শারীরিক উপস্থিতিতেই তিন বিশেষ আদালতে মামলা

37
Social Share

করোনাভাইরাসের সংক্রমনে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক বিচার কাজ বন্ধ থাকলেও শুধুমাত্র ভার্চুয়ালি নিম্ন আদালতে বিভিন্ন মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় শারীরিক উপস্থিতিতে তিনটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করার সুযোগ দিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি অধস্তন সকল দেওয়ানি আদালতেও শারীরিক উপস্থিতিতে সাকসেশন মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তি করা যাবে। এজন্য সাক্ষ্য গ্রহণ পূর্বক সাকসেশন মামলাসমূহ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের প্রতি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

যে তিনটি ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যাবে তা হলো- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের স্বাক্ষরে এ বিষয়ে সোমবার পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্য বিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতেই দেওয়ানি আদালত এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনস্থ আদালতসমূহেও মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়ে গত ২৮ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

তিনটি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়ে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপযুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জনিত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ম কঠোরভাবে অনুসরণ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা দায়ের করা যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারক শারীরিক উপস্থিতিতে অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ সামাজিক দূরত্ম বজায় নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।’

গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে নিম্ন আদালতে বিচার কাজ বন্ধ ছিল। তবে জরুরী বিষয় শুনানির জন্য এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট খোলা রাখা হয়েছিল। শুধুমাত্র প্রতিদিনকার গ্রেপ্তার করা আসামিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খোলা ছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ১২ এপ্রিল থেকেই জামিন আবেদন ও অতীব জরুরী ফৌজদারি বিষয় নিষ্পত্তি করতে ভার্চুয়ালি শুনানির জন্য সারা দেশে নিম্ন আদালত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শারীরিক উপস্থিতিতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত জানানো হলো।