সঙ্গীতশিল্পী সুবর্ণা রূপা সহযোগীসহ কারাগারে

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সঙ্গীতশিল্পী সুবর্ণা রূপা ও তার সহযোগী রুবেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আজ বিকেলের দিকে রূপা ও রুবেলকে আদালতে হাজির করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। মহানগর হাকিম মাইনুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ার ১৯ নম্বর সড়কের ৬০২/এ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ১০৭ পিস ইয়াবাসহ রূপাকে গ্রেপ্তার করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের একটি টিম। এ সময় তার সহযোগী রুবেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় ইয়াবা সেবনকারী তিন তরুণীকে উদ্ধার করে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।

সুবর্ণা রূপা বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী বলে তিনি জানান। তবে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, শিল্পী পরিচয়ের আড়ালে তিনি বাসায় ইয়াবা কারবার ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকেন।

জানা গেছে, সুবর্ণার শশুরবাড়ি কক্সবাজারের বাহারছড়ায়। তার স্বামী নজরুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী। সুবর্ণা দীর্ঘদিন ধরে খিলগাঁওয়ের বাসায় থাকেন। ওই বাসায় নিয়মিত গানের আসর হয়। ওই আসলে বিভিন্ন লোকজন আসে। তাদের ইয়াবা সেবনের ব্যবস্থা করা হয়। অসামাজিক কার্যকলাপেরও ব্যবস্থা ছিল ওই বাসায়। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো।

শিল্পীর পরিচয়ের আড়ালে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে আসতেন তিনি। পাইকারী হারে ইয়াবা এনে ঢাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীকে সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সহযোগী রুবেল নোয়াখালীর সেনবাগের ছাতাপাইয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মোটরসাইকেলে করে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। আবার রূপার দালালির কাজও করতেন। রুবেলের মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে দুইজনের দুটি মোবাইল ফোনসেটও জব্দ করা হয়েছে মামলায়।