সততা মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ

125
সততা
Social Share

সততা মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ একটি গুণ। মানবজীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আল্লাহতায়ালা ইহ ও পরজগতে এ গুণের অধিকারী ব্যক্তির মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। সত্যিকার মুমিন সততাকে উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থেকেও ঊধর্ে্ব মনে করেন। কেননা তারা জানেন, এটি ইমান ও ইসলামের পূর্ণতা দান করে। সততা ও বিশ্বস্ততার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদাররা! আল্লাহকে ভয় কর এবং সৎ-সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গী হও।’ -সূরা তওবা :১১৯

Read more:

Marine Press Conference || Maritime Policy dialogue.

India Blocks Language About Ending Coal 

অনেক সদগুণের সমষ্টিই সততা। ইমানের ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য হচ্ছে আল্লাহতায়ালার একত্ব, ফেরেশতা, কিতাব, নবী-রাসূল, পরকাল এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা। উপরোক্ত বিশ্বাসের আলোকে ভালো ও কল্যাণমূলক কাজ সম্পন্ন করা এবং আল্লাহতায়ালার অপছন্দনীয় কথা ও কাজ পরিহার করা। আল্লাহ ও তার রাসূলু্ল্লাহর (সা.) প্রেম ও ভালোবাসা অর্জনে প্রয়াসী হওয়া। মুমিন ব্যক্তি যখন পূর্ণ সততা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে তার পুরো সত্তাকে আল্লাহতায়ালার প্রেম ও ভালোবাসার প্রাণরসে সিক্ত ও সঞ্জীবিত করে, তখন তার সামনে অফুরন্ত কল্যাণের ঝরনাধারা উন্মুক্ত ও প্রবাহিত হয়। মহৎ চিন্তায় তার হৃদয় আপ্লুত ও আন্দোলিত হয়। তার আচার-আচরণ হয় বিশুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত।

সততা ও বিশ্বস্ততা মানুষকে উন্নত, আদর্শ ও নৈতিকতায় ভূষিত করে এবং এর মাধ্যমেই ইসলামী জিন্দেগির পূর্ণতা অর্জিত হয়। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াত ও রাসূলে করিমের (সা.) অসংখ্য হাদিসে মুমিনদের সততা ও বিশ্বস্ততার গুণে গুণান্বিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে মিথ্যা থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমে এসেছে, ‘তোমরা পূর্ব দিকে কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ ফেরালে, তা কোনো প্রকৃত পুণ্যের ব্যাপার নয়; বরং প্রকৃত পুণ্যের কাজ হলো মানুষ আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতা, কিতাব, নবীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মেনে নেবে আর আল্লাহর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রিয় ধনসম্পদ, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, পথিক, সাহায্যপ্রার্থী ও ক্রীতদাসদের জন্য ব্যয় করবে। এছাড়া নামাজ কায়েম করবে ও জাকাত দেবে। প্রকৃত পুণ্যবান তারাই, যারা ওয়াদা করলে তা পূরণ করে। দারিদ্র্য, সংকীর্ণতা ও বিপদের সময় এবং হক-বাতিলের দ্বন্দ্ব-সংগ্রামে পরম ধৈর্য অবলম্বন করে। বস্তুত তারাই প্রকৃত সততাসম্পন্ন, সত্যাশ্রয়ী এবং তারাই সত্যিকার মুত্তাকি।’ -সূরা বাকারা : ১৭৭

আরও পড়ুনঃ

ডেস্কটপ-ল্যাপটপ নিরাপদ রাখতে করণীয়

অসংখ্য হাদিসেও সততার গভীরতার বিষয়টি ফুটে ওঠে। অতএব, বান্দাকে সদাসর্বদা কথা ও কাজে সততা, সত্যতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হবে এবং মিথ্যার অভিশাপ ও গ্গ্নানি থেকেও বাঁচাতে হবে। যার মধ্যে এ গুণের সমাহার থাকবে, সমাজের সব ধরনের লোক তাকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করবে। সর্বোপরি সে আখেরাতে আল্লাহর কাছে এর বিনিময় লাভ করবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই প্রত্যেক মুমিনের সততার গুণে গুণান্বিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

ভিনিউজ/তাসনিম