শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, প্রতিবাদে উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

44
Social Share

মঙ্গলবার দুপুরে বাস শ্রমিক কর্তৃক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত এবং আরেক শিক্ষার্থীকে লাঞ্চিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর মধ্যরাতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের মেস ও বাসার গেটের সামনে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টায় বরিশাল বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিপনের নেতৃত্বে মানিক ও মামুন দলবল নিয়ে বরিশাল রুপাতলী হাউজিংয়ের আবাসিক এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেসে হামলা চালায়। এতে ২০জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শেখ সজিব, মিরাজ, ইমন, দোদল ফরাজী, মাহবুবুর রহমান গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম, ফজলুল হক রাজিব, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আলিম সালেহী, রসায়ন বিভাগের সোহানূর সোহান, তানিম, বাংলা বিভাগের রাজন, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের নূর উল্লাহ সিদ্দিকি, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের আলী হোসেন। আহতরা বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ বিল্লাহ বলেন, আমাদের বন্ধু সজিবকে ওরা যখন মারছিলো তখন পুলিশ সামনে ছিলো। তাদের কোনো ভূমিকা ছিলো না। পরে তারা এসে ছত্রভঙ্গ করে। একটু আগে সজিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, রাতে খবর পেয়েই তিনি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা ছুটে এসে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এদিকে পূর্বের ঘটনার জেরে মধ্যরাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেসে বাস শ্রমিকদের হামলার প্রতিবাদে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কর্ণকাঠী এলাকা উত্তাল রয়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রক্টরিয়াল বডির সমম্বয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসেছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বাস শ্রমিক রফিক কর্তৃক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও ঢাকা-পটুয়াখালী সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্ত রফিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।