শুভ জন্মদিনঃ মানবতার বাতিঘর জননেত্রী শেখ হাসিনা —মানিক লাল ঘােষ।

Social Share

নিজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে যিনি আজ বিশ্ব মানবতারআবাতিঘর। যাঁর সুদূর প্রসারী চিন্তা-চেতনার, বিশ্বভাবনা, জনভাবনা আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রশংসিত আজ সারাবিশ্বে তাঁর নাম শেখ হাসিনা।

মিয়ানমার যাদেরকে রােহিঙ্গা বলে মুসলমান বলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিযেছে , সেনাবাহিনীর অস্ত্রের মুখে যাদেরকে সমুদ্রকক্ষে ঠেলে দিয়েছে তাদেরকে মাতৃস্নেহে বিশ্বজননীর কোলে তুলে নিয়েছেন বিশ্বনেতা জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার সমগ্র রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম ও সাধনার প্রতিচ্ছবি কাকে না আপ্লুত করে ? শুধুমাত্র মত ও পথের পার্থক্য অাছে এবং যারা জন্ম থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা বিরােধী তাদের কথা ভিন্ন। তাদের কাছে শেখ হাসিনা গাত্রদাহ । তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা বেঁচে না থাকলে অনেক আগেই তাদের পূর্ব পুরুষদের পোরে পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরে যেতে পারতাে বাংলাদেশ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতাে না। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে বাংলাদেশ হতাে জঙ্গিরাষ্ট্র। উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার এই বাংলাদেশ তারাতাে চায়নি কখনাে!

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বাবা মা, ভাইসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যের নির্মম মৃত্যুর দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যস্ত থেকে তাদের মাঝে তিনি আদরের ছােট ভাই রাসেলকে খুঁজে ফেরেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখে। ৭৫ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভ্রান্ত ইতিহাসের অন্ধকারের যবনিকা। ঠেলে আলােকবর্তিকা হযে জাতির কাছে আবির্ভূত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

তাঁর দুই শিশু সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ছােট বােন শেখ রেহানার কাছে রেখে এদেশের গণতন্ত্র আর প্রগতিশীল রাজনীতি ফেরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসেন শেখ হাসিনা।

বাংলার আকাশের কালাে মেঘের মতােই সেদিন প্রকৃতিও ছিলাে কালাে মেঘে ঢাকা। কালবৈশাখী ঝড়। বাতাসের বেগ ছিলাে ঘন্টায় ৬৫ মাইল। তারপরেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে নেমেছিল মানুষের ঢল। জনতার আবেগের কাছে সেদিন হার মেনেছে প্রকৃতিও। জন্মভূমির মাটিতে পা রেখে আবেগ আঞ্চও শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে পিতার নির্দেশিত পথে প্রয়ােজনে বাবার মতাে নিজের জীবনও উৎসর্গ করবেন তিনি।তারপর আর থেমে থাকা ন্য। দেশে ফিরে আওয়ামীলীগের হাল ধরেন শেখ। হাসিনা। দলীয় নেতা কর্মীদের করেন ঐক্যবদ্ধ। সেই থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অনেক ত্যাগ অনেক তিতিক্ষা আর ষড়যন্ত্র, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ ১৮ বার তাকে হত্যার অপচেষ্টা চালানাে হ্য। ১/১১ তৎকালীন সেনাসমর্থিত তস্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাবন্ধী জীবন, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরােধী আন্দোলন, বিএনপি জামায়াত সরকারের নীল নকশা প্রতিরােধসহ প্রতিটি মুহূর্তেই শত। সংকট আর চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করে জীবনের জয়গান গাইছেন শেখ হাসিনা। বাংলার মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসা হচ্ছে শক্তি আর নেপথ্যে তার সততা, দূরদর্শিতা, মেধা, নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা, উদারতা আর। গণতান্ত্রিক মূল্যবােধ। দূরদর্শিতা তাকে আজ রাজনীতির অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গােপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫ সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান তিনি। শিশুকাল থেকেই মা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মানবিক শিক্ষা আলােকিত হন শেখ হাসিনা। বাল্যশিক্ষা। গ্রহণ করেন টুঙ্গীপাড়ায়। ১৯৫৬ সালে টিকাটুলীর নারী শিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৭ সালে গভর্মেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে ইডেন সরকারি মহিলা কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের বাংলা বিভাগে। ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নির্বাচিত হন কলেজ ছাত্র সংসদের

ভিপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্রলীগ রােকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা। অংশ গ্রহণ করেন সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে।

বিয়ের কারণে শিক্ষা জীবনে ছেদ পরে বঙ্গবন্ধুর কন্যার। অনার্সের পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন। করে স্নাতক ডিগ্রি। বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার সাথে। শেখ হাসিনার জ্যৈষ্ঠ সন্তান সজিব ওয়াজেদ জয় একনি খ্যাতিসম্পন্ন প্রযুক্তি বিশারদ। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভারই অবদান। একমাত্র কন্যা সায়মা হােসেন ওয়াজেদ পুতুল একজন মনােবিজ্ঞানী। কাজ করেছেন অটিজম শিশুদের কল্যাণে। মায়ের মতাে মানবিক কল্যাণে তিনিও আজ বিশ্ব। প্রসংশিত।

চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা | জাতীয় সংসদে বিরােধী দলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনবার। সরকার পরিচালনায় দক্ষতার সাথে সাফল্যের পাল্লা ভারী করছেন প্রতিনিয়ত। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতাে ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণসহ সামাজিক বেস্টনীর আওতায় ব্যস্ক ও বিধবা ভাতা, মুক্তিযােদ্ধা ভাতা চালু, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাসসহ নানাবিধ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে উদ্যোগ নেন ইনডেমিনিটি আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করার। জাতিকে কলংকমুক্ত করার জন্য শুরু করেন জাতীয় চারনেতা হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। শিক্ষার আলাে বিস্তারের মতাে উদ্যোগ নেন বিদ্যুতের আলােতেও দেশকে আলােকিত করতে। বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নতিকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরােধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নকে ডিজিটাল সেন্টারের আওতায় আনা, মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড, ১০ টাকায় তাদের জন্য ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়া, স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগােড়ায় পৌঁছে দিতে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনসহ জনগণের জীবন মান উন্নয়নে গ্রহণ করে বহুমুখি জনবান্ধব কর্মসূচি। শুধু উদ্যোগ গ্রহণ নয় তার শতভাগ বাস্তবায়নেও চেষ্টা চালায় তার সরকার।

এই সাফল্যের ধারবাহিকতায় বাংলার জনগণ আবারাে বেছে নেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর টানা দ্বিতীয়বারের মতাে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় আওয়ামী লীগ। এই সমযে। বাংলাদেশ উন্নীত হ্য মধ্যম আয়ের দেশ। ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমােদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থনের ফলে ৬৮ বছরের সীমানা বিরােধের অবসান ঘটে। নিজস্ব অর্থায়নে বহুল আলােচিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় এই আমলে, যা আজ স্বপ্ন নয় দৃশ্যমান বাস্তবতা।

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সিন্ধান্ত নিতে আর ভুল করে না বাংলাদেশের জনগণ। প্রযােজন বােধ করেনি আর। অন্য কোনাে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনার। টানা তৃতীয় মেয়াদেও অবািরাে জনগণের সেবা করার সুযােগ পান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। অনেক আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সফলতা অর্জন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিসহ জনকল্যাণমুখি সকল কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্প, দেশের প্রথম স্যাটেলাইট- বঙ্গবন্ধু -১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ, মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসসহ অনেক মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে

বাংলাদেশ এগিয়ে ন্যোর স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনার অর্জনও কম নয়। এ পর্যন্ত ৩৯ টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া , বেলজিয়াম ও ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন, সাহিত্য, লিবারেল আর্টস, এবং মানবিক বিষয়ে অর্জন করেছেন ৯টি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী।

জাতিসংঘ ২০১০ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় বিশেষ করে শিশু মৃত্যুহার কমানােতে অবদানের জন্য জাতিসংঘ শেখ হাসিনাকে সম্মাননা প্রদান করেন। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আইসিটির ব্যবহার বাড়াতে প্রচারণায় অবদানের জন্য জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রদান করে আইসিটি সাসটাডইনেবল ডেভলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং মানবতার কল্যাণে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্জন করেন ইউনেস্কো ও উমেন পার্লামেন্ট কর্তৃক ডব্লিউআইপি গ্লোবাল। ফোরাম অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও মহাত্মা গান্ধী পদক, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, পার্ল এস বার্ক অ্যাওয়ার্ড, মাদার তেরাসা পদক, গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড। এই সকল পদক ও সম্মাননার চেয়ে শেখ হাসিনার বড় অর্জন। দেশের জনগণের ভালবাসা। আর তাই তাঁর সকল অর্জনকে আপামর জনগণের জন্য উৎসর্গ করছেন দেশরত্ন। শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার জীবনের বড় প্রাপ্তি মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া। শুধুমাত্র মানবিক কারণে। নিজ দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা উপেক্ষা করে ১০ লাখ নির্যাতিত রােহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়ে তিনি আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। শেখ হাসিনা আজ শুধু বাংলাদেশের ন্য সারা বিশ্বের মানবিক নেতা। শেখ হাসিনা আজ মানবিকতার বাতিঘর। এই ঘরের অালাে জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তাঁর মানবিকতার আলােয় অালােকিত হােক বাংলাদেশ। আলােকিত হােক বিশ্ব। শুভ জন্মদিনে অন্তহীন শুভকামনা মানবিক নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্য।

মানিক লাল ঘােষ: – সাংবাদিক, কলামিস্ট, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য।