সংসদে পদ্মা সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ নামকরণের প্রস্তাব গাজীপুর-৩ আসনের এমপি মো: ইকবাল হোসেনের

118
Social Share

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে পদ্মাসেতুর নামকরণের প্রস্তাব করেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: ইকবাল হোসেন সবুজ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়চেতা সিদ্ধান্তের কারণে পদ্মাসেতু তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তাই সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু করতে হবে। ইতোমধ্যে তিনি এবিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। কিন্তু আমাদেরও কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা নেত্রীর ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কাজটি করতে চাই। এখানে দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে ৩৫০ জন সংসদ সদস্য। তাই ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আমার অনুরোধ এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হোক।

স্পীকারের অনুমতি নিয়ে এমিপ ইকবাল হোসেন বলেন, ১০ ডিসেম্বর স্বপ্ন পূরনের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় পদ্মাসেতুর ৪১ তম শেষ স্প্যানটি যখন যেদিন বসানো হবে সেটা জেনে ঐতিহাসিক সেই সময়টি দেখার জন্য এবং ইতিহাসের স্বাক্ষী থাকার জন্য চলে গিয়েছিলাম ঐতিহাসিক সেই জায়গায়। আমার মতো সেইদিন হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভির করেছিলো সেই দৃশ্য দেখা ও ইতিহাসের স্বাক্ষী হওয়ার জন্য। ১২ টা ২ মিনিটে যখন শেষ স্প্যানটি বসানোর কাজ শেষ হয় অথ্যাৎ পদ্মাসেতুর মুল কাজ, ওপারের সাথে যখন সংযোগ হলো তখন অবলোকন দৃষ্টিতে সেতুর দিকে তাকালাম। তাকিয়ে সেতুকে প্রশ্ন করলাম।
সেতু তুমি কি ষ্টীল-ষ্ট্রাকচার, ইট-পথরের গড়া একটিস্থাপনা ?
উত্তর-না।
দ্বিতীয় প্রশ্ন করলাম। সেতু তুমি কি (৬.১৫ কি.মি. দীর্ঘ) বাংলার দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি জেলার সাথে রাজধানীসহ উত্তরবঙ্গের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম মাত্র ?
উত্তর-না।
তৃতীয় প্রশ্ন করেছি। তুমি কি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির বাহন মাত্র ?
সেতু উত্তর দিলো – না।
তাহলে তুমি কি?
সেতু উত্তর দিলো- আমি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর মূর্ত প্রতীক।
আমি বাংলামায়ের বিরুদ্ধে যে কাল্পনিক মিথ্যাচার দুর্নীতির অভিযোগ দিয়েছিলো তার প্রতিবাদী স্তম্ব।
আমি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যড়ষন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের প্রতীক।
উত্তরগুলো জেনে আমার জানার আগ্রহ আরো একটু বেড়ে গেলো। সেতুকে বললাম, সেতু তুমি বলো- তোমার এই প্রেরণা, সন্মান, মর্যাদা, প্রাণশক্তির উৎস কোথায়?
সেতু সহাস্যে প্রাণভরে উচ্চস্বরে, আমার কাছে মনে হলো স্বরের উচ্চতা এতো বেশী ছিলো যে, পদ্মার ঢেউগুলো কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ালো। পদ্মার ঢেউয়ের গর্জন কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেলো। সেই পিন-পত্তন নিরবতার মধ্যে ভেসে এলো একটি নাম শেখ হাসিনা…শেখ হাসিনা…শেখ হাসিনা।
সেতুর জবানিতে বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণের মনের মতের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তাই এই সেতুর নাম ’শেখ হাসিনা সেত’ু নামকরণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমি জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো এই প্রস্তাবে নিজের নামে সেতু করার সম্মতি দিবেন না। কিন্তু বাংলার তরুন সমাজ যারা আগামী দিনের এই দেশকে নেতৃত্ব দিবে, তাদের ভিরতে দেশ প্রেম মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সৎসাহস যোগাতেই শেখ হাসিনার নামটা বড় প্রয়োজন। এই নামকরণের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনাকে সম্মান দেখানোই নয়, এটা ১৬ কোটি বাঙ্গালীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। এই নামের মধ্য দিয়ে তিনি বড় হবেন না, বড় হবো আমরা।

এসময় তাঁর এ প্রস্তাবের প্রতি করতালি দিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সমর্থন জানান। এরপর বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ সমর্থন জানিয়ে বলেন, দুনিয়ার সবচেয়ে খরস্রোতা নদী পদ্মাকে শাসন করে বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে এই সেতু নির্মাণ করা। আমি আবারো দাবি জানাই এই সেতুর নাম হবে দেশরত্ন শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিনয় দিয়ে হয়তো বারবার বলবেন, ‘না’। কিন্তু আমরা এই প্রজন্মের যারা, তারা অকৃতজ্ঞ নই, আমরা জানি যখন বিশ্ব ব্যাংক ফান্ড প্রত্যাহার করে নিল, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে  অন্তরায় সৃষ্টি হলো, বঙ্গবন্ধু কন্যা সাহস করে বললেন নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বানাব এবং তিনি এটা সম্ভব করেছেন মাত্র ১২ বছরে।’