শুধু ভারত নয়, ২৫টি দেশের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে সমস্যা চিনের

Social Share

নয়াদিল্লি: গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে চিনা সেনার আক্রমণে ২০ ভারতীয় সেনা শহিদ হয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে ভারত ও চিনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুধু ভারত নয়, রাশিয়া, জাপান-সহ আরও ২৫টি দেশের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে চিন। সমুদ্র, নদী, স্থলের মালিকানা দাবি করে সংঘাতে জড়িয়েছে চিন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে চিনই একমাত্র দেশ যারা নিজেদের আগ্রাসন বজায় রেখেছে। এখন দেখে নেওয়া যাক কোন কোন দেশের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা রয়েছে চিনের।

১. ভারত: ১৯৫০ সালে তিব্বত দখল করার পর ভারতের ‘অরুণাচল প্রদেশ’ ও ‘আকসাই চিন’কে নিজেদের বলে বলে দাবি করে চিন। ১৯৬২ সালে দু’দেশের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। ওই যুদ্ধে চিনের কাছে পরাজিত হয়েছিল ভারত। চিন ভারতের ৪৫,০০০ কিলোমিটার দখল করে নেয়। এরপর ১৯৬৫ ফের যুদ্ধ বাধে ভারত চিনের মধ্যে। সেই চিনকে হারিয়ে জিতেছিল ভারত। বর্তমানে লাদাখ, সিকিম-সহ একাধিক ভারতীয় ভূখন্ড নিজেদের বলে দাবি করে চিন। যা নিয়ে ভারত-চিনের টানাপড়ন অব্যাহত।

২. তিব্বত: ১৯৫০ সালে তিব্বত দখল করে নেয় চিন। বেইজিং কোনওদিনই তিব্বতের আলাদা অস্তিত্ব স্বীকার করে না।

৩. ভিয়েতনাম: ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামে আক্রমণ চালায় চিন। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে যুদ্ধ চলে দু’দেশের। এই যুদ্ধে চিনের পরাজয় ঘটে।

৪. মঙ্গোলিয়া: রাশিয়া এবং চিনের মধ্যবর্তী স্থলবেষ্টিত দেশটিকে চিন তাদেরই অংশ বলে মনে করে।

৫. ফিলিপাইন: স্প্র্যাটলির কালায়ান দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রগর্ভ থেকে সত্তর দশকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন শুরু করে ফিলিপাইন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই দ্বীপ ফিলিপাইনের অংশ। কিন্তু চিনে এটিকে দখলের চেষ্টায় রয়েছে।

৬. তাজিকিস্তান: প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো সীমান্ত বিরোধ বজায় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন জমানাতেও। একাধিকবার সীমান্তে চিনা সেনাদের অনুপ্রবেশেরও অভিযোগ উঠেছে।

৭. থাইল্যান্ড: মেকং (ল্যাংসাং) নদীতে চিনা বাঁধ আন্তর্জাতিক জলবণ্টন নীতির পরিপন্থী বলে থাইল্যান্ডের অভিযোগ। দক্ষিণ চিন সাগরের কয়েকটি দ্বীপ নিয়েও থাইল্যান্ডের সঙ্গে চিনের বিরোধ রয়েছে।

৮. জাপান: চিন জাপানের বহু দ্বীপকে নিজেদের বলে দাবি করে। পূর্ব চিন সাগরে জাপানের সেনকাকু এবং দিয়েউ দ্বীপ নিয়ে দু’দেশের টানাপোড়ন অব্যাহত।

৯. ব্রুনেই: ব্রুনেইয়ের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ চিন দখল করে রেখেছে। ব্রুনেইয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকা লুইসা রিফ-সহ দু’টি দ্বীপও দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে চিন।

