সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ পালিত হবে রথ উৎসব

Social Share

কিন্তু এবছর থাকছে না কোনো আড়ম্বর। দেশের মন্দিরগুলো থেকে রাজপথে বের হবে না শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। এবার মনের ভক্তিটুকুকে সম্বল করেই জগদ্বীশ্বরকে বরণ করবেন ভক্তরা। প্রার্থনা থাকবে জগতের সবার মঙ্গলের, আর করোনামুক্ত বিশ্বের।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) রথযাত্রা উপলক্ষে সীমিত পরিসরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামানায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ। আজ ইসকন আশ্রমে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এবছর রথযাত্রার সব অনুষ্ঠান স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শোভাযাত্রা বের করা হবে না এবং ভক্তদের উপস্থিতও সীমিত রাখা হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথারীতি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠান পালন করা হবে। রথ টানার ক্ষেত্রে অবশ্যই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মন্দির অঙ্গনের সীমানায় রথটানা সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি যেন উপেক্ষিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও উৎসব পরিচালকদের অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথদেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথদেবের প্রতিমূর্তি রেখে রথযাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আগামী পহেলা জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে।

শুভ রথযাত্রা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ধামরাইয়ে রথযাত্রা উৎসব বাতিল : ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ধামরাইয়ের শ্রীশ্রী যশোমাধবের বার্ষিক রথযাত্রা উৎসব ও তার মাসব্যাপী মেলা এবার অনুষ্ঠিত হবে না। করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার জনসমাগম নিষিদ্ধ করায় গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করার পর গতকাল সোমবার রথযাত্রা না করার সিদ্ধান্ত নেয় যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটি। আজ মঙ্গলবার এই রথযাত্রা উৎসব ও মাসব্যাপী মেলা অনুষ্ঠানের কথা ছিল।
তবে সীমিত আকারে মন্দিরের ভেতরেই কমিটির কয়েকজন শুধু ধর্মীয় পূজা অর্চনা করবেন। মাধবসহ সব বিগ্রহ মাধবের কথিত শ্বশুরালয় যাত্রাবাড়ী মন্দিরে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি ডা. অজিত বসাক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন।

উল্লেখ্য, ধামরাইয়ে প্রতি বছরই আষাঢ়ের শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে এই রথযাত্রা উৎসব ও মাসব্যাপী মেলা শুরু হয়। এ উৎসব প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের লাখো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ধামরাইয়ের মিষ্টি ব্যবসায়ী প্রাণ গোপাল পাল বলেন, এবার সব বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরাও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন। এই রথ উৎসবে কয়েক মাসের আয়-রোজগার হতো, এবার হবে না।

গতকাল সোমবার যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি ডা. অজিত কুমার বসাকের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় রথযাত্রা উৎসব না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় রথ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি অসিত বরণ গোস্বামী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন, প্রচার সম্পাদক দেশ টিভি ও ভোরের কাগজের সাংবাদিক দীপক চন্দ্র পালসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।