শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ পুনরুদ্ধার হয়েছিল: আব্দুর রহমান

55
Social Share

৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুকে নয়, স্বাধীনতাবিরোধীরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুকে গুলি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান।

আজ বুধবার (১৯ মে) ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ-এ অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৪ দশকের মানবতার আলোকবর্তিকা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুর রহমান বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালিদের দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রামের ফল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করা হয়েছিল। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে গুলি করেনি- তারা গুলি করেছিল বাংলাদেশের পতাকা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের বুকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তান তৈরি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল।’

আবদুর রহমান আরো বলেন, ‘১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি বাংলাদেশে ফিরে না আসতেন তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ণ প্রাপ্তি তো দূরে থাক, এই দেশটাই সেদিন থাকতো না। এটাই ছিল  সেদিনের বাস্তবতার চিত্র। সেদিন বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। কিন্তু ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালির দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রামের ফল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও হত্যা করা হয়েছিল। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেদিন বাংলাদেশকে নতুন করে পাকিস্তান তৈরি করার চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে এসেছিলেন বলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। নানামুখী উন্নয়নের জোয়ারে আজ পুরো বাঙালি জাতি ভাসছে।’

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন যদি দেশে না আসতেন, তাহলে বাংলাদেশ থাকতো না। বাংলাদেশটাই পাকিস্তানে পরিণত হতো। বঙ্গবন্ধুকন্যা ১৭ মে বাংলার মাটিতে পা রাখার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুনর্জন্ম হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বাবা-মা-ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে এসেছিলেন উল্লেখ করে আব্দুর রহমান বলেন, দেশের মাটিতে পা দিয়ে সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেছিলেন আমার রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছে ছিল না, ‘আমার রাজনীতিতে আশার কথা নয়। কিন্ত আজ পিতাকে হারিয়েছি, মা-কে হারিয়েছি, পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়েছি। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন- সেই স্বপ্ন পূরণ করাই আজ আমার মূল লক্ষ্য। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে যদি আমার জীবন বাবার মতো বিলিয়ে দিতে হয় দেব। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব’।

আবদুর রহমান আরো বলেন, ‘দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুকন্যা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার প্রতিটি প্রতিশ্রুতিই আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি আজ শুধু শেখ হাসিনা নন, সফল রাষ্ট্রনায়ক নয়, তিনি শুধু বাঙালি জাতির নেতা নন, তিনি আজ বিশ্বনেত্রী। বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে মানবতার মা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।’

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।