শিগগির পেঁয়াজের দাম কমবে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাজারে দেশীয় নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। তাই আশা করছি শিগগিরই পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

আজ রবিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘ফিনল্যান্ডের সাথে ব্যবসা’ বিষয়ক এক সেমিনারে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশীয় পরিচালক টিট্টয়া মাজা, এফবিসিসিআই সহসভাপতি রেজাউল করিম রেজনু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে ফিনল্যান্ডের ফিনপার্টনারশিপ সংস্থার প্রোগ্রাম পরিচালক বারগিট নেভালা ও প্রোগ্রাম অফিসার পেট্রিক ব্রেডবাকা দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর আলাদাভাবে দু’টি প্রবন্ধ উপস্থান করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গতবছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন ভালো ছিল। কিন্তু আগাম বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারেনি। পাশপাশি হঠাৎ করে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে দেশে পেঁয়াজের সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির দ্রুত উত্তরণ ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, কৃষি পণ্য প্রকৃতি নির্ভর, তাই বৃষ্টি-বণ্যা কৃষি উৎপাদনকে দারুণভাবে প্রভাব ফেলে। যেমন গতবছর বৃষ্টির কারণে কৃষকরা পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকার সবসময় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী জানান, দেশে পেঁয়াজের চাহিদার ৭০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদন থেকে মেটানো হয়। বাকী ৩০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। তবে এবার আমরা পেঁয়াজের মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পায়।

তিনি মনে করেন দেশে পেঁয়াজের যেসব নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে, তা যদি নিয়মিত চাষ করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ আমদানি করা লাগবে না।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ একসময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। কিন্তু আমরা এখন ধান, মাছসহ অধিকাংশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষি উৎপাদনে সরকারের গত দশ বছরে অসামান্য সাফল্য রয়েছে। তাই কেবলমাত্র পেঁয়াজের দাম দিয়ে সরকারের সাফল্যকে বিচার করা ঠিক হবে না।

সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে ভালো করছে। এখন আমাদের শিল্পায়ন দরকার। শিল্পায়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন টেকসই হবে না, পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কর্মসংস্থানও তৈরি হবে না। তিনি ফিনল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের ম্যানুফেকচারিং খাতে বিনিয়োগ করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবেলা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্চ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি উন্নত বিশ্বকে বাংলাদেশের পাশে থাকার অনুরোধ করেন।