শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং প্রতিরোধে করণীয়

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান
Social Share

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সতর্ক বার্তা সময়মতো দিয়েছেন। এ সময়ে মাস্ক ব্যবহারকে বলা হচ্ছে সামাজিক ভ্যাকসিন। প্রধানমন্ত্রী মাস্ক ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে ঘরের বাইরে এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন এবং বাস্তবায়নের জন্য মোবাইল কোর্টের নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভ দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে হাল না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধোনম গেব্রেইয়েসুস গত মঙ্গলবার এক অনলাইন সম্মেলনে বলেন, তিনি মহামারীর অবসাদ বুঝতে পেরেছেন, যা মানুষ অনুভব করছেন। তবে কোন ভ্যাকসিন অথবা ওষুধ এখন পর্যন্ত না আসায় এই ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সময়োচিত দিকনির্দেশনা এবং পরামর্শ দিয়ে আসছে যা পরবর্তী সময়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

শীতে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির সমূহ কারণ

বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের ১০ অক্টোবর ২০২০ সংখ্যায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ব্রুস ওয়াই লি শীতে ২য় ঢেউয়ের ৮টি কারণ উল্লেখ করেছেন- ১) কম আর্দ্রতা, কম তাপমাত্রা ২) ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করা ৩) বিদ্যালয় পুনরায় খুলে দেয়া ৪) বাহিরের জমায়েত ঘরের ভিতর স্থানান্তর ৫) ফ্লু এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের অসুখ ৬) সাধারন মানুষের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে অনীহা ৭) বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ৮) জাতীয় পরিকল্পনার সমন্বয়হীনতা

কেন করোনা সংক্রমণ বেড়েছে বা বাড়বে

১) শীতপ্রধান দেশে রুম হিটার ব্যবহার করার ফলে নাক এবং শ্বাসনালীর প্রতিরোধকারী পর্দা (মিউকসা) শুষ্ক হয়ে যায় । তখন করোনাভাইরাস সহজেই দ্রুত পর্দা ভেদ করতে পারে। ২) স্বাভাবিক সময়ে এই পর্দা দ্রত নাক এবং শ্বাসনালীতে অনুপ্রবেশকারী যাবতীয় রোগ জীবাণু, বালুকণা, ময়লা পরিষ্কার করে। কিন্তু তাপমাত্রা কমে গেলে পরিষ্কার করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। ৩) শীতকালে ভাইরাসযুক্ত ছোট বায়ুকণা অধিক সময় বাতাসে ভেসে বেড়ায়। ফলে অধিক মানুষ সংক্রমিত হয়। ৪) শীতকালে সাধারণত অন্যান্য ঠাণ্ডাজনিত অসুখ হয়ে থাকে। যেমন- ফ্লু, শ্বাসনালী-ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, নানা ধরনের শিশু রোগ। যখন অন্য একটি ভাইরাস সংক্রমিত করে তখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সহজ হয়ে যায়। কারণ প্রথম ভাইরাসটি রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটি দখল করে রাখে।

১৯১৮ সালে সোয়াইন ফ্লু এবং ২০০৯ সালে এইচ১এন১ ফ্লু র শীতকালে ২য় ঢেউয়ের ইতিহাস রয়েছে।

সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি

বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্বে একদিনে ৫ লাখ ৭০ হাজার করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৩০ অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত বিশ্বে করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ৪৭৭ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১১ লাখ ৭৯ হাজার ২৭৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ২ লাখ ২৯ হাজার ৬০৮ জন। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা ঠেকাতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিধিনিষেধের প্রতিবাদে ইতালীর বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বেলজিয়ামে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় ভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসকদেরও সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লাগামহীনভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে স্পেন, ফ্রান্স, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রথম দফার চেয়ে দ্বিতীয় অভিঘাত আরও কঠিন হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও দিল্লীতে এখন করোনা সংক্রমণ উর্ধমুখী। পাকিস্তানের করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি

দেশে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৪ হাজার ৭৬০ জন করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৮৮৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ২১ হাজার ২৮১ জন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকরা তাদের এক গবেষণায় দেখেছেন, সাম্প্রতিক মহামারীর জন্য দায়ী করোনাভাইরাস মানুষের মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা ৮.৫ শতাংশ ধ্বংস করে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। এ জীবাণু মানুষের মস্তিষ্কে সক্রিয় থাকতে পারে অন্তত ১০ বছর। এই গবেষকরা ৮৪ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত ও সুস্থ হওয়াদের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছেন। এতে দেখা গেছে, করোনা থেকে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর মুক্তি পেলেও এর প্রভাব রয়ে যাচ্ছে অধিকাংশের শরীরে। অনেকেই বলেছেন, তারা অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছেন। এছাড়া শরীর ব্যথা, ক্লান্তি, হৃদরোগসহ আরও উপসর্গ থাকছে। মস্তিষ্কের এ পরিস্থিতির তারা নামকরণ করেছেন ‘ব্রেন ফগ’ হিসেবে। গবেষকরা আরও জানান, কোভিড-১৯ রোগ থেকে যারা সেরে উঠছেন তাদের ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ) নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ শরীরের মধ্যে এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা টেকে মাত্র কয়েক মাস। এর পরই ওই ব্যক্তি আবার কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

সর্বশেষ ভ্যাকসিন পরিস্থিতি

হতাশ, উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী করোনা থেকে শেষ রক্ষা হিসেবে নিরাপদ, কার্যকর ভ্যাকসিনের অপেক্ষায়। করোনা ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু ভ্যাকসিন উদ্ভাবন নিয়ে তোড়জোর কাজ চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হালনাগাদ খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৯৮টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে মানবদেহে পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে ৪৪টি ভ্যাকসিন। এর মধ্যে ১১টি শেষ পর্যায় রয়েছে। আলোচনার শীর্ষে রয়েছে অক্সফোর্ড, চীনের সিনোভ্যাক, সিনোফার্ম ও ক্যানসিনো, যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না, ফাইজার, নোভাভ্যাক্স ও জনসন এ্যান্ড জনসন এবং জার্মানির কিওরভ্যাক। বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের তিনটি টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত সোমবার এ্যাস্ট্রাজেনেকা বলেছে, তাদের টিকাটির কার্যকারিতা প্রমাণই শুধু পাওয়া যাচ্ছে না, প্রবীণদের মধ্যে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক কম দেখা যাচ্ছে। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক যে, প্রবীণ ও তরুণদের মধ্যে টিকাটি একই রকম রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছে। আগামী নবেম্বরেই অক্সফোর্ডের টিকাটি লন্ডনের একটি হাসপাতালে প্রথম সরবরাহটি পৌঁছবে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এ্যান্টনি ফাউসি গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বলেছেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে করোনাভাইরাসের নিরাপদ ও কার্যকর টিকার প্রথম ডোজ ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরু থেকে পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন টাস্কফোর্সের সভাপতি কেট বিংহাম বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রথম প্রজন্মের টিকা সঠিকভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। সবার জন্য এই টিকা কার্যকর নাও হতে পারে। গত মঙ্গলবার দ্য ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিংহাম বলেন, ‘জানি না, আমরা আদৌ কোন টিকা পাব কিনা। খুব বেশি আত্মতুষ্টি ও অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম প্রজন্মের টিকা সংক্রমণ প্রতিরোধ নাও করতে পারে। তবে উপসর্গ কমাতে পারে। আবার সবার জন্য দীর্ঘ মেয়াদে টিকা কার্যকর নাও হতে পারে। এসব বিষয়ের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ টিকার বৈশ্বিক উৎপাদন ক্ষমতা অপর্যাপ্ত। ভ্যাকসিন নিয়ে আশাবাদী হওয়ার পাশাপাশি কেট বিংহামের বাস্তব কথাগুলো আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। কবে আসবে করোনা ভ্যাকসিন? এটি একটি বড় প্রশ্ন। সব তথ্য-উপাত্ত থেকে বলা যায়, এ বছরের শেষ নাগাদ সীমিত আকারে ব্যবহার শুরু হলেও সাধারণদের জন্য আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্বের বর্তমান ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা হিসেবে বলা যায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে বিশ্বের পুরো চাহিদা মেটাতে ২০২৪ পর্যন্ত লেগে যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য একটি গাইডলাইন প্রস্তুত রেখেছে যেটি অনুসরণ করলে বড় ধরনের কোন সমস্যা হবে না, যেখানে প্রথম ডোজের টিকাগুলো উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