১০. নেপাল: সম্প্রতি নেপাল সরকার অভিযোগ করেছে, উত্তর এবং মধ্য সীমান্তে অন্তত ১২টি জায়গায় চিন তাঁদের ৩৩ হেক্টর জমি দখল করেছে। রাস্তা বানানোর পাশাপাশি বাঁধ বানিয়ে নদীর গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছে।

১১. তাইওয়ান: চিনের বিরোধিতায় জেরেই এখনও জাতিসংঘের সদস্যপদ এবং ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি তাইওয়ান।

১২. উত্তর কোরিয়া: চিনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পাকতু পাহাড়, ইয়ালু ও তুমান নদী নিয়ে পুরনো বিবাদ রয়েছে।

১৩. পূর্ব তুর্কিস্তান: চল্লিশের দশকে প্রতিবেশী পূর্ব তুর্কিস্তান দখল করে শিনজিয়াং প্রদেশ বানিয়েছিল চিন।

১৪. দক্ষিণ কোরিয়া: পূর্ব চিন সাগরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে দু’দেশের টানাপড়েন চলছে।

১৫. ভুটান: আশির দশকেই ভুটানের সর্বোচ্চ শিখর কুলা কাংরি ও সন্নিহত এলাকা দখন করে নেয় চিন। গাংখর ফুয়েনসাম শিখর এবং ডোকলামের অদূরে জিপমোচি এলাকাও দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে চিন।

১৬. কাজাখস্তান: কাজাখস্তানের প্রায় ৩৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার নিজেদের বলে দাবি করে চিন।

১৭. কিরগিজিস্তান: চিন পুরো কিরগিজিস্তান দেশটাকেই তাদের অংশ বলে দাবি করে।

১৮. রাশিয়া: প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে দু’দেশের মধ্যে। ১৯২৯ এবং ১৯৫৯ সালে দু’দেশ সামরিক সংঘাতেও জড়ায়। অতিসম্প্রতি রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক শহর নিজেদের বলে দাবি করেছে বেইজিং।

১৯. লাওস: লাওসের উত্তর অংশের লাওতিয়ান অঞ্চলসহ বেশ কিছু এলাকাকে চিন তাদের বলে দাবি করে।

২০. ইন্দোনেশিয়া: দক্ষিণ চিন সাগরের কিছু অংশ এবং নাতুনা দ্বীপে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইন্দোনেশিয়ার জাহাজের মাছ এবং অন্য জৈব সম্পদ সংগ্রহ নিয়ে আপত্তি চিনের।

২১. কলম্বিয়া: চিন-পন্থী খমের রুজ দল ১৯৭৫ সালে ক্ষমতা দখলের পরে কলম্বিয়ায় চিনের প্রভাব শুরু। যদিও তিন বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি কুখ্যাত পল পটের জমানা। সরাসরি চিনের সঙ্গে সীমান্ত না থাকলেও থাইল্যান্ড-কলম্বিয়া সীমান্ত সমস্যায় একাধিক বার নাক গলিয়েছে বেইজিং।

২২. সিঙ্গাপুর: সিঙ্গাপুরে মার্কিন নৌসেনার ঘাঁটি চিনের সাথে সংঘাতের অন্যতম কারণ।

২৩. মালয়েশিয়া: দক্ষিণ চিন সাগরের ৫টি দ্বীপ মালয়েশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। এগুলির মালিকানা নিয়ে চিনের সাথে দ্বন্দ্ব রয়েছে মালয়েশিয়ার।

২৪. হংকং: স্বশাসিত হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করেছে চিন। যার ফলে হংকংয়ের স্বাধীনতা খর্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে চিন।

২৫. আমেরিকা: আন্তর্জাতিক আইন না মেনে দক্ষিণ চিন সাগরের একাধিক দ্বীপ দখল এবং সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে চিনের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ চিন সাগরে বেইজিংয়ের একাধিপত্য কায়েমের চেষ্টা বানচাল করতে সক্রিয় আমেরিকাও। সম্প্রতি দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরীও পাঠিয়েছে আমেরিকা।