সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবি আদিবাসী সংগঠনগুলোর ভাল নেই আদিবাসীরা

Social Share

কাজল আর্য:

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন ও ১১ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে টাঙ্গাইলের আদিবাসী সংগঠনগুলো। রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, ইউসিজিএম, টিডবিøউএ, এসিভিএফ, থাংআনী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, আবিসা আদিবাসী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, বাগাছাস, গাসু, জিএসএফ ও আচিক মিচিক সোসাইটি যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সভাপতিত্ব করেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি অজয় এ মৃ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আচিক মিচিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুলেখা ম্রং। সম্মেলনে তারা বলেন আদিবাসীরা ভাল নেই। অত্যন্ত খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে আদিবাসীরা। বাড়ীতে খাবার নাই, বাইরে কাজ নাই, শহরে চাকুরী নাই এমনকি সরকার তথা; অন্য কোন সংস্থার সহায়তাও পর্যাপ্ত নাই। ফলে, বৃহত্তর ময়মনসিংহে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে হাজার হাজার আদিবাসী নারী-পুরুষ আজ কর্মহীন হয়ে বাড়ীতে বসে আছে। বিশেষ করে বিউটি পার্লার, পোষাক শিল্প, বিভিন্ন কোম্পানী, সরকারী- বেসরকারি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী হারিয়ে অভাব-অনতনে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। সরকার এ বিষয়ে মহান উদ্যোগ নিলেও আদিবাসীদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমানে সহায়তা পৌঁচ্ছে না।

সম্মেলনে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশের সংবিধানে আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা, আদিবাসীদের জন্য জাতীয় সংসদে শতকরা ৫ ভাগ অর্থাৎ ১৫টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ দেয়া, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনসহ একজন আদিবাসীকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা, সমতলের আদিবাসীদের ভুমির অধিকার রক্ষার জন্য আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা, মহান সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে সমতল আদিবাসী নারীদের মনোনয়ন প্রদান করা, আইএলও কনভেশন নং ১০৭ এর আলোকে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন পূর্বক তা বাস্তবায়ন করা, শিক্ষা ও সরকারি চাকরির সকল স্তরে আদিবাসীদের জন্য শতকরা ৫ ভাগ কোটা বরাদ্দ বহাল রাখা, আদিবাসী অধ্যূষিত এলাকায় স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে) ও প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটিতে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বন মামলা ও অন্যান্য হয়রানিমূলক মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি করা এবং ‘বন আইন ২০১৯’ সংশোধনসহ নতুন করে মিথ্যা বন মামলা দায়ের করা থেকে বিরত থাকা ও আদিবাসীদের বংশানুক্রমিক স্বত্ব দখলীয় ও সরকারী খাস জমিসমূহের আইনগত স্বীকৃতি প্রদান করা, সরকারিভাবে আদিবাসীদের পৃথক আদম শুমারী করে আদিবাসী জনসংখ্যার প্রকৃত তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা, আদিবাসী এলাকায় সরকারী উন্নয়ন প্রকল্প তৈরির পূর্বে আদিবাসীদের সঙ্গে সুস্পষ্ট আলোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা এবং বর্তমানে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী পরিবারসমূহের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার আদিবাসীদের এসব দাবি পূরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর দেয়ার আহŸান জানান আদিবাসী নেতারা।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, মধুপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, পীরগাছা থাংনা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিকেন মৃ, আইনজীবী এমএ করিম মিঞা, পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলার প্রতিনিধি গৌতম চন্দ্র চন্দসহ বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কাজল আর্য
০১৭১৩৮২৪৫৮১
তারিখ ঃ ০৯.০৮.২০