শেষ জন্মদিনে যে কারণে অঝোরে কেঁদেছিলেন ম্যারাডোনা

5
Social Share

দুপুরের মধ্যেই সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে পড়ে ফুটবল জাদুকরের বাড়ির সামনে। প্রায় অর্ধডজন অ্যাম্বুলেন্স। সবাই প্রবল চেষ্টা করছিলেন, কোনওভাবে যদি ফিরিয়ে আনা যায় দিয়েগোকে। কোনওভাবে…। কিন্তু হায়, যায়নি। ম্যারাডোনাকে আর ফেরানো যায়নি।

আর্জেন্টাইন সংবাদপত্র ‘ক্ল্যারিন’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনের শেষ দিকটায় বড় হতাশায় ভুগতেন ম্যারাডোনা। কিংবদন্তির মানসিক অবস্থা এতটাই খারাপের দিকে চলে গিয়েছিল যে, তার মনোবিদ চিকিৎসক ঠিক করেছিলেন, তাকে কিউবা পাঠাতে। যে দেশকে অসম্ভব ভালবাসতেন ম্যারাডোনা। যে দেশে থাকতেন তার প্রিয় বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রো। তাকে কিউবা পাঠানোর বন্দোবস্তও নাকি প্রায় হয়েই গিয়েছিল। ফিদেল কাস্ত্রোর ছেলে টনিও খোলাখুলি আহ্বান করেছিলেন ম্যারাডোনাকে। যাতে তিনি সেখানে যান। শান্তিতে সুস্থ হতে পারেন। কিন্তু কিউবা যাওয়া আর হল না।

আর্জেন্টাইন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, একটা বড় যন্ত্রণা হৃদয়ে নিয়ে চিরবিদায় নিলেন ম্যারাডোনা। নিজের ৬০তম জন্মদিনে (যা কি না তার শেষ জন্মদিনও হয়ে থাকল) ম্যারাডোনা চেয়েছিলেন, তার সমস্ত সন্তানরা একত্রিত হোক। নাতি-নাতনিসহ। কিন্তু সেটা হয়নি। আসলে ম্যারাডোনার সন্তানরা তার দায়িত্ব নিতেন ওপর ওপর। কিন্তু দায়িত্ববোধের গভীরে ঢুকতেন না। নইলে কেনই বা আর শেষ জন্মদিনে ম্যারাডোনা ঝরঝর করে কেঁদে বলবেন, “আজ আমি আমার পরিবারকে খুব মিস করছি। মা, তুমি নিশ্চয়ই ওপর থেকে সব দেখছো। তুমি নিশ্চয়ই আমাকে নিয়ে গর্বিত।”

 

জীবনের শেষ দিকে নিজের আইনজীবীর শ্যালকের সঙ্গে থাকতেন ম্যারাডোনা। তিনিই বলতে গেলে ছিলেন ম্যারাডোনার নর্মসহচর। ছিলেন তার অতি বিশ্বাসী রাঁধুনি, মোনোয়া। যিনি ম্যারাডোনার কাছে মাতৃসম ছিলেন। ম্যারাডোনা মাঝে মাঝেই সোচ্চারে বলতেন, “মোনোয়ার মতো মাংসের স্টু রাঁধতে কেউ পারে না।” মোনোয়াও খেয়াল রাখতেন ফুটবলের রাজপুত্রের। কোনওভাবে যাতে সুরা ম্যারাডোনার হাতে না পড়ে। রেফ্রিজারেটরে ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন ধরে ধরে সব রেখে দিতেন মোনায়া। চুইংগাম। ক্যান্ডি। শুকনো ফল। কোনও ভুল হত না। যে কাজটা করা উচিত ছিল তার আত্মজদের। সেটা নিঃশব্দে করে গিয়েছেন কোনও এক রক্তের সম্পর্কহীন মোনোয়া। দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা নিঃসন্দেহে ফুটবলের রাজপুত্র। কিন্তু তার মতো নিঃস্ব রাজপুত্রও বা আর ক’জন আছে?