শাস্তি পেলেন সারওয়ার আলম

93
সারওয়ার আলম
Social Share

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে শাস্তি পেয়েছেন র‍্যাবের সেই ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। প্রশাসনের এই আলোচিত কর্মকর্তাকে (সিনিয়র সহকারী সচিব) তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

গত ২১ এপ্রিল তাকে এই লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। 

এর আগে গত বছরের ৭ মার্চ প্রশাসনের ৩৩৭ জন সিনিয়র সহকারী সচিবকে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার। কিন্তু পদোন্নতি বঞ্চিত হন ২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম। এরপর তিনি ওই বছরের ৮ মার্চ ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেন।  

তাতে তিনি লিখেন, ‘চাকরি জীবনে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়েছেন তাদের বেশিরভাগই চাকরি জীবনে পদে পদে বঞ্চিত ও নিগৃহীত হয়েছেন এবং এ দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটাই অন্যায়।’

স্ট্যাটাসটি তখন ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ারকে বিচারের আওতায় আনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত ৩০ জুন এ নিয়ে বিভাগীয় মামলা হয় এবং তার কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। সারওয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনো লিখিত বক্তব্য দেননি। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্তে এ স্ট্যাটাসকে সরকার ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ মন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে একে অকর্মকর্তাসুলভ আচরণ এবং জনপ্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গত ২১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করার পর তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন স্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঈদের ছুটির পর গতকাল বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ প্রজ্ঞাপন পাঠানোর পর তা জানাজানি হয়।

উল্লেখ্য, সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার সময় ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মানুষের প্রশংসা পান। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

সূত্র : দেশ রূপান্তর