ভিনিউজ : সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতেরপশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতা অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠনের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল-কে হচ্ছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী? সম্ভাব্যদের তালিকায় একাধিক নেতার নাম ঘুরে বেড়ালেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কারণ, এবারের নির্বাচনে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত করেছেন, যা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে কলকাতায় আসেন অমিত শাহ। তার সঙ্গে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে পরিষদীয় নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে অমিত শাহ জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পদে আটটি প্রস্তাব জমা পড়েছিল এবং সবগুলোতেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়।
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। সেই পরিবর্তনের আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তার ভূমিকা তাকে রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। বিজেপি যখন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য নিয়ে ‘পরিবর্তনের’ ডাক দেয়, তখন সেই আন্দোলনের সামনের সারিতেও ছিলেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসংযোগ বিজেপির উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সে সময় বিজেপি সরকার গঠন করতে পারেনি, তবু বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি বিধানসভা ও রাজপথ- উভয় জায়গাতেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক নানা ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি।
২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন। এবার ভবানীপুরের মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে জয় পাওয়াকে বিজেপি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছে।
শনিবার সকালে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।




