শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শুরু ২৮ ডিসেম্বর

Social Share

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজ ২৮ ডিসেম্বর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান। তিনি বলেছেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বছরে এক কোটি ২০ লাখ যাত্রীর সেবা প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট জায়গায় তৃতীয় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বেবিচক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এ সময় বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) মো: হাফিজুর রহমান, সদস্য (অর্থ) মো: মিজানুর রহমান, সদস্য (নিরাপত্তা) মো. শহীদুজ্জামান ফারুকী, সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মো: খালিদ হোসেন, সদস্য (এটিএম) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সাঈদ মেহবুব খান, সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন) গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. জিয়াউল কবীর, প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসানসহ বেবিচকের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দূর্নীতি প্রশঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব কাজে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের প্রকল্প পরিচালককে বরখাস্ত করা হয়েছে। আরো যদি কেউ জড়িত থাকে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি ঠিকাদার কম্পানিকেও কালো তালিকাভূক্ত করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধি কার্যক্রমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেবিচকেও কোন দূর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমরা দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স মেনে চলছি।’

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনালে বোর্ডিং ব্রিজ থাকবে ১২টি। প্রতি ৪টি ব্রিজের জন্য একটি লিফট থাকবে। কনভয় বেল্ট থাকবে ১২টি। চেকইন কাউন্টার হবে ২০টি। প্রতিটি কাউন্টারে সিকিউরিটি স্ক্যানার থাকবে। প্রতিঘন্টায় দুই হাজার যাত্রীর লাগেজ স্ক্যান করার সক্ষমতা থাকবে প্রত্যেক কাউন্টারে। এ ছাড়া এক হাজার ২০০ গাড়ির পার্কিং সুবিধা থাকবে।

সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, থার্ড টার্মিনালে আমরা দুবাইসহ বিশ্বের উন্নত বিমানবন্দরে যে মানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে তা ব্যবহার করা হবে। বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের কর্মকর্তাদের কাছে পণ্য ক্রয়ের জন্য ধরনা দিয়েছেন, প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি নিজে এটি তদারকি করেছি। কিন্তু আমরা সেরাটাই দেবো।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে শীতে পাখির উপদ্রব কমাতে যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। এছাড়া বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বিশ্বমানের করতে এরইমধ্যে নতুন আরো কিছু যন্ত্রপাতি এসে গেছে। এগুলো শিগগিরই লাগানো হবে।