করণীয়

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সামনে তিনটি পথ রয়েছে- ১) স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ২) চিকিৎসা ব্যবস্থা ৩) কার্যকর ভ্যাকসিন প্রয়োগ।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় সব দেশই সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা এখন আর দুর্বল নয়। ভ্যাকসিন যখন আসবে তখন বাংলাদেশ নিশ্চয়ই পাবে। আমাদের ভরসার জায়গা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় মতো ভ্যাকসিন সংগ্রহে যথেষ্ট তৎপর রয়েছেন।

বিগত ১০ মাসে বিশ্ববাসী একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছে। তা হলো করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। যে সমস্ত দেশ করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছে তারা ভাল ছিল এবং ভাল আছে। তাই আমাদের সবাইকে নিজের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা এবং রোগ পরবর্তী ক্ষতিকর দিকগুলো মাথায় রেখে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

১) মাস্ক, মাস্ক, মাস্ক : সবাইকে পরিষ্কার, নিয়মমাফিক মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়িক সংগঠনের বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি নজরদারীর মাধ্যমে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে- মাস্কই এখন সামাজিক ভ্যাকসিন। ২) শারীরিক দূরত্ব ৩ ফুট বজায় রাখতে হবে। ৩) হাত ভাল করে সাবান পানি দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ধুতে হবে। ৪) ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। ৫) শীতের সময় – ক) ঘন ঘন চা-পানি খেয়ে বা গড়গড়া করে নাক-মুখ ও নালিসমূহ ভেজা রাখতে হবে। খ) ঘর-বাড়ির বায়ু চলাচল পর্যাপ্ত রাখতে হবে। ৬) করোনা পরীক্ষা পর্যাপ্ত রাখতে হবে । পজিটিভ রোগীগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। ৭) শিশু ও বয়স্কদের ওপর বিশেষ নজর রাখতে হবে। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৮) পাশাপাশি অন্যান্য শীতকালীন রোগ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্য রোগ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় তখন করোনাভাইরাস প্রাণঘাতী হয়ে উঠে।

৯) করোনাভাইরাস বিষয়ে অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। করোনা কিছু না, এমনি এমনি চলে যাবে- এ ধরনের ভুল অপপ্রচারে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে অসতর্ক পথে পা বাড়ায়। ১০) গণমাধ্যমের গণসচেতনামূলক অনুষ্ঠান ও প্রচার বৃদ্ধি করতে হবে। ১১) সমন্বয় – করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় এবং বোঝাপড়া থাকতেই হবে।

তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ভাল আছে। এই শীতে করোনা সংক্রমণের সতর্কবার্তা দেশী-বিদেশী সকল স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে খুবই গুরুত্বসহকারে প্রতিনিয়ত প্রচার করা হচ্ছে। বলা হয়েছে দ্বিতীয় অভিঘাত আরও ভয়ঙ্কর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে সতর্ক করার পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সকল প্রস্ততি নিশ্চিত করেছেন। এখন প্রয়োজন আমাদের সকলের সমন্বিত সহযোগিতা। কে আক্রান্ত হচ্ছে, কে কখন মৃত্যুবরণ করবে বলা যাবে না। তাই সতর্ক হতে হবে সবাইকে, সকল বয়সের মানুষদের। স্বজন হারানোর বেদনায় আর কষ্ট পেতে চাই না। বিজয়ী জাতি হিসেবে সমন্বিত প্রয়াসে অবশ্যই আমরা করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারব।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়