শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন রিজভী

5
Social Share

স্টার্ফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার অন্যতম আসামি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ন মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ হুমায়ুন কবীরের আদালতে তার জবানবন্দি ও জেরা শেষে আগামী ৬ জানুয়ারি আলোচিত এই মামলার যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করা হয়েছে।

সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় তিনি নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের ৫ম তলায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার বিএনপি নেতা ও সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব। জুম্মার দিন তাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত সভা চলেছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের জেরাকালে রুহুল কবীর রিজভী ওই দিন সভায় উপস্থিতির হাজিরা, রেজুলেশন ও নোটিশ দেখাতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিএনপি কার্যালয়ের নীচে অতিথিদের আগমন ও বর্হিগমনের রেজিষ্টার ও রেজিষ্টার নিয়ন্ত্রণে কোন দায়িত্বশীল লোক ছিল কিনা তা জানতে চাইলে এ ধরনের কোনো রেজিস্ট্রার বা নিয়োগকৃত লোক ছিল না বলে তিনি আদালতকে অবহিত করেন। এক পর্যায়ে সাংসদ হাবিব বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসামী হিসেবে বিএনপি অফিসে যেয়ে তার কাছে অবস্থান করতেন এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভি বলেন, পলাতক আসামী হিসেবে নয়, দলীয় নেতা হিসেবে সেখানে হাবিবুল ইসলাম হাবিব মাঝে মাঝে যাতায়াত করতেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানীতে অংশ নেন বাংলাদেশের অতিরিক্ত এটর্ণি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি এটর্ণি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জী, সহকারি এটর্ণি জেনারেল শাহীন মৃধা ও সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট এসএম হায়দার আলী, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট তপন কুমার দাস, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট ওসমান গনি, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, সাবেক অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আজাহার হোসেন, অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান শাহানাজ, অ্যাডভোকেট নাজমুন্নাহার ঝুমুর, অ্যাডভোকেট তামিম আহম্মেদ সোহাগ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত,২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হিজলদি গ্রামের একি মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সদর হাসপাতালে আসেন। তিনি মাগুরায় ফেরার পথে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কলারোয়া বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুর চালান তৎকালিন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ নেতাকর্মীরা। হামলায় শেখ হাসিনাসহ তার গাড়ি বহরে থাকা লোকজন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে একডজন লোক আহত হন। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ৭০/৭৫ জনের নামে থানায় ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি বিভিন্ন আদালত ঘুরে পরে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে এক যুগ পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ১৭মে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উলেখ করে ৩০ জনকে স্বাক্ষী করে পেনাল কোর্ড, অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক গ্রব্য আইনে পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম। সাতক্ষীরা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বিচারাধীন পেনালকোর্ডের মামলাটি ৯ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর এবং সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ-২য় আদালতে বিচারাধীন অস্ত্র আইনে ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে চলমান মামলা দু’টির কার্যক্রম যথাক্রমে ২০১৭ সালের ৯ ও ২৩ আগস্ট আসামীপক্ষ হাইকোর্টে স্থগিত করেন। উচ্চ আদালত চলতি বছরের ২২ অক্টোবর পেনাল কোর্ডের মামলাটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নথি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। গত ১৭ ডিসেম্বর অপর দু’টি মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিম্ন আদালতে বিচার কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার আদালতে ৩৪ জন আসামী হাজির ছিলেন।

সে অনুযায়ী ২০ জন সাক্ষী ও চার জন সাফাই সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে আগামি ৬ জানুয়ারি পেনাল কোর্ডের মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ হুমায়ুন কবীর। তবে ৬ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ করা না গেলে পরদিন ওই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও একই আদেশে বলা হয়।