সবজিতে স্বস্তি, চাল ও তেলে অস্বস্তি বাজারে

66
Social Share

চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্য তেলের বাজারে অস্বস্তি কাটেনি। এর মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এ সপ্তাহে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, কুয়াশার কারণে পণ্যবোঝাই গাড়ি আসতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তাই বাজারে পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে বাজার ঘুরে পেঁয়াজ ও রসুনের তেমন ঘাটতি চোখে পড়েনি। সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও বাজারভেদে দামে বেশ পার্থক্য দেখা গেছে।

গতকাল রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা, ভাটারার কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল কেজিতে সাত টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা চলছে। একই অবস্থা রসুনেরও। আগের সপ্তাহে দেশি রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গতকাল ১২০ টাকা পর্যন্ত দাম চাইলেন বিক্রেতারা। আমদানি করা রসুনের দাম ১০ টাকা বেড়ে ১১৫ থেকে ১৩০ টাকায় উঠেছে। দেশি আদা কেনা যেত ৭০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে, এখন ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, আমদানি করা আদা কিনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

এদিকে ভোজ্য তেলে সুখবর আসতে পারে আগামী মার্চে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে সামনে সয়াবিনের মৌসুম শুরু হচ্ছে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে আসবে। এ সময় মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের পিক সিজনও শুরু হবে।

দেশে তদারকি থাকলে দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন মালিবাগ বাজারের নুসরাত স্টোরের কর্ণধার শাহজাহান মিয়া। ফলে তেলের বাজারে স্বস্তি পেতে আরো এক থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। গতকালও খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা লিটার দরে। পাম সুপার অয়েল বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা এবং পাম লুজ অয়েল বিক্রি হয়েছে ১০৫ টাকা লিটার দরে। এই দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে কয়েক মাস ধরে। বাজারে গত সপ্তাহ থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় উঠেছে। একসঙ্গে পাঁচ লিটার নিলে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত রাখছেন বিক্রেতারা। বড় দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় নেমেছে। ছোট দানার দেশি মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে।

চিনির দামে শুল্কহার কামানোর প্রভাব বাজারে দেখা যায়নি। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে, যা মাসখানেক আগেও ৬২ থেকে ৬৫ টাকা ছিল। টিসিবির হিসাবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে চিনির দাম। রমজান মাস সামনে রেখে আরো বাড়তে পারে—এমন শঙ্কায় ছিলেন ক্রেতারা। তাই চিনির দামে লাগাম টানতে আমদানিকারকদের ৪ শতাংশ আগাম কর অব্যাহতি দেয় সরকার। গত ৩১ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সই করা বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধিত রিফাইনাররা এই সুযোগ নিতে পারবেন।

এদিকে সবজির বাজারে রয়েছে স্বস্তি। সব ধরনের শীতের সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। শিম, টমেটো, বেগুন, গাজরসহ প্রায় সব ধরনের সবজি রাজধানীর মুগদা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা পিস। আলু ও শালগম ২০ টাকা কেজির মধ্যেই রয়েছে। কাঁচা মরিচের দাম আগের মতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি।

জানতে চাইলে মুগদা বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, সবজির দাম নির্ভর করে কেনার ওপর। তবে কিছু অভিজাত বাজার রয়েছে, যেখানে ক্রেতারা খুব একটা দামদর করে না। সেখানে দাম কিছুটা বেশিই থাকে। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম গত সপ্তাহের মতোই, ৯০ থেকে ৯৫ টাকা ডজন দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক বাজারে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ পিস ডিম। ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।