ষাটের দশকের প্রথমার্ধে অভিনয়ে দ্যুতি ছড়ানো দিলারা জামান

48
Social Share

বিশেষ প্রতিবেদক: বিশ শতকের ষাটের দশকের প্রথমার্ধে বেতার, টেলিভিশন, মঞ্চ অভিনয়ে যে শান্ত, মিষ্টি সুন্দরী মেয়েটি অভিনয় দ্যুতি ছড়িয়ে এক নিমিষে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি দিলারা জামান। শুরু থেকে আজ অবধি সে ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন এ গুণী অভিনেত্রী। শুরু থেকে আজ অবধি সে ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন এ গুণী অভিনেত্রী। একসময়কার সাড়া জাগানো নায়িকা বর্তমানে কারো স্নেহময়ী মা, শ্রদ্ধাভাজন নানী বা দাদীর চরিত্রের অভিনয়ের মধ্য সেই সাবলীলতা আজও তাঁর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি সফল লেখিকাও। গুণী এ ব্যক্তিত্বের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৯ জুন, লক্ষ্মীপুরে। পিতা মরহুম আলহাজ্ব রফিকউদ্দিন। প্রকৌশলী পিতার কর্মস্থল ছিল অবিভক্ত ভারতের বর্ধমানে। মা সিতারা বেগম চৌধুরী। অভিনেত্রী দিলারা জামানের ছোটবেলা কেটেছে আসানসোলে, যশোর আর ঢাকার বৈচিত্র্যময় পরিবেশে। তিনি ঢ াকা বাংলাবাজার গভঃ গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি, ইডেন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। সর্বশেষ ঢাকা ও ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড, এমএ ইন এডুকেশন ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর শিক্ষকতা করেছেন দেশের বিভিন্ন নামকরা স্কুলে। অভিনয় শুরু করেন স্কুল জীবন থেকেই। ১৯৬২ ও ১৯৬৩ সালে পরপর দুই বছর পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে অভিনয়ের জন্য প্রথম পুরস্কার পান। নাট্যগুরু অধ্যাপক নূরুল মোমেনের নিকট থেকে তিনি অভিনয় শেখার সুযোগ পান। ১৯৬৩ সালে ছাত্র ইউনিয়নের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলা একাডেমীর উন্মুক্ত মঞ্চে শহীদ সাংবাদিক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। ১৯৬৪ সালে ডাকসুর নাটক করেন। আলাউদ্দিন আল আজাদের মায়াবী প্রহর, কার্জন হল মঞ্চে। টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করেন মোহাম্মদ জাকারিয়ার নির্দেশনায় ত্রিধারা নাটকে।
স্বাধীনতা উত্তরকালে চট্টগ্রামে অরিন্দম নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত নাট্য সপ্তাহে হাসানাত আবদুল হাইয়ের ‘সামনে যাই থাক ট্রেন চলবে’ নটকের নির্দেশনা দেন এবং বেটল্ড ব্রেশটের ‘রাইফেল’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র জননী সাহসিকতার ভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসিত হন। ১৯৮১ সালে ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার সাথে বেতারও টেলিভিশনের নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ষাট, সত্তর এবং আশির দশকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত দিলারা জামান নিয়মিতভাবে লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। ‘অস্তরাগ’, ‘আর্শিতে আমি’, ‘মৃগয়ায় শরবিন্দু’ নামে তিনটি গল্পগ্রন্থ ও ‘আকাশে অনেক নীল’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের প্রাক্তন পরিচালক এবং বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (২০০৫) প্রাপ্ত লেখক ফখরুজ্জামান চৌধুরীর সঙেগ ১৯৬৪ সালে বিয়ে হয়। বড় মেয়ে ড. তানিরা জামান চৌধুরী ও ছোট মেয়ে জুবায়ারা জামান চৌধুরী।
নাট্যাভিনয়ে কুশলতার জন্য দিলারা জামান একুশে পদক, বাচসাস, টেনাশিনাস, যায়যায়দিন (২ বার), তারকালোক, ঝিলিক- চ্যানেল আই, ট্র্যাব, শাপলা শালুক, টেলিভিশন দর্শক ফোরাম, সৃজনী, বর্ণ, একতা পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
দিলারা জামান অভিনয়ের পাশপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত এবং সময় সুযোগ পেলে সামাজিক এবং জনহিকর কাজে নিজেকে যুক্ত রাখেন। আগামীতেও রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

নাট্য ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী দিলারা জামানের জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৪৩ সালের এইদিনে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তার পরিবার যশোর জেলায় চলে আসেন। ঢাকার বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজে পড়াশুনা করেন।

দিলার জামান বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ফখরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৬৬ সালে ত্রিধরা নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিনয় যাত্রা শুরু। নাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ১৯৯০ এর দশকে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চাকা (১৯৯৩) এবং আগুনের পরশমণি (১৯৯৪) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তিনি ব্যাচেলর (২০০৪), মেড ইন বাংলাদেশ (২০০৭), চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮), প্রিয়তমেষু (২০০৯), ও মনপুরা (২০০৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালের চন্দ্রগ্রহণ চলচ্চিত্রে ময়রা মাসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৩ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।