের দেশে এখন সরকারী-বেসরকারী মিলে প্রতিবছর অসংখ্য ডাক্তার-নার্স বের হয়। তাদের অনেকেই হয়ত মানসম্পন্ন নয়। আবার অনেকেই আছে তারা যথেষ্ট মেধাবী, তবে সঠিক সুযোগের অভাবে মান অর্জনের পরীক্ষায় উতরাতে পারেনি। সরকারের কাজ হবে স্বাস্থ্য খাতের এসব মেধাবীকে সংগ্রহ করে তিন/চার বছর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিকমানের সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তরণের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোর্ড বা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার কাজ হবে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী ডাক্তার এবং নার্স নির্বাচন করা। আমাদের দেশের পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা এই ধরনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করে থাকে এবং প্রয়োজনে তাদের মাধ্যমে এই কাজটি সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব। বাংলাদেশে এখন অনেক উন্নতমানের হাসপাতাল আছে। যেমন, সিরাজগঞ্জে খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, ল্যাবএইড হাসপাতাল এবং আরও অনেক আধুনিক হাসপাতাল। তাছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেক বৃহৎ হাসপাতাল আছে। এসব মানসম্পন্ন হাসপাতালের সঙ্গে একটি বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাইকৃত মেধাবী ডাক্তার ও নার্সদের বিদেশের সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং পরবর্তীতে বিদেশে চাকরি দিয়ে পাঠানোর জন্য তৈরি করা সম্ভব। মূলত এই কথাগুলোই দেবী শেঠি সেই ওয়েবিনারে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। কাজটি আপাতদৃষ্টিতে কঠিন বা অসম্ভব বলে প্রতীয়মান হতে পারে, তবে একবার শুরু করে সিস্টেমে ফেলে দিতে পারলে সিস্টেমই উদ্যোগটিকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ কথা সত্যি যে, আগামী কয়েক দশক উন্নত বিশ্বের স্বাস্থ্য খাত হবে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বাজার। আইটি খাতের মতো পিছিয়ে না থেকে সঠিকভাবে এই বাজার ধরতে হলে আমাদের দেশে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন। সম্প্রীতি বাংলাদেশের ওয়েবিনারে দেবী শেঠি যথার্থই স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আবেদন রেখেছেন।

লেখক : ব্যাংকার, টরনটো, কানাডা