শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে লারাদের হারিয়ে ফাইনালে শচীনরা

64
Social Share

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিজেন্ডসদের ১২ রানে হারিয়ে রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজের ফাইনালে পৌঁছে গেল ইন্ডিয়া লিজেন্ডস। রায়পুরে প্রথম সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২১৮ রান তোলে ইন্ডিয়া লিজেন্ডস। জবাবে দুর্দান্তভাবে রান তাড়া করেও ভারতীয় বোলারদের দুরন্ত প্রত্যাবর্তনে অল্পের জন্য ম্যাচ হারতে হয় ক্যারিবিয়ান লিজেন্ডসদের।

প্রথম সেমিফাইনালে গতকাল বুধবার (১৬ মার্চ) টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ব্রায়ান লারা। ঝড়ো মেজাজেই ইনিংসের শুরু করেন বীরেন্দ্র শেবাগ। প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই ভারতকে পঞ্চাশের গন্ডি পার করে দেন তিনি। ১৭ বলে ৩৫ রান করে ষষ্ঠ ওভারে আউট হন শেবাগ। দলের রান তখন ৫.৩ ওভারে ৫৬। এরপর মাস্টার ব্লাস্টার শচীনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন মোহম্মদ কাইফ। ২১ বলে ২৭ রান করে ফেরেন কাইফ। এরপর ক্রিজে নামেন ইউসুফ পাঠান।

পরের ওভারে ৩৬ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতরান পূর্ণ করেন শচীন। ব্যাট হাতে এদিন ঝড় তোলেন শচীন। ৬টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৪২ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলে ডাগআউটে ফেরেন তিনি। ১৪.১ ওভারে দলের রান ১৪০। বাকি সময়টা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বিপক্ষ বোলারদের কাছে ত্রাস হয়ে ওঠেন পাঠান-যুবরাজ। ২০ বলে ২টি চার এবং ৩টি ছয়ে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইউসুফ পাঠান। যুবরাজ আরও এক ধাপ ওপরে। ২০ বলে যুবরাজ অপরাজিত থাকেন ৪৯ রানে। তার ইনিংসে ছিল ১টি চার এবং ৬টি ছক্কা। যার মধ্যে ১৯তম ওভারে নাগামুটুকে ৪টি ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি তারকা।

২০ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ২১৮ তোলে ভারতের লিজেন্ডরা। জবাবে উইলিয়াম পার্কিনসন ৯ রানে ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করে ডোয়েন স্মিথ এবং নরসিং ডেওনারায়ণ। স্মিথ ৩৬ বলে ৬৩ রানে ফেরেন। রানের খাতা না খুলে দ্রুত ফিরে যান কার্ক এডওয়ার্ডস। এরপর ডেওনারায়ণের সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নৌকা পার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন কিংবদন্তি লারা। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য ২৭ রান প্রয়োজন ছিল উইন্ডিজ লিজেন্ডদের।

কিন্তু ১৯ তম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন লারা। ২৮ বলে ৪৬ রানে দুরন্ত ইনিংস খেলে আউট হল ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। ওই ওভারেই টিনো বেস্টকে ফিরিয়ে ম্যাচ ভারতের ঝুলিতে এনে দেন বিনয় কুমার। অন্তিম ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। কিন্তু শেষ ওভারে ৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। ৪৪ বলে ৫৯ রান করে আউট হন ডেওনারায়ণ। শেষ অবধি ১২ রানে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারতের লিজেন্ডরা।