সফল বাজেট পেশ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী’কে রাজশাহী জেলা আ: লীগ-এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন

43
Social Share
প্রদ্যুৎ কুমার সরকার: “অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যত পথপরিক্রমা”-শ্লোগান সম্বলিত সফল বাজেট পেশ করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে, সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল’কে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক-এর অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন”
বৈশ্বিক মহামারি-অতিমারি করোনা ভাইরাসের(কোভিড-১৯)দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঘাতের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অভিঘাত সফলভাবে মোকাবলা করে দেশের চলমান অপ্রতিরোধ্য উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বজায় এবং উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের অপার সম্ভাবনাময় লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট গত ৩ জুন ২০২১ খ্রি. তারিখে মহান জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল । “অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যত পথপরিক্রমা”-শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে,সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল’কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ-এর সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার ও সাধারণ সম্পাদক  সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা ।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা দেশের আপামর গণমানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় এবং দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার অভূতপূর্ব উন্নয়ন বজায় রাখতে সরকারের ৬,০৩,৬৮১ কোটি টাকার উত্থাপিত বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিক, সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমূখী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাবের বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ সহ তাঁর সুদক্ষ উপলব্ধি তুলে ধরে বলেন …”প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা । এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। কর বহির্ভুত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা । সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৬.২ শতাংশ । এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা আহরণ করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে । অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫.৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট বাজেটের জনপ্রশাসন খাতে ১৮.৭ শতাংশ ও ১৫.৭ শতাংশ, পরিবহন-যোগাযোগ খাতে ১১.৯ শতাংশ, সুদ খাতে ১১.৪ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৭ শতাংশ, ভর্তুকী ও প্রণোদনা খাতে ৬.৮ শতাংশ, জনপ্রশাসন খাতে ৬.৭ শতাংশ, প্রতিরক্ষা খাতে ৬.২ শতাংশ, স্বাস্থ্যখাতে ৫.৪ শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৫.৭ শতাংশ, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৪.৮ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪.৫ শতাংশ, কৃষিখাতে ৫.৩ শতাংশ, গৃহায়ন খাতে ১.১ শতাংশ, বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম খাতে ০.৮ শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে ০.৭ শতাংশ এবং বিবিধ ব্যয় খাতে ০.৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এবার স্বাস্থ্যখাতে করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা আলাদাভাবে থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ ও উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশ এবং জাতির সার্বিক কল্যাণের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকে অব্যাহতভাবে গতিশীল রাখতে এ বাজেট দেশের জন্য, সরকারের ব্যাপক জনকল্যাণমূখী ভিশন বাস্তবায়নে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
জেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে তুলে ধরা বিবৃতির সাথে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে বলেন-“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে এই বাজেট দেশ ও জাতির কল্যাণে একটা মাইল ফলক”।
তাঁরা উভয়েই এই অর্থবছরের উত্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণরূপে এক‌টি সফল বাজেট হিসেবে স্বীকারপূর্বক বাজেট বিষয়ে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এ মেয়াদের তৃতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামালেরও এটি তৃতীয় বাজেট। আর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের এটি ৫০তম বাজেট । বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে এবার সংক্ষিপ্ত পরিসরে বাজেট পেশ করা হয়েছে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী বিকেল ৩টা ৪ মিনিটের দিকে বাজেট বক্তৃতার শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, চার জাতীয় নেতা, মহান ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদ, অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা ২ লাখ মা-বোন এবং অন্যান্য শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া তিনি বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ।
মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেন-“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানসমূহ পুনর্বিন্যাস করে জনসমাগম এড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপন করা হচ্ছে। এ বছর (২০২১ সাল) হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান যুগপৎভাবে উদযাপিত হচ্ছে । তিনি বলেন, এ উদযাপনের লক্ষ্য হচ্ছে জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুনমন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া”।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ্যাড. মোঃ আব্দুল হামিদ মহান সংসদের প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে বাজেট বক্তৃতা শোনেন এবং অধিবেশন কার্যক্রম আনন্দের সাথে প্রত্যক্ষ করেন ।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন- “বিগত ১২টি অর্থবছর ধরে দেশে ব্যাপকভাবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছিল । কিন্তু ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির আঘাতে সমগ্র বিশ্বের মতোই অশুভ স্বাস্থ্যঝুঁকি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত করেছে। তা সত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জীবন ও জীবিকাকে অত্যন্ত গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাধান্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার”।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় করোনা মহামারির ফলে আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়েও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় অনুমোদিত হওয়া এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ্যাড. মোঃ আব্দুল হামিদ-এর অনুস্বাক্ষরিত প্রস্তাবিত বাজেটের ভিত্তিতে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার সংশোধিত বাজেট পেশ করেন ।