সংবিধান অনুযায়ী যাবে আওয়ামী লীগ

52
Social Share

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর বাকি থাকলেও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপিসহ মিত্ররা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, সংবিধানের বাইরে একচুলও যাওয়ার সুযোগ নেই। যা হবে সংবিধান অনুযায়ীই হবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এমনটাই জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। সংবিধান অনুযায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার নির্বাচনের সময় সংবিধান অনুযায়ী রুটিন কাজ করবে। নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। জনগণ যে রায় দেবে-বর্তমান সরকার তা মাথা পেতে নেবে। তারা আরও বলছেন, জনগণের আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করে। সে কারণে নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। সে কারণে সংবিধান অনুযায়ীই বর্তমান সরকার নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। তারা বলছেন, সংবিধানে যে কোনো ধরনের ফাঁক সৃষ্টি করে দিলে কতিপয় ক্ষমতালিপ্সু জনসমর্থনহীন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের এক বা একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন পরাশক্তির সমর্থন দেখিয়ে প্রোভোক করে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বিনষ্ট করার সুযোগ পাবে। সুতরাং ভবিষ্যতে নির্দলীয় সরকার বা এহেন কোনো ধরনের দেশ ও গণতন্ত্রবিরোধী দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচন কমিশন। সেই নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকার বা কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি আবারও আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। দেশে হবে সাংবিধানিক সরকার। সংবিধানের আলোকে আগামী দিনের নির্বাচন হবে।

দল ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের দীর্ঘ সময় বাকি থাকলেও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপি নেতারা বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে নেতা-কর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘদিন তারা ক্ষমতার বাইরে থাকায় নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ দল ছাড়ছেন। নেতা-কর্মীরা যেন চাঙা থাকেন সে কারণে এই সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করছে। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংবিধানেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা আছে। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই।

যে কোনো ন্যায্য দাবি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মতামতকে আওয়ামী লীগ সবসময় সম্মান জানাতে প্রস্তুত। কারণ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল। আর আওয়ামী লীগের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা সব সময় ছিল। তবে কোনো ধরনের অন্যায্য, অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক দাবি আওয়ামী লীগ সমর্থন করবে না, বা মেনেও নেবে না। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি নেতারা জানে আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে। আর আওয়ামী লীগই আবার ক্ষমতায় আসবে। সে কারণেই তারা নানা কথা বলছে।’ তিনি বলেন, ‘যে কোনো ন্যায্য দাবি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মতামতকে আওয়ামী লীগ সব সময় সম্মান জানাতে প্রস্তুত। কারণ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল। আর আওয়ামী লীগের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা সব সময় ছিল। তবে কোনো ধরনের অন্যায্য, অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক দাবি আওয়ামী লীগ সমর্থন করবে না, বা মেনেও নেবে না।’  আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আমাদের নতুন কোনো ভাবনা নেই। কীভাবে নির্বাচন হবে তা শাসনতন্ত্রেই বলা হয়েছে। সেভাবেই আগামী নির্বাচন হবে।’

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির প্রচলন হয়েছিল। কিন্তু ২০০১-এ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত করেছে। এখন আর মানুষের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। মহামান্য আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সংবিধানের বাইরে একচুলও যাব না।’