শিরোনাম: ‘মাস্ক’ ব্যবহারে সচেতন হওয়া জরুরী: ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন

Social Share
শিরোনাম: ‘মাস্ক’ ব্যবহারে সচেতন হওয়া জরুরী।
-ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন
করোনা প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ঘোষনা অনুযায়ী প্রত্যেককেই ঘরের বাইরে ‘মাস্ক’ ব্যবহার করতে হবে। করোনা আক্রান্ত রোগীর হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাসমান করোনা ভাইরাস সম্বলিত ‘ড্রপলেট’ যেন আমাদের নাক-মুখে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্যই নাক-মুখ ঢেকে ‘মাস্ক’ ব্যবহার করা হয়।
নাকের প্রধান কাজ শ্বাস-প্রশ্বাস। মুখ দিয়েও এই কাজটি করা যায়। নাক ও মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের  মাধ্যমে প্রানীদেহে অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড আদান-প্রদান হয়। সেজন্য ‘মাস্ক’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অতীব জরুরী।
‘মাস্ক’এর গুনগত মান প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এমন মান’এর ‘মাস্ক’ ব্যবহার করতে হবে, যাহা বাতাসে  ছড়িয়ে পড়া ভাসমান করোনা ভাইরাস সম্বলিত ‘ড্রপলেট’ আমাদের নাক-মুখে প্রবেশে বাঁধা দেওয়ার পাশাপাশি, শ্বাস গ্রহনের সময় অক্সিজেন মিশ্রিত বিশুদ্ধ বাতাস যেন প্রবেশ করতে পারে এবং নিঃশ্বাস ত্যাগের সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিশ্রিত দূষিত বাতাস বাহির হইতে পারে।
কিন্তু ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই, অজ্ঞতাবশতঃ, একাধিক ‘মাস্ক’ ব্যবহার করে থাকি। অনেকে তিনটি ‘মাস্ক’ ব্যবহার করি। ফলে, অনেক সময়, ভেন্টিলেশন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ভিতরের দূষিত বাতাস বাহির হইতে পারে না। বাহিরের বিশুদ্ধ বাতাস ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। পুনরায় শ্বাস গ্রহন করার সময় ঐ দূষিত বাতাসই আবার ভিতরে চলে যায়। এইভাবে ক্রমাগত চলতে থাকলে অক্সিজেন-কার্বন ডাই অক্সাইড আদান- প্রদান বন্ধ হয়ে ভয়াবহ জটিল অবস্থার সৃষ্টি হবে।
মানুষসহ সমস্ত প্রাণীদেহের প্রতিটি কোষে বিপাকিয় বিক্রিয়ার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন, যা খাবারে গ্রহন করা পুষ্টি ভেঙে ফেলার জন্য ব্যবহার করে এবং বর্জ্য পণ্য হিসাবে কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি করে। ফলে কার্যকরভাবে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ এবং কোষ হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করার প্রযোজনীয়তা তৈরি হয়।
ফুসফুস, এই শ্বাসযন্ত্রটির প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে অক্সিজেন’কে রক্তপ্রবাহে নেওয়া এবং রক্তপ্রবাহ হতে দূষিত পন্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাতাসে নিষ্কাশন করা। এই গ্যাস আদান-প্রদান করা হয় ফুসফুসের বিশেষায়িত কোষ দ্বারা তৈরী, খুবই পাতলা দেয়াল বিশিষ্ট লক্ষাধিক বায়ু থলির দ্বারা, যাকে ‘অ্যালভীওলাই’ বলে, যা বায়ু বিনিময়ের জন্য বৃহৎ পৃষ্ঠতল সরবরাহ করে থাকে। অ্যালভিওলাইয়ের পৃষ্ঠদেশের উপরে সূক্ষ রক্তনালীর একটি জালিকার ভেতর দিয়ে রক্ত চলাচল করে। বায়ু হতে প্রাপ্ত অক্সিজেন অ্যালভিওলাইয়ের ভিতরে রক্তপ্রবাহে ব্যপিত হয়, এবং রক্ত বাহিত কার্বন ডাই-অক্সাইড অ্যালভিওলাইয়ে ব্যপিত হয়, উভয়ই পাতলা অ্যালভিওলিয় পর্দার (alveolar membrane) ভেতর দিয়ে আদান-প্রদান সম্পন্ন হয়।
সাধারনতঃ প্রানীদেহ কিডনী এবং ফুসফুসের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন বিক্রিয়ায় সৃষ্ট আয়ন (ion) সমূহ ব্যালেন্স করে রক্তের pH scale ও acidity নিয়ন্ত্রন করে। প্রানীদেহ কোষের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে  তৈরী বায়বীয় পণ্য, কার্বন-ডাই-অক্সাইড কোনও কারনে (Hypoventilation, etc.) শরীর থেকে নির্গমন হতে না পারে, ফুসফুস যদি কার্বন ডাই অক্সাইড পরিষ্কার করতে  অক্ষম হয়, তখন রক্তে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান বেড়ে যায়, ইহাকে Hypercapnia বলে। তীব্র Hypercapnia সাধারন শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া ব্যাহত করে।
রক্তে জমা অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্তের pH Level কমিয়ে দেয় (normal blood pH is between 7.35 and 7.45) এবং রক্তে acidity বৃদ্ধি হয়, যাহাকে Respiratory Acidosis বলে। অবশেষে শরীর বিশেষ বিক্রিয়ায় কিডনিতে ক্ষার (Base) ধরে রেখে উত্থিত অ্যাসিডিটির ক্ষতিপূরণ দেয়, এটি “বিপাক ক্ষতিপূরণ” নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়া।
হাইপোভেনটিলেশন এর কারনে যখন ফুসফুসে বায়ুচলাচল অপ্রতুল হয় (হাইপো যার অর্থ “নীচে”), তখন হাইপারক্যাপনিয়া সৃষ্টি হয় এবং  রেসপিরেটরী অ্যাসিডোসিসের ঘনত্বকে বাড়িয়ে তোলে। এটা হাইপোক্সিয়ার পূর্ববর্তী অবস্থা যাহা মানবদেহের জন্য ভয়াবহ জটিল অবস্থা।
অতএব এই ভয়াবহ জটিলতা এড়ানোর জন্য ‘মাস্ক’ ব্যবহারে অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত। যথাযথ ও মানসম্মত একটি ‘মাস্ক’ ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া এবিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকারীভাবে কর্মসুচী গ্রহন করা প্রয়োজন